ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জার্মানিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করপোরেট দেউলিয়াত্ব


জার্মানিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করপোরেট দেউলিয়াত্ব

জার্মানিতে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে করপোরেট দেউলিয়াত্বের হার। অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডব্লিউএইচ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসে, এই তিন মাসে প্রায় ৫ হাজার কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে।

বাণিজ্য ডেস্কের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, গত ২১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এটিই সর্বোচ্চ দেউলিয়াত্বের ঘটনা। নির্মাণ, আবাসন, বাণিজ্য, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সেবাখাতসহ প্রায় সব বড় খাতেই সংকট ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ কর্মসংস্থান।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা জার্মান অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: বেরোবিতে ৩য় বার্ষিক তাঁবু বাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান-২০২৬ শুরু

 

টানা দুই বছর অর্থনৈতিক সংকোচনের পর চলতি বছরও দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস খুবই সীমিত। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ও অটোমোবাইল শিল্পে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা নেই : বাঘের গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা নেই : বাঘের গালিবাফ

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা চুক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্র ভঙ্গ করে, তাহলে তেহরান নিজেদের রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে জবাব দেবে।

শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার গণপরামর্শক পরিষদের স্পিকার আহমদ মুজানির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের কোনো আস্থা নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা চলাকালে, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকেও এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

গালিবাফ বলেন, ‘আলোচনার সময় আমি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে বলেছি, আমরা আপনাদের ওপর কোনো আস্থা রাখি না। আমার মতে, শুধু সেই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে, যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা কখনোই আমাদের দেশের প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি বন্ধ করিনি।

যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা পূর্ণমাত্রার প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত। আমরা দৃঢ়ভাবে তাদের মোকাবেলা করব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নেব।’

এই বক্তব্যটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের মতে, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখন শেষ হয়ে গেছে।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা এতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানে পৌঁছেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো, সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আবার শুরু করার পথ তৈরি করা।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের বৈঠকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং দুই দেশের সম্ভাব্য নতুন আলোচনা শুরুর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে বসবাসে বাধ্য হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে বসবাসে বাধ্য হাজারো মানুষ

প্রবল বর্ষণের ফলে কক্সবাজারে গত ছয় দিনে পাহাড়ধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। তার মধ্যেও হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।

 

পাহাড়ধসের এই ঝুঁকি শুধুই প্রাকৃতিক নয়; মানুষের আচরণ এবং আস্থার সংকটের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রের বাস্তব সীমাবদ্ধতাও এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস নিরুৎসাহিত করা এবং সংস্কৃতির সংবেদনশীল মানুষবান্ধব আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলেই প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ে বাস

ছৈয়দা খাতুন, ৫০ বছর বয়সী, অসুস্থ স্বামী এবং পরিবারের ১৬ সদস্যকে নিয়ে কক্সবাজার শহরের বাঘঘোনা এলাকার একটি পাহাড়চূড়ার বসতি তার শেষ আশ্রয়। প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড় ধসে ঘর ভাঙে, কিন্তু তাদের যাওয়ার আর নিরাপদ কোনো জায়গা নেই। এবারও বাসস্থানের পাশের পাহাড়ে দেখা দিয়েছে বড় ফাটল; যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে সেখানকার সবকিছু। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও তাই পাহাড় ছেড়ে যেতে পারছেন না তিনি।

ছৈয়দা খাতুন বলেন, ‘পাহাড়ের ওপর বসতি করে প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাঁচ-ছয়বার ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়। একবার পাহাড়ধসে আমাদের পুরো বসতি তছনছ হয়ে গিয়েছিল। পরে ফিরে এসে দেখি ঘরের সবকিছু চুরি হয়ে গেছে। আরেক বছর প্রবল বর্ষণের সময় ছেলেমেয়ে আর নাতি-নাতনিদের নিরাপদে স্বজনদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আমি একা ঘরে ছিলাম। হঠাৎ পাহাড়ধসে একটি বাঁশ এসে আমার শরীরে আঘাত করে। গুরুতর আহত হয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতবার জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও আমরা কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। দিনমজুরির আয়েই কোনোরকমে সংসার চলে। আমার স্বামী বয়স্ক ও অসুস্থ। তিনি আর কাজ করতে পারেন না। কয়েক দিন আগে ভারী বৃষ্টির সময় পাহাড়ের মাটি পরিষ্কার করতে গিয়ে আঘাত পান। গত সাত-আট দিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী।’

অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছি। কারণ যাওয়ার মতো আমাদের আর কোথাও কোনো জায়গা নেই।’

বিকল্প আশ্রয়ের অভাব

শুধু ছৈয়দা খাতুন নন; কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ, পূর্ব ও পশ্চিম লারপাড়া, ডিককুল, গুচ্ছগ্রাম, শুকনো ছড়ি, দরিয়ানগরসহ ২০টিরও বেশি পাহাড়ে হাজারো মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। অনেক এলাকায় এখনও চলছে পাহাড় কেটে নতুন বসতি নির্মাণ। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের ভাষ্য, দারিদ্র্য, ভূমিহীনতা ও মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকার অসহায়ত্বই তাদের পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে জীবন বাজি রেখে বসবাসে বাধ্য করেছে।

কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘঘোনা এলাকার মাহিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা খুবই অসহায় অবস্থায় আছি। আয়-রোজগার কম, নিজের জমি বা নিরাপদ জায়গা নেই। অনেক কষ্ট করে পাহাড় কিনে সেখানে ঘর করে বসবাস করছি। এখন পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে থাকা যাচ্ছে না, আবার ছেড়ে যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গাও নেই। আমাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।’

ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম লারপাড়া এলাকার সাবেকুন্নাহার বলেন, ‘প্রশাসন যখন পাহাড় ছেড়ে যেতে বলে, তখন আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। কারণ পাহাড় ছেড়ে গেলে পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে জীবন চালাব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমরা ঝুঁকিমুক্তভাবে বাঁচতে চাই; কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার পথও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আশ্রয়কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা

পাহাড়ধসে প্রাণহানির অন্যতম কারণ শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ঝুঁকি নয়, বরং মানুষের অনীহা, সামাজিক বাস্তবতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা। ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নিগার সুলতানা সময় সংবাদকে বলেন, ‘পাহাড়ধস শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে সামাজিক ও আচরণগত সমস্যার। ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী হন; কারণ এসব কেন্দ্রে তাদের বাস্তব চাহিদা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো অনেক সময় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়া হয় না।’

তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রের অস্বস্তিকর পরিবেশ, নারী-পুরুষের একসঙ্গে অবস্থান, খাদ্য ও শিশুদের বিশেষ প্রয়োজন এবং পরিবারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার উদ্বেগ মানুষকে সেখানে যেতে নিরুৎসাহিত করে। তাই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে আরও মানবিক, কমিউনিটি-ভিত্তিক ও সংস্কৃতিসংবেদনশীল করতে হবে।’

ড. নিগার সুলতানা আরও বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুর্যোগ-পূর্ব ও দুর্যোগ-পরবর্তী প্রস্তুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষকে আগে থেকেই সচেতন করতে হবে যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস ও পাহাড় কাটা কতটা বিপজ্জনক। মানুষের আস্থা ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

প্রশাসনের উদ্যোগ

ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচারণা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন সময় সংবাদকে বলেন, ‘পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। খুব শিগগিরই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যানার টাঙানো, হ্যান্ডবিল বিতরণ এবং ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেভাগেই সচেতন করা, যাতে তারা সতর্ক থাকে এবং প্রয়োজনের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ হয়।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, ঘটনায় এলো নতুন মোড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, ঘটনায় এলো নতুন মোড়

আরফান হোসেন নির্জনা নামক দশম শ্রেণির ছাত্রী খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। সম্প্রতি তার হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন তার মা সীমা আকতার।

শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার জবানবন্দিটি রেকর্ড করেন। এরপরেই তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) রাতে খুলনার শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনা নামের কিশোরীটির বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কিশোরীর মা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং দাবি করেন তার স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মোড় সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন হয়ে যায়।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনা ঘটনার পর সকালে পুলিশ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা পেশ করে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সীমা আকতার জানান, ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে তার মেয়ের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তিনি তার মেয়েকে কয়েকটি চড় মারেন। এই শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে তাদের চুপ থাকতে বলেন।

সীমা আকতারের ভাষ্য থেকে জানা যায়, মেয়ে চুপ না থাকায় তিনি একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যান।

সীমা আকতার জানান, ২১ এপ্রিল পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া এলাকার এক ছেলের সঙ্গে নির্জনার বিয়ে হয়েছিল। এই বিয়ের ১৭ দিন পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বুধবার সকালে নির্জনা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য বের হন, কিন্তু তাকে জানিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।

থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাটির পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন এবং তার অবস্থান জানতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত মেয়েটির মা সকালে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে, তাকে দুপুরের পর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারকালে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিভাগীয় কমিশনারের নাম ভাঙিয়ে কমলনগর ঘাটে মোক্তারের রাজত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শোরাফ উদ্দিন রামগতি- কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


বিভাগীয় কমিশনারের নাম ভাঙিয়ে কমলনগর ঘাটে মোক্তারের রাজত্ব

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মাতাব্বরহাট ও মতিরহাট খেয়াঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও ইজারা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে এবং তাঁদের নাম ভাঙিয়ে ইজারাদার মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন ঘাটটিতে একচ্ছত্র অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও মাঝিমাল্লাদের চরম ক্ষুব্ধ অবস্থার কারণে ইজারাদারের নানাবিধ অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং ইজারা শর্ত ভঙ্গের কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন একটি দোকান পরিচালনা করার সুবাদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এই কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে তিনি ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ১০% মূল্য বৃদ্ধি হারে এই আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটের ইজারা নেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও জেলা পরিষদের চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ঘাটটি কোনোভাবেই তৃতীয় পক্ষের কাছে ভাড়া বা হস্তান্তর করা যাবে না। কিন্তু সরকারি এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইজারাদার মুক্তার হোসেন ঘাটটি অন্য একজনের কাছে ২২ লক্ষ টাকায় বিক্রি বা উপ-ইজারা দিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এই বিষয়ে ইজারাদার মোহাম্মদ মুক্তার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অকপটে নিয়ম লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করে বলেন, "বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আমাকে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য এই ঘাট ভাড়া দিয়েছেন।" তিনি আরও বলেন, "যার কাছে ঘাট হস্তান্তর করেছি, তিনি আমাকে ১২ লক্ষ টাকা দিলেও এখনো বাকি টাকা পরিশোধ করেননি।" সরকারী নিয়ম-নীতির প্রসঙ্গে তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, "এগুলো কেবল কাগজেই হয়। আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই এভাবে চলে আসছে।" চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঘাটে বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত ও ফিটনেস সার্টিফিকেটধারী ৪টি করে মোট ৮টি যাত্রীবাহী নৌযান থাকার কথা। প্রতিটি নৌযানের গায়ে নাম লেখা এবং কমপক্ষে ২ জন করে দক্ষ মাঝিমাল্লা বা সারেং থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মাতাব্বরহাট খেয়াঘাটে কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। বর্তমানে মোট তিনটি ছোট এবং ঝুঁকিপূর্ণ নৌকাই আন্তঃবিভাগ পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

যাত্রী উঠানামার জন্য ঘাটে নেই কোনো সিঁড়ি কিংবা জেটি। বর্ষার এই মৌসুমে নদী উত্তাল থাকার সময়েও বিআইডব্লিউটিএ-এর সংকেত অমান্য করে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকাগুলো চলছে। একেকটি ছোট নৌকায় বর্তমানে ২০-৩০ জন যাত্রী, ৫০টিরও বেশি দুধের ক্যান (প্রতি ক্যান ৫০ লিটার) এবং প্রচুর মালামাল বোঝাই করে মাঝেরচর, ভোলা, মদনপুর কিংবা বাঘারহাটের উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছেড়ে যাচ্ছে। নৌকায় যাওয়ার জন্য যাত্রী জামাল উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, "আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পার হই। নৌকায় ওঠার কোনো সিঁড়ি নেই, কাদা-পানি ভেঙে উঠতে হয়।" বাইরের অবস্থা খুবই খারাপ; ঘাটে কোনো গণশৌচাগার বা যাত্রী ছাউনি নেই এবং চারপাশ মল-মূত্র আর আবর্জনায় সয়লাব হয়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী ঘাটে কোনো নৌযান চলাচল করবে তার তালিকা জেলা পরিষদে জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও মুক্তার হোসেন তা করেননি। অভিযোগ রয়েছে যে, জেলা পরিষদের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে আসছে। অনুসন্ধানী দল জেলা পরিষদে এই আন্তঃবিভাগীয় খেয়াঘাটের নথি তলব করার সময় সেখানে কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখতে এক মাসের সময় চেয়েছে। অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিএ-এর পরিবহন পরিদর্শক আব্দুর রহমান জানান, "বর্ষার সংকেত চলাকালীন সময়েও এই ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানগুলো দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "আমরা বহুবার নিষেধ করা এবং সতর্ক করার পরেও ইজারাদার পক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।" দ্বৈত কর্তৃত্ব, ইজারাদারের খামখেয়ালিপনা এবং প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার নীরবতায় মাতাব্বরহাট খেয়াঘাটটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক 'মৃত্যুফাঁদে' পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই অবৈধ ঘাট বিক্রি বন্ধ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%