প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকের প্রভাব, নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ, জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ, আর্থিক লেনদেন, পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়ার মতো বিভিন্ন কারণে প্রতিহিংসা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
গত ছয় মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদের ফলে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বছরের ৩১ মার্চ রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত পূর্ববিবাদের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় কলেজছাত্র সাইদুল ইসলাম (সজীব) আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
১৫ মে গারুরিয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে হালিম হাওলাদার নামে একজনের মৃত্যু ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি, গত কয়েক মাসে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদের কারণে বড় ধরনের জখম ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে দুধল ইউনিয়নের মধ্য গোমা গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদে একই পরিবারের ৪ জন, যার মধ্যে নারীও রয়েছে, কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।
আগস্টের শেষের দিকে পাদ্রীশিবপুর গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত বিবাদে এক প্রবাসী পরিবারের বৃদ্ধা মহিলা ও তাঁর নাতির ওপর হামলা হয়।
এছাড়া, ২৩ জুন কবাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে দুই সন্তানের জননী রীমা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের সরসী গ্রামের এক মেয়ে, দুই সন্তানের জননী, ঢাকার খিলগাঁওয়ে পরকীয়ার অপবাদে স্বামীর নির্মম আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন।
সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কবাই ইউনিয়নের কালের কাঠি গ্রামের ফরাজি মার্কেট এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেল সিকদার নামে এক ভ্যানচালককে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখে।
এদিকে, আশঙ্কাজনক হারে মাদকের বিস্তার ঘটেছে উপজেলার সর্বত্র। হাত বাড়ালেই সহজলভ্য দ্রব্যের মতো মাদক পাওয়া যাচ্ছে, ফলে সামাজিকতার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।
প্রতিদিনের এই ঘটনাপ্রবাহে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
এহেন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অপরাধী শনাক্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে জেল ও জরিমানা করছে।
তবে, একশ্রেণির অপরাধচক্র অপরাধ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ নিরীহ মানুষের মনে ভীতিপ্রদ পরিবেশ তৈরি করছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, "যেকোনো ধরনের অপরাধ দমন ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে।" তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। অপরাধী যে হোক, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন