সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৬ পি.এম
খেলাফত মজলিস সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে বলে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে আইনি বা সাংবিধানিকভাবে ‘ক্রসফায়ার’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কোনো বৈধতা নেই। দেশের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী, যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে একজন নাগরিকের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের আশ্রয় লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্ত বা সরকারি অনুমতি এই সাংবিধানিক অধিকারকে বাতিল বা স্থগিত করতে পারে না। সরকারের কোনো প্রশাসনিক অনুমোদনই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে আইনি বৈধতা দিতে পারে না। খেলাফত মজলিস অবিলম্বে আইজিপির এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে এবং তার প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পেশাদার তদন্ত, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে বিচার নিশ্চিত করাই প্রচলিত আইনি পথ।
এ ক্ষেত্রে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতির মতো প্রতিবন্ধকতা অন্তরায় হতে পারে। তবে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা মব জাস্টিস উসকে দেওয়ার সংস্কৃতি সভ্য সমাজে কখনো চলতে পারে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলে বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) কালিহাতি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
জেলা প্রশাসক সাতুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও যত্নের সঙ্গে পাঠদানের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরামর্শ দেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর জেলা প্রশাসক আরএস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের বিস্তার রোধে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরও সক্রিয় ও জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের মাঠ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
উপজেলা সফরকালে তিনি বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম, ভূমিসেবার মান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সরকারি সেবা সহজ ও জনবান্ধব করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন ও সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মরহুমের দাফন অনুষ্ঠানটি সোমবার বেলা ২টায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রথমে মরহুমকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় 'গার্ড অব অনার' প্রদান করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান এবং থানা পুলিশের একটি দল রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করে। পরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
জানাজা ও দাফনের পূর্বে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন সাবু পাটওয়ারী।
এর আগে, গত শনিবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শফিকুর রহমান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত মৌলভী আব্দুল হামিদ ও আয়েশা খাতুন দম্পতির সন্তান ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের গাজীপুর জেলা পর্যায়ের নেতা রনি পাঠানকে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই সঙ্গে তার এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক হাসমত উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শ্রীপুর পৌরসভার ২নং সিএন্ডবি (চন্নাপাড়া) এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ছাতির বাজার গ্রামের রনি পাঠান (২৫) এবং তার সহযোগী শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া (নতুন বাজার) এলাকার নয়ন পাশা (২৫)। রনি পাঠান নিষিদ্ধ সংগঠন গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক হাসমত উল্লাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর পৌরসভার ২নং সিএন্ডবি (চন্নাপাড়া) এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরপর ওই এলাকা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের গাজীপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রনি পাঠান ও তার সহযোগী নয়ন পাশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান, কেসিসির সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু এবং তার স্বামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে।
এছাড়া, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার এবং তার স্ত্রী ডলি ভান্ডারের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনার সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল তিনটি মামলা এবং উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান দুটি মামলা দায়ের করেন।
প্রথম মামলায় সাবেক এমপি মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্য এক মামলায়, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মো. ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে দলীয় পদ ব্যবহার করে এক কোটি ১৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, স্বামীর সহায়তায় নিজ নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩৬ লাখ ৯১ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করে নিজ মালিকানায় রাখার কারণে সাবেক কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনুর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে দুদক।
এই মামলায় স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করায় তার স্বামী ফারুক আহমেদকেও আসামি করা হয়েছে।
অন্য দুটি মামলায়, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডারের বিরুদ্ধে ৭৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, স্বামীর অর্জিত এক কোটি ৮ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ নিজ মালিকানায় রেখে ভোগ দখল করার কারণে বিধান কুমারের স্ত্রী ডলি ভান্ডারের বিরুদ্ধেও পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় ডলি ভান্ডার এবং দুটি মামলায় বিধান কুমার ভান্ডারকে আসামি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ