বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৫০ পি.এম
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসের কর মেয়াদের জন্য অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। এখন থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই কর মেয়াদের রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখা থেকে বিষয়টি সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সংশোধিত বিধানে তিনটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্টের কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন ইভ্যাট (eVAT) ব্যবস্থায় জমা দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২-এর ৬৪ ধারার উপধারা (৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জুলাই ও আগস্টের কর মেয়াদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের কর মেয়াদের রিটার্ন ইভ্যাট ব্যবস্থায় অবশ্যই দাখিল করতে হবে। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে এখন আগের তুলনায় ২০ গুণ বেশি ফি প্রদান করতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ফি বৃদ্ধি করে ২ লাখ ইয়েন করা হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ২৭০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের আয়, পেনশন এবং জাপানি ভাষাজ্ঞান নিয়ে নতুন কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফি বাড়ানোর আগে আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা এই সপ্তাহের শুরুতে দেশটির বিভিন্ন অভিবাসন দপ্তরের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি করেছিলেন। টোকিওর প্রধান অভিবাসন দপ্তরে অপেক্ষার সময় সাত ঘণ্টারও বেশি ছিল। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকারের অভিবাসন নীতিতে আনা পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো জাপানে বিদেশি জনসংখ্যা আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
এর আগে জুলাই মাসে জাপান সব ধরনের ভিসার আবেদন ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছিল। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটি ছিল দেশটির প্রথম ভিসা ফি বৃদ্ধি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে এই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। জাপানে অভিবাসন ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কঠোর। তবে দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে এবং শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
২০২৫ সালের শেষে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক বছরে এই সংখ্যা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা একটি রেকর্ড বৃদ্ধি। বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে জাপানে উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
স্থায়ী বসবাসের ফি বাড়ানোর কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, দেশে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ায় কিছু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বা বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, বিষয়টি তার সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তাকাইচি বলেন, এসব উদ্বেগ কমাতে বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সরকারের নীতিগুলো সুশৃঙ্খল রাখা হবে। একই সঙ্গে জাপানি নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দা, দুই পক্ষই যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফি বাড়ানোর আগে জাপানে অস্থায়ী বাসিন্দাদের রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস পরিবর্তন বা থাকার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রতিবার ৬ হাজার ইয়েন দিতে হতো।
১ অক্টোবর থেকে এই ফি থাকার মেয়াদ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। তিন মাস বা তার কম সময়ের জন্য ফি হবে ১০ হাজার ইয়েন। আর পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জন্য ফি দিতে হবে ৭৫ হাজার ইয়েন। আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি এবং শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ফি কমানোর সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া, স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনকারীদের এখন জাপানের গড় পরিবারের আয়ের সমান বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাপানে গড় পারিবারিক আয় ছিল ৫ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ইয়েন। টোকিওতে ১০ বছর ধরে বসবাস ও কাজ করা মাইকায়া স্টিভেন্স ফি বাড়ানোর আগে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি।
৩৭ বছর বয়সী স্টিভেন্স এখনও স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপগুলো নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
মাইকায়া স্টিভেন্স বলেন, বিদেশিদের জন্য নতুন নিয়মগুলো কিছুটা অন্যায্য। তিনি বিবিসিকে বলেন, জাপানে কাজ ও কর দেওয়ার জন্য বিদেশিদের গড় জাপানিদের চেয়ে বেশি আয় করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বেশি ফিও দিতে হবে। তিনি বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের কারণে অনেক বিদেশি জাপানে আসতে সমস্যায় পড়েন। নতুন নিয়মের কারণে দক্ষ ও প্রতিভাবান মানুষও জাপানে আসতে আগ্রহ হারাতে পারেন।
তার মতে, এসব নিয়ম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে করা হয়নি। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য আরো কঠোর নিয়ম চালু হবে। এর মধ্যে জাপানি ভাষায় প্রাথমিক জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক হবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নতুন নিয়মের কারণে জাপানি ভাষার স্কুলে ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে জাপানি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধনও বেড়েছে।
এ ছাড়া, আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ পেনশনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তাদের সম্ভাব্য পেনশন এমন একজন ব্যক্তির পেনশনের সমান হতে হবে, যিনি ৩০ বছর ধরে কর্মচারী পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আছেন। তবে কারো সম্ভাব্য পেনশন কম হলে তার হাতে থাকা অর্থ-সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উজান থেকে নেমে আসা পলিমাটির ফলে ভোলা গড়ে উঠেছে। জেলার মাটি উর্বর হয়ে রয়েছে এর চারপাশে মেঘনা, তেঁতুলিয়া এবং বঙ্গোপসাগরের উপস্থিতির কারণে।
এটি প্রাকৃতিক মাছের উৎস হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি উদ্বৃত্ত কৃষিপণ্যের জোগানও দেয়। এখানে জনবসতি হাজার বছরের পুরনো, যা ধান, সুপারি এবং ইলিশের জন্য পরিচিত। ভূখণ্ডের চারপাশের নদীতে জেগে ওঠা অসংখ্য চরের চারণভূমি মহিষ পালনের জন্য ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মহিষের দুধ এবং মাংস আমিষ ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ভোলার মহিষের দুধের ‘টক দই’ একটি জিআই (ভৌগলিক নির্দেশক) পণ্য, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। তবে মহিষ পালন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ বিভাগের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকে এর জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জেলার দুর্গম চরাঞ্চলে মহিষ পালনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তবুও ঝুঁকি নিয়ে শত শত বছর ধরে মহিষ উৎপাদনে ভূমিকা রাখছেন প্রান্তিক কৃষক। চরাঞ্চলে মহিষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে গত দুই বছরে চার শতাধিক মহিষ চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।
এছাড়া বিভিন্ন সময় ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে অসংখ্য মহিষ ভেসে গেছে। এসব সংকট দূর করতে সরকারি নজরদারি না থাকায় দিন দিন মহিষ পালনকারীর সংখ্যা কমছে। তাদের দাবি, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে এ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
সম্প্রতি ভোলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে গিয়ে স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক। তারা জানান, মহিষ এবং মহিষের দুধের কাঁচা দই জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ সরকারিভাবে মহিষের জন্য চরাঞ্চলে আজও নিরাপদ এবং টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।
ফলে প্রায়ই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারাচ্ছে মহিষ। এতে চাষি বা খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন না। বিভিন্ন সময় চর থেকে মহিষ চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা মিলছে না।
মহিষ পালনকারীদের অভিযোগ, সহযোগিতার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং প্রশাসন অনেকটা উদাসীন। প্রত্যেক উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তর থাকলেও চরাঞ্চলের মহিষের বাতানে কর্মকর্তাদের দেখা যায় না। খামারিরা নিজেদের উদ্যোগে যুগ যুগ ধরে মহিষ পালন করে আসছেন।
এদিকে, মহিষ চুরি রোধে পাঁচ দফা দাবিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোলা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ভোলা সদর উপজেলা মহিষ মালিক সমবায় সমিতি।
মানববন্ধনে মহিষ পালনকারীরা বলেন, মেঘনা এবং তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর মদনপুর, চর কালুপর, চর গাজীপুর, চর বৈরাগী, চরকালী, চর কাঁকড়া, চর নেয়ামতপুর, মধুপুর, চর কাচিয়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পূর্বপুরুষদের আমল থেকে তারা বংশানুক্রমে গরু-মহিষ পালন করে আসছেন। এটি তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন নয়, স্থানীয় অর্থনীতি এবং দেশের দুগ্ধ শিল্পেরও অন্যতম উৎস।
বক্তারা বলেন, চরম প্রতিকূল পরিবেশেও চরের মালিকদের কাছ থেকে চড়া দামে জমি লগ্নি নিয়ে তারা গরু এবং মহিষের খাবারের সংস্থান করেন। মেঘনার চরে আগে ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও এখনকার মতো এমন নাজুক পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাথান থেকে চার শতাধিক গরু-মহিষ চুরি হয়েছে। ফলে পুরো চরাঞ্চলে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, জেলার উপজেলায় বিচ্ছিন্ন ৮৫টি চরে ছোট-বড় ১৭৮টি বাথানে এক লাখ ২৪ হাজার মহিষ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে মহিষের দুধ উৎপাদন হয় আট থেকে ১০ মেট্রিক টন। এছাড়া প্রতিটি মহিষের গড় বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা।
চরাঞ্চলে মহিষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায় ২০২৪ সালে ঘুর্ণিঝড় ‘রেমালে’র প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে ভোলার চরাঞ্চল থেকে ৯ হাজার ৯৩১টি মহিষ ভেসে যায়। কিছুদিন পরে অধিকাংশ মহিষের খোঁজ মিললেও তার মধ্যে ২৬৯টি মারা যায়। ওই বছর মহিষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় চার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভোলার চরাঞ্চলে ২২টি কিল্লা থাকলেও নির্দিষ্টভাবে মহিষের জন্য আলাদা কোনো কিল্লা বা আশ্রয়কেন্দ্র নেই। তবে গবাদিপশুর জন্য বেসরকারি গ্রামীণ জন উন্নয়ন এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে চারটি কিল্লা নির্মিত হয়েছে।
মহিষের নিরাপত্তায় ৫০০ মহিষ ধারণক্ষমতার প্রায় ২৫০টি কিল্লার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
বংশ পরম্পরায় প্রায় ৫০ বছর ধরে ভোলা দৌলতখান উপজেলার মদনপুরে মহিষ পালন করছেন মো. আব্দুল হাই। তিনি জানান, তার বাবাও চরে মহিষ পালন করতেন। বর্তমানে তার ৫০টি মহিষ রয়েছে। তবে মহিষ পালনে তারা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি।
মহিষের পালনকারী জাকির হোসেন বাবুল জানান, দৌলতখানের নেয়ামতপুর চরে তার বাতানে শতাধিক মহিষ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জলোচ্ছ্বাসে মহিষ হারিয়ে যায়, আবার অনেক সময় চুরি হয়। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু নেয়ামতপুর চরেই বিভিন্ন বাথানে প্রায় তিন হাজার মহিষ রয়েছে।
জাকির হোসেন জানান, বাথানিরা নিজ উদ্যোগে মাটি দিয়ে উঁচু করে নামমাত্র কিল্লার ব্যবস্থা করলেও এসব কিল্লা নিরাপদ নয়। তাই বিভিন্ন সময় মহিষ মালিকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাথানিদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা তো দূরের কথা, ভোলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ তাদের খোঁজও নেয় না।
মহিষ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম বলেন, প্রায় তিন যুগ ধরে তিনি ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে মহিষ পালন করে আসছেন। কাচিয়া, মধুপুর এবং বৈরাগীর চরে তার ৩টি মহিষের বাথান রয়েছে। মহিষ পালন করতে গিয়ে বছরে তার প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়। মহিষের ঘাসের জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে চর লগ্নি রাখেন। গত দুই বছরে তার বাথান থেকে প্রায় ৫০টি মহিষ চুরি হয়েছে।
মহিষ পালনের এ খাত টিকিয়ে রাখতে সরকারের যথাযথ নজরদারির পাশাপাশি প্রশাসনের তৎপতরা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চুরি-ডাকাতির পাশাপাশি নানা কারণে মহিষ পালনকারীরা বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকার এ খাতটিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তাদের সমস্যা সমাধানে চরগুলোতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাথান মালিকদের সরকারিভাবে বিমার আওতায় আনতে হবে।
মহিষ পালনে নানা সংকটের কথা স্বীকার করে ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন কালের কণ্ঠকে বলেন, জনবল সংকটের কারণে বাথানিদের কাঙ্খিত সেবা দিতে না পারলেও তারা স্বল্প জনবল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, চুরি এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে মহিষের আধুনিক ডাটাবেজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি করতে পারলে মহিষের চলাচল শনাক্ত করা যাবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো বলেন, মহিষ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শীত মৌসুমে। এ সময় ভোলার চরাঞ্চলে ব্যাপক তরমুজের চাষ হওয়ায় মহিষের খাবার সংকট দেখা দেয়। নদীর পানিও থাকে নোনা। ফলে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে মহিষের দুধ উৎপাদনও কমে যায়। এ সংকট কাটাতে মহিষের জন্য স্থায়ী চারণভূমি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে খামারিদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে গত কয়েক দিনে ১০ হাজারেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী হামলা চালিয়েছে।
জেরুজালেম প্রশাসন বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে এ তথ্য প্রদান করেছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত শনিবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কোট শুরু হওয়ার পর থেকে এসব বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।
গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। বুধবারও ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতিতে মুসলমানদের এই পবিত্র স্থানে প্রবেশ করে বিপুলসংখ্যক বসতি স্থাপনকারী।
এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গত তিন মাসে স্থানীয় বাসিন্দাদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইসরায়েল ৮০টিরও বেশি আদেশ জারি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ ভয়াবহ হারে বরফ হারাচ্ছে, যা রেকর্ড তাপমাত্রা ও কম তুষারপাতের কারণে ঘটছে। ২০২৬ সালের মধ্যে, দেশটির হিমবাহগুলো মোট বরফের ৫ শতাংশেরও বেশি হারিয়েছে। গত পাঁচ বছরে, দেশটির হিমবাহগুলোর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বরফ গলে গেছে।
এই তথ্যটি রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের ক্রায়োস্ফিয়ার পর্যবেক্ষণ কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরে হিমবাহ গলার হার অত্যন্ত বেশি ছিল। শীতকালে পর্যাপ্ত তুষারপাতের অভাব এবং গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
গ্ল্যামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হুস মন্তব্য করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরফ গলার ঘটনা চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, "হিমবাহগুলো যেভাবে দ্রুত গলে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে ইউরোপের বরফাঞ্চলগুলোর টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।"
সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় হিমবাহ আলেচ হিমবাহ এ বছর তার ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বরফ হারিয়েছে। অন্যদিকে, গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরোঁর গড় পুরুত্ব চার মিটারেরও বেশি কমে গেছে। হুস জানান, "কয়েক বছর আগেও এমন মাত্রার বরফ গলা অকল্পনীয় ছিল।"
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি বরফ গলে বের হয়েছে। এই পরিমাণ দেশটির পরিবারগুলোর এক বছরের মোট পানীয় জলের ব্যবহারের চার গুণেরও বেশি।
হিমবাহের বরফ গলে যাওয়ার ফলে গ্রীষ্মকালে পানির ঘাটতি কিছুটা কমে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, হিমবাহের আকার ক্রমেই ছোট হয়ে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই সুবিধাও কমে আসবে।
২০২২ সালে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো আরও ভয়াবহ মাত্রায় বরফ হারিয়েছিল। সে বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধুলোর স্তর তুষারের ওপর জমে বরফ গলার গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম বরফ গলার ঘটনা ঘন ঘন ঘটছে।
গবেষকদের মতে, হিমবাহ দ্রুত সংকুচিত হওয়ার প্রভাব শুধুমাত্র পাহাড়ি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদে পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন পরিবেশগত ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ