ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহীতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে হেবা আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ


রাজশাহীতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে হেবা আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

রাজশাহীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া 'হেবা আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬' বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলের সূচনা হয়। মিছিলটি মনি চত্বর, রাজশাহী কলেজের সামনে দিয়ে কুমার পাড়া মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সদ্য পাস হওয়া হেবা আইনকে কোরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়াহবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা মন্তব্য করেন, "বর্তমানে বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর চক্রান্ত চলছে। বিগত স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশের মানুষের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছিল, যার ফলশ্রæতিতে ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। বিগত সরকার ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকেও দেশে ইসলামবিরোধী কোনো আইন পাসের সাহস পায়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মাথাতেই পবিত্র কোরআনের অবিসংবাদিত বিধানের পরিপন্থি এই আইন পাস করেছে, যা জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর স্পষ্ট আঘাত।"

আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

বক্তারা আরও বলেন, পবিত্র কোরআনে উত্তরাধিকার আইন সুবিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই শরীয়তের বাইরে নতুন কোনো পদ্ধতি বা আইন সংযোজনের প্রয়োজন নেই।

সমাবেশে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়। নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। মূল্যস্ফীতির কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সাথে হেবা আইন সংক্রান্ত জটিলতা জনগণের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনস্বার্থবিরোধী যে কোনো সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা সাধারণ জনগণ আর মেনে নেবে না। তারা অনতিবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং বিতর্কিত এই শরীয়াহ বিরোধী হেবা আইন বাতিল করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সমাবেশের শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদ, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ফয়সাল হোসেন মনি, রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকী, রাজশাহী জেলা শাখার সেক্রেটারি মোঃ ইসাহাক, ইসলামী যুব আন্দোলন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মোঃ হাসিবুর রহমান, রাজশাহী মহানগর প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুফতী ইমরান হোসাইন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ রাবি শাখার সভাপতি পারভেজ আকন্দ প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ দিন ধরে কিশোরীকে আটকে রাখার অভিযোগ, এসপির কাছে বাবার আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


২২ দিন ধরে কিশোরীকে আটকে রাখার অভিযোগ, এসপির কাছে বাবার আবেদন

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে প্রেমিকের বাড়িতে ২২ দিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ একবার কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার জিম্মায় দিলেও, বাড়ি ফেরার পথে তাকে আবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কিশোরীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তার বাবা।

কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট সকালে শ্যামনগর উপজেলার খোসালখালী গ্রামের ওই কিশোরী নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে, ওই রাতেই শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন তার বাবা।

জিডির সূত্র ধরে, ২২ আগস্ট রাতে আবু সাঈদের কাছ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আবু সাঈদ ও তার লোকজন তাদের পথরোধ করে এবং জোর করে কিশোরীকে আবার নিয়ে যায়। কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, তিনি যখন মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে আবু সাঈদের বাড়িতে যান, তখন পরিবারের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধরের চেষ্টা করে। পরে থানায় গেলে কিশোরীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি নিজেও হত্যার হুমকি পাওয়ার দাবি করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, আবু সাঈদের বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে। ফলে ভয়ে তারা সরাসরি সেখানে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে পারছেন না।

এ অবস্থায় কোনো উপায় না পেয়ে, কিশোরীকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন তার বাবা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ বলেন, "কিশোরীকে বিয়ে করে নিজ বাড়িতে সংসার করছি।" আবু সাঈদের বাবা নুর ইসলাম দাবি করেন, "আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে।" তবে কিশোরীর বয়স ১৬ বছর হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় কিভাবে বিয়ে দেওয়া হলো—এমন প্রশ্ন করা হলে মোবাইল ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক নারী ক্ষুব্ধ হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম বলেন, "প্রথমবার খবর পাওয়ার পর পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার হাতে তুলে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আবার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবার বা অন্য কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।" তবে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে পরিবারটি আতঙ্কে রয়েছে—এমন তথ্যের বিষয়ে ওসি বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবিপ্রবিতে এবার ১৮০ দিনের সাফল্য তুলে ধরে ব্যানার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩২ পি.এম


নোবিপ্রবিতে এবার ১৮০ দিনের সাফল্য তুলে ধরে ব্যানার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরার উদ্দেশ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির টাঙানো ব্যানারের বিরুদ্ধে পালটা ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের একটি অংশ, যেখানে সরকারের ‘সাফল্য’ তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে জাতীয় ছাত্রশক্তির টাঙানো ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানারের জবাবে এসব পালটা ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, গ্যারেজ, শান্তিনিকেতনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এগুলো টাঙানো হয়েছে।

‘সরকারের প্রথম ৬ মাসের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও উদ্যোগ’ শীর্ষক এসব ব্যানারে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

সরকারের প্রথম ছয় মাসের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে ঋণ পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, খাদ্য মজুত বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামোর উন্নয়ন, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও এসব ব্যানার ও ফেস্টুনে তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন মন্তব্য করেছেন, "গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার দেশের কল্যাণে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ও জনবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করেছে; কিন্তু একটি কুচক্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা এবং সরকারের জনবান্ধব কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগগুলো দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই আমরা নোবিপ্রবি ছাত্রদল, মনে করেছি সরকারের গত ছয় মাসের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো সবার সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। সেই উদ্দেশ্যেই সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে এসব ব্যানার টাঙানো হয়েছে।"

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, লোডশেডিং ও ব্যাংক খাতসহ নানা বিষয়ে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙায় ছাত্রশক্তি নোবিপ্রবি শাখা। মধ্যরাতে প্রক্টরিয়াল বডি সেসব ব্যানার অপসারণ করলেও পরে তা পুনরায় টাঙিয়ে দেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তবে সকাল হতেই সেসব ব্যানার আবার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃদ্ধ নানা-নানির মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে তরুণ আহাদের আকুতি: "একটি ভ্যান হলেই বদলে যাবে জীবন"

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


বৃদ্ধ নানা-নানির মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে তরুণ আহাদের আকুতি: "একটি ভ্যান হলেই বদলে যাবে জীবন"

 

মাত্র দুই বছর বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদের পর জীবনটা অন্যরকম হতে পারতো মোঃ আহাদের। মায়ের পুনর্বাসনের পর তার আশ্রয় হয় নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পুরোহিত গ্রামে, বৃদ্ধ নানা-নানির কোলে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ সেই আশ্রয়দাতাদের জীবনের একমাত্র অবলম্বন ১৮ বছরের তরুণ আহাদ।

প্রতিবন্ধী নানা ও মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করা নানির আদরে বড় হওয়া আহাদের কাঁধে এখন পুরো সংসারের ভার। বয়স এবং জটিল অসুস্থতার কারণে নানা-নানি এখন আর কোনো কাজ করতে পারেন না। বেঁচে থাকার তাগিদে এবং বৃদ্ধদের মুখে দুবেলা ভাত তুলে দিতে আহাদ এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে দিনমজুরি ও কায়িক পরিশ্রম করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাবাও কোনো যোগাযোগ রাখেননি বা খোঁজখবর নেননি।

দিনমজুরির অনিশ্চিত আয়ে অসুস্থ নানার ওষুধ আর তিনজনের খাবার জোগাড় করা প্রতিদিনের এক কঠোর সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। আহাদ জানান, তাকে যদি একটি ভ্যান গাড়ি কিনে দেওয়া হয় বা সাহায্য করা হয়, তবে তিনি ভ্যান চালিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং সুন্দরভাবে নানা-নানিকে নিয়ে সংসার চালাতে পারবেন।

আহাদ সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জেলা প্রশাসন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কাছে একটি ভ্যান গাড়ির সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

আপনার সামান্য সহায়তায় ঘুচে যেতে পারে একটি পরিবারের অনাহার ও অনিশ্চয়তা। অসহায় এই তরুণ ও তার বৃদ্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হৃদয়বান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ঠিকানা: গ্রাম: পুরোহিত, ইউনিয়ন: রসুলপুর, উপজেলা: নিয়ামতপুর, জেলা: নওগাঁ।
বিকাশ নাম্বার 01718-407954

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিলিপাইনে আ-গু-নের ৪০ ঘণ্টা পর ফেরিতে উদ্ধারকারীদের তল্লাশি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ পি.এম


ফিলিপাইনে আ-গু-নের ৪০ ঘণ্টা পর ফেরিতে উদ্ধারকারীদের তল্লাশি শুরু

এমভি জুন অ্যাস্টার নামের যাত্রীবাহী ফেরিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড অবশেষে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেছে। তীব্র তাপমাত্রা এবং বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকারীরা এর আগে জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।

শুক্রবার সকালে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রাজধানী ম্যানিলা থেকে করোন দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করা ফেরিটি থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছে। তবে শুক্রবার বিকেলে প্রকাশিত নতুন ছবিতে ধোঁয়ার পরিমাণ কিছুটা কমে আসতে দেখা গেছে। বুধবার উদ্ধার অভিযান শুরুর পর থেকেই বিষাক্ত ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে উদ্ধারকারীরা জাহাজটির ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালাতে সমস্যায় পড়ছিলেন।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারীরা জাহাজটির ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। এ সময় জিএমটি অনুযায়ী ভোর সাড়ে ৩টা বাজে। এর আগে কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র নোয়েমি কায়াবিয়াব বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করা। কারণ সেখানে এখনও ঘন ধোঁয়া রয়েছে।’

স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আমরা যতই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি না কেন, প্রচণ্ড তাপ ও বিষাক্ত ধোঁয়া আমাদের কর্মীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

অসম্পূর্ণ দহনের ফলে তৈরি ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকতে পারে, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী। এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ৮৬ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শুক্রবার সকালে নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৮৪ জনে দাঁড়ায়। যাত্রী তালিকায় নাম থাকলেও ওই দুজন শেষ পর্যন্ত জাহাজে ওঠেননি বলে জানা গেছে।

কায়াবিয়াব জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড তাদের অন্যতম বড় একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকার অন্যান্য জাহাজের কাছেও রেডিও বার্তার মাধ্যমে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তল্লাশি দলে ডুবুরি ও নার্সরাও রয়েছেন।

করনের স্থানীয় এক ডুবুরি শুক্রবার বিবিসিকে জানান, তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছেন। তারা কোস্ট গার্ডের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের জলসীমায় আকাশপথেও নজরদারি চালিয়েছে কোস্ট গার্ড।

কায়াবিয়াব জানান, ফেরিটির কার্গো হোল্ড থেকে আবারও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্গো হোল্ড হলো জাহাজের সেই অংশ, যেখানে বিভিন্ন পণ্য ও কনটেইনার রাখা হয়। এর আগে কোস্ট গার্ড জানিয়েছিল, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কার্গো হোল্ড থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছে, আগুন লাগার সময় কিছু যাত্রীর গায়ে লাইফ জ্যাকেট ছিল না।

বুধবার সন্ধ্যায় ফেরিতে আগুন লাগার পর সেখানে চিৎকার ও আতঙ্কের ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী। উদ্ধারকারী নৌযানে করে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। ৩০ বছর বয়সী রোল্যান্ড লেরমা বিবিসিকে জানান, আগুন থেকে বাঁচতে ফেরি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি যখন মেঝেতে পড়ে যাই, তখন লোকজন আমাকে পায়ের নিচে চাপা দিয়ে চলে যাচ্ছিল।’

পরে তিনি হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আবার দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফেরি থেকে সাগরে ঝাঁপ দেন। লেরমা জানান, আরও কয়েকজন শিশুকেও তিনি পানিতে ঝাঁপ দিতে দেখেছেন। তবে অন্ধকারের কারণে তাদের মুখ দেখতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘সাগরের পানি খুব ঠান্ডা ছিল। উদ্ধার করতে যদি আরও দেরি হতো, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই মারা যেতাম।’ ফেরিটি রাজধানী ম্যানিলা থেকে যাত্রা শুরু করে পর্যটন শহর করোনের দিকে যাচ্ছিল। পালাওয়ান প্রদেশের এই গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় ফেরিটিতে আগুন লাগে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ফিলিপাইনের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

‘পালাওয়ান ডেইলি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালে তৈরি ফেরিটির বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছিল এবং চলতি বছরের মার্চে এটি পরিদর্শনেও উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা যাত্রী ও পণ্যবাহী তালিকায় কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না, পণ্য ঠিকভাবে তোলা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রয়েছে। নিখোঁজ সবাইকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%