শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০২ পি.এম
প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত আয় এবং পণ্য রপ্তানির ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এই দুইটি সুসংবাদের ভিত্তিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে পুনরায় চাঙ্গা ভাব ফিরে এসেছে। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৮২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনশেষে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে, বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন (৩ হাজার ১৫০ কোটি ১৫ লাখ) ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবন্ধিত মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এই হালনাগাদ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ১১ অক্টোবর নিজস্ব হিসাবে ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার ছিল।
চলতি অক্টোবর মাসের শুরু থেকেই রিজার্ভে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৪ বিলিয়ন), ৭ অক্টোবর ছিল ৩৬ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩১ বিলিয়ন) এবং গত ২৯ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.২৯ বিলিয়ন)।
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ২০ সেপ্টেম্বর নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ১৬ সেপ্টেম্বর নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৪৬ বিলিয়ন), ১০ সেপ্টেম্বর ছিল ৩৬ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৩৬ বিলিয়ন) এবং ৮ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩১.৫২ বিলিয়ন)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় ১৫ বছর আগে শিরিনা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার। বিয়ের অন্তত ১২বছর পর দুটি মেয়ে সন্তান জন্ম হয় তাদের। সন্তান জন্মের কিছু দিন পর পরিবারের সুখের আশায় লিবিয়া হয়ে সাগড় পথে ইতালি যান রমজান মিয়া।
কিন্তু এই সুযোগে স্ত্রী শিরিনা আক্তার একাধিক যুবক ছেলেদের টার্গেট করে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ স্বামী রমজান মিয়ার।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শহরের আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়ার অভিযোগে শিরিনা আক্তারের নিজ বাসায় পরকীয়া প্রেমিক মাদকের ডিলারখ্যাত মোবারক হোসেন নয়নসহ তাদের দুজনকে আটক করে সাধারণ জনতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবারক হোসেন নয়ন কালিকাপ্রসাদ এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি। মাদক মামলায় গাজীপুরসহ সে একাধিকবার কিশোরগঞ্জ কারাগারে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
পরে ৯৯৯-এ কল করলে ভৈরব থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন ও এসআই শক্তি পদ মৃধা পুলিশ ফোর্স নিয়ে এসে নয়ন ও শিরিনাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত পাঁচশতাধিক স্থানীয় নারী পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। নয়ন ও শিরিনাকে পুলিশ হেফাজতে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হলে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হন বলে স্থানীয়রা জানান।
পরকীয়ায় অভিযুক্তরা হলেন, ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ গ্রামের তাফালী বাড়ির সাত্তার মিয়ার ছেলে মাদকের ডিলারখ্যাত মোবারক হোসেন নয়ন এবং কালিকাপ্রসাদের এমাদ মিয়ার কন্যা ও আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকার ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার স্ত্রী শিরিনা আক্তার।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়ার পিতা ওয়াজ মিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় সময়ই বাড়ির ভেতর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যুবকদের নিয়ে আসে শিরিনা আক্তার। তাকে জিজ্ঞেস করলে আত্মীয় পরিচয় দেয়। কিন্তু আমাদের সন্দেহ ছিলো দীর্ঘদিন ধরে সে পরকীয়ায় লিপ্ত। আরও কয়েকটি পরকীয়ার ঘটনাও সে ঘটিয়েছে, দরবারও হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে কালিকাপ্রসাদের মাদক ব্যবসায়ী নয়ন নামে একজনকে তাঁর মামাতো ভাই পরিচয়ে (আত্নীয় সাজিয়ে) বাসায় নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজন এসে তাদেরকে হাতেনাতে আটক করার পর তারা ফোন করে পুলিশ নিয়ে আসে। পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়। এঘটনা তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত শিরিনা আক্তারের দাবি, আমরা সবাই একসঙ্গে বিয়ে খেতে যায়। রাতে আমার ভাই নয়ন কালিকাপ্রসাদ থেকে মোটরসাইকেলে করে আমাকে বাসায় নামিয়ে দেয়। পরে আমি তাকে বলি ভেতর এসে অন্তত পানিটা খেয়ে যেতে। কিন্তু আমার ভাই ঘরে আসতে চাইনি। তখন একজন যুবক এসে আমার ভাইকে মাথায় থাপ্পড় মারে। আমার উকিল শ্বশুর দ্বীন ইসলাম সহ ভেতরে রেখে বাহিরে তালা মারে। আমরা তখন রুমের ভেতরে চলে আসি। শিরিনা আরও বলেন, ১০ লাখ টাকা এনে আমি আমার স্বামীকে ইতালি পাঠাইছি। কিন্তু সে আমার সঙ্গে পলটি নিয়ে কোন টাকা পয়সা দেয়না আমাকে। নাদিম নামে এলাকার এক ছেলেকে নিয়ে আমাকে আকথা কুকথা বলে। নয়নের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি তাঁর।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন নয়নের দাবি, সকালে উঠে আমরা কটিয়াদিতে যায় বিয়ে খেতে। সঙ্গে আমার স্ত্রী, শ্বশুর শ্বাশুড়ি সবাই ছিলো। সেখানে আপাকে নিয়ে আমরা স্পীড খাই, সেলফি তুলি। রাতে শিরিন আপাকে নিয়ে তার বাসা আমলাপাড়ায় মোটরসাইকেলে নামিয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে আটক করে। আপা আমার আপন চাচাতো বোন হয়। আপার সঙ্গে পরকীয়া হলে আল্লাহর গজব পড়বো। বাসার বাহির থেকে আমাদেরকে ভেতরে আটকে রেখে মারধর ও গালিগালাজ করে।
মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি ইন্টারনেট ব্যবসা করি কালিকাপ্রসাদ চকবাজারে। আমি মাদকের সঙ্গে জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।
ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী রমজান মিয়া ম্যাসেঞ্জারে জানান, তাঁর স্ত্রী একাধিক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে। ভিডিও করেও বলেছে আমাকে তালাক দিয়ে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করবে। এর আগেও এক ছেলেকে নিয়ে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে ঘুরতে গিয়ে সেলফি তুলেছে। তিনি প্রশাসনের নিকট এসব অনৈতিক ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ৯৯৯-এ সংবাদ পাই আমলাপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় পরকীয়া সংক্রান্ত ঘটনায় আটক করা হয়েছে। মব সৃষ্টি করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে আমি পুলিশ পাঠায় ঘটনাস্থলে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সিএনজি অটোরিকশায় করে বিদেশি মদ বহনের অভিযোগে মোঃ রাশেদ ভূইয়া (নাম অনুযায়ী) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অটোরিকশাটি তল্লাশি করে ১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কসবা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিশাড়াবাড়ী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কসবা থানা পুলিশের একটি দল। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ১৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাশেদ ভূইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাশেদ ভূইয়া কসবা উপজেলার আকছিনা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মোঃ সুধন ভূইয়া।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মদ ও সিএনজি অটোরিকশাটি বিধি অনুযায়ী জব্দতালিকামূলে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কসবা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদোৎসবের সময় দুর্গার প্রতিমার সামনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন ভারতীয় অভিনেত্রী সোহিনী গুহ রায়। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ‘মা এসে গেছে’। কিন্তু এই পোস্টটি নিয়ে অভিনেত্রী আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। শুধু সোহিনীকে নিয়ে নয়, মা দুর্গাকেও লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে। এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সোহিনী।
দুর্গাপূজার আগে প্রতিমা তৈরির ছবি তুলতে কুমোরটুলিতে সাধারণ মানুষ ও তারকারা ভিড় করেন। সেই পরিবেশে উজ্জ্বল হলুদ কুর্তি, লম্বা দুল ও হালকা সাজে মাটির প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি পোস্ট করেন সোহিনী। কিন্তু তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করে। অভিনেত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহারের পাশাপাশি আরাধ্য দেবী মা দুর্গাকে নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সোহিনী। তিনি কলকাতার লালবাজার সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আপত্তিকর মন্তব্যের স্ক্রিনশট ও অভিযোগের প্রমাণও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।
নিজের পোস্টে সোহিনী লিখেছেন, ‘সম্প্রতি ফেসবুকে আমার ‘মা এসে গেছে’ পোস্টকে কেন্দ্র করে আমি যে ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছি তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শুধু আমাকেই নয়, আমাদের আরাধ্যা দেবী মা দুর্গাকেও অসম্মানজনক মন্তব্যের করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সবকিছুরই একটা সীমা আছে। আর এধরনের হয়রানিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। আপনাদের অনেকেই আমাকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের জানাতে চাই, আমি ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এফআইআর দায়ের করেছি। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি এবং কলকাতা পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সোহিনী আরো বলেন, ঘটনার বিষয়ে সবাইকে অবগত করতেই তিনি স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করেছেন। আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
এ প্রসঙ্গে তার সংযোজন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আপনাদের অবগত করার জন্যই আমি এই স্ক্রিনশটগুলি শেয়ার করছি। এখন আমি আইনের উপর আস্থা রেখে অপেক্ষা করছি। আইন নিশ্চয়ই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমি বিশ্বাস করি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জরুরি। আইনসম্মতভাবেই সঠিক প্রক্রিয়া মেনে সেই লড়াই হওয়া উচিত। কঠিন সময়ে যাঁরা আমার পাশে থেকেছেন, আমাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেছেন, তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন ও ভালোবাসা আমার কাছে অনেক মূল্যবান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত একটি চত্বরের নাম গত কয়েক বছরে তিনবার পরিবর্তন করা হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে স্থানটির নাম ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ রাখা হয়েছে। একই স্থানে বারবার নাম পরিবর্তনের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, যখন যে দল বা সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের পছন্দের নামে চত্বরটির নামকরণ করা হয়ে থাকে। ২০২০ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর’ স্থাপন করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এটি উদ্বোধন করেন নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী।
পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ওই চত্বরের নাম ‘ওসমান হাদি চত্বর’ ঘোষণা করেন জুলাই সর্বদলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হারুনুর রশীদ আজাদসহ জামায়াত, শিবির ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে স্থানটির নাম ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চত্বর’ ঘোষণা করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই নামকরণের ঘোষণা দেন।
একই স্থানে বারবার নাম পরিবর্তনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, নতুন কোনো স্থাপনা বা চত্বর নির্মাণ না করে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোর নাম বারবার পরিবর্তন করা সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থী।
এদিকে নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কোনো স্থাপনার নামফলক মুছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে চত্বর করার ইচ্ছা দলটির নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি সস্তা রাজনীতি করে না। নোয়াখালীতে কেউ নিজ উদ্যোগে এমন কিছু করলে তার দায় বিএনপি নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নুরুল আমিন খান আরও লেখেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে এক নামে আর ক্ষমতায় না থাকলে অন্য নামে চত্বর করার সংস্কৃতির অবসান হওয়া উচিত।’
নোয়াখালী জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রবিউল হাসান পলাশ বলেন, ‘কোনো চত্বরের নামকরণ করতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হয়। মুজিব চত্বর করার সময় তা মানা হয়েছিল কি না জানি না। ঠিক একইভাবে হাদি চত্বর করার সময় সরকারি অনুমতি নেয়া হয়েছিল কি না তা-ও জানা নেই। এখন শহীদ জিয়া চত্বর করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেয়া হয়েছে কি না, তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদই ভালো বলতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ