ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

৮ কোটি মিসরীয় থাকতে কেন ভারতীয়কে বিয়ে করলেন আল-সায়েদ


৮ কোটি মিসরীয় থাকতে কেন ভারতীয়কে বিয়ে করলেন আল-সায়েদ

আব্দুল আল-সায়েদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি হলেন প্রথম মুসলমান সিনেটর, যিনি মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়টি নির্বাচনকালে প্রতিপক্ষদের জন্য একটি বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা দিয়ে আল-সায়েদকে হারানোর চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগও আনা হয়েছিল। ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এমনকি নির্বাচনের দুদিন আগে ডেমোক্র্যাট হ্যালি স্টিভেন্স দল বদলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের পক্ষ নিয়েছিলেন। এত কিছুর পরও আল-সায়েদের বিশাল জয় ঠেকানো সম্ভব হয়নি। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের চেয়ে ৩ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে মিশিগান থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।

আল-সায়েদ তাঁর বিশাল জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদ্‌যাপন করেন তাঁর স্ত্রী ডাক্তার সারাহ জুকা কুর সঙ্গে। এই দম্পতি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। আল-সায়েদের শিকড় মিসরে, আর তাঁর স্ত্রী সারাহর শিকড় ভারতে। আল-সায়েদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর বিয়ে নিয়ে পরিবারের একটি মজার মন্তব্য স্মরণ করেছেন। এটির মাধ্যমে তাঁর জীবনের প্রায় দুই দশকের পুরোনো ভারতীয় সংযোগের একটি ঝলক ফুটে উঠেছে।

আল-সায়েদ বলেন, যখন তিনি ডা. সারাহকে বিয়ে করেন, তখন মিসর থেকে তাঁর এক চাচা এসে তাঁকে বলেছিলেন, ‘৮ কোটি মিসরীয় থাকতে তুমি কি না এক ভারতীয় নারীকে বিয়ে করলে?’ আল-সায়েদ মজা করে উত্তর দেন, “আমি উত্তর দিয়েছিলাম ‘আমু (আরবিতে চাচা), ওনাদের জনসংখ্যা ১০০ কোটি। তাই পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেখতে গেলে এর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি ছিল’।”

আরও পড়ুন: আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন হলেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ

এই ক্লিপটি চলতি বছরের আগস্টে ইউটিউবে আপলোড করা ‘মিট দ্য রিয়েল আব্দুল আল-সায়েদ’ পডকাস্টের একটি অংশ। আলোচনাটি মূলত তাঁর পরিবার, শৈশব এবং বেড়ে ওঠার ওপর কেন্দ্র করে ছিল।

আল-সায়েদ এবং ডা. সারাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে পড়ার সময় বাগ্‌দান করেন এবং ২০০৬ সালের মে মাসে বিয়ে করেন। তাঁদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে, এমিলি এবং সেরিন। আল-সায়েদ তাঁর স্ত্রীর ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথাও প্রকাশ করেছেন। আগের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন যে, প্রায় দুই দশকের বৈবাহিক জীবনের পর তিনি হয়তো ‘যতটা না আরব, তারচেয়ে বেশি ভারতীয়’ হয়ে গেছেন।

সারাহও তাঁদের সম্পর্কের একটি ঝলক তুলে ধরেছেন তাঁর রসবোধের মাধ্যমে। একটি নির্বাচনি সমাবেশে তিনি কৌতুক করে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমি ছাড়া অন্য কেউ তাঁকে কী করতে হবে তা বলার সাহস পায় না!’

সারাহ একটি ভারতীয়-আমেরিকান পরিবারের সন্তান, যারা কর্ণাটকের উপকূলীয় শহর ভাটকল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সারাহর দাদা জুকা কু শামসুদ্দিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বি ডি জত্তির অধীনে অর্থ উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁকে ভাটকল অঞ্চলের প্রথম আইনজীবী হিসেবেও গণ্য করা হতো। সারাহর বাবা ডা. তায়েব জুকা কু একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করেছিলেন।

আরও পড়ুন: অনুপ্রবেশকারীর গল্প সাজিয়ে মুসলিমদের নিশানা করছে সরকার: ওয়াইসি

আব্দুল আল-সায়েদের বাবা মোহামেদ আল-সায়েদ এবং তাঁর সৎমা দুজনেই মিসরের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে তারা উচ্চশিক্ষা ও প্রকৌশল পেশার সূত্রে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তাঁর পরিবারের একটি বড় অংশ এখনো মিসরে বসবাস করে, যাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কক্ষে কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ পি.এম


বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কক্ষে কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্যের কার্যালয়ে এক কর্মকর্তার ওপর মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ রানা। কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. এ টি এম জিন্নাতুল বাসার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসমাইল হোসেনকে কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ নভেম্বর উপাচার্যের কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার সার্বিক বিষয় অনুসন্ধান করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর কার্যালয়ে কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে বাংলা বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রফিক ইসলামকে পাঁচ কর্মকর্তা মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত রফিক ইসলামকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ ওঠায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উন্মোচিত হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনুপ্রবেশকারীর গল্প সাজিয়ে মুসলিমদের নিশানা করছে সরকার: ওয়াইসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


অনুপ্রবেশকারীর গল্প সাজিয়ে মুসলিমদের নিশানা করছে সরকার: ওয়াইসি

হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) এবং নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কাদেমি মসজিদ ভাঙার উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রায়ই কেন্দ্রীয় সরকার ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিদ্বেষী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

ওয়াইসির অভিযোগ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানা হচ্ছে।

ভারতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার অভিযোগ করা হয়। তবে হায়দরাবাদের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আর ভি কারনান জানিয়েছেন, এই যাচাইয়ে কোনো বিদেশি নাগরিক বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ওয়াইসি বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তার এই বক্তব্য বিজেপি ও সংঘ পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার অভিযোগ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নাম থাকার অজুহাতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে গিয়ে দিনমজুরদের অন্তত দুই দিনের কর্মসংস্থান হারাতে হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ এবং সরকারি দপ্তরে ছোটাছুটি করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

অন্যদিকে, নয়াদিল্লির কৃষি ভবন এলাকায় অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন কাদেমি মসজিদ ভাঙার উদ্যোগ নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন ওয়াইসি। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের আওতায় কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট নির্মাণের অংশ হিসেবে মসজিদটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তি দিয়েছে, সরকারি সম্পত্তির ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে মসজিদটির অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

কেন্দ্রের এই যুক্তির জবাবে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের উদ্বোধন যদি হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ভূমিপূজার মাধ্যমে হতে পারে, তাহলে সেখানে একটি ঐতিহাসিক মসজিদের অবস্থান ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী হবে কেন?

তিনি বলেন, ১৯১২ সালের আগেই কাদেমি মসজিদটি ওই স্থানে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ব্রিটিশরা লুটিয়েনস দিল্লি নির্মাণের সময় জমি অধিগ্রহণ করলেও মসজিদটি অধিগ্রহণের বাইরে রেখেছিল। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও অংশ।

এআইএমআইএম প্রধান এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তার মতে, মসজিদটির ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা স্বীকার করা উচিত সরকারের। মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা ওয়াক্‌ফ ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

এদিকে মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন ওয়াইসি। বিশেষ করে মুসলমানদের ‘আব্দুল’ বলে কেবল পাংচার সারানোর কাজে সীমাবদ্ধ রাখার মতো মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।

এমএমআর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন হলেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


আইসিএপিপির ভাইস চেয়ারপারসন হলেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ

এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) ১৩তম সাধারণ অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, যিনি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা, সম্মেলনে অধিবেশনের ভাইস চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টি এবং বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির যৌথ আয়োজনে দ্য শিলা সিউল হোটেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম প্ল্যানারি সেশনে বক্তব্য রাখেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় তিনি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং আস্থার সংকট মোকাবিলার জন্য গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন’ অত্যন্ত সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি সামাজিক চুক্তি। এর ভিত্তি হতে হবে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটকে ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ হিসেবে নয় বরং জনগণের সেবা করার দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংঘাত নয়, সংলাপের মাধ্যমে শান্তি নিশ্চিত করার নীতিতে বিশ্বাসী।

ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বিএনপি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করে বলেন, ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানবজীবনের মর্যাদাকে স্থান দিতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতি ও আদর্শ কোনো বৈষম্য ছাড়াই সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

আন্তঃমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বিভিন্ন মহাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউরোপের অস্থিরতা থেকে এশিয়া যেমন বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব থেকেও ইউরোপ মুক্ত থাকতে পারে না। বিএনপি এ ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংলাপে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী।

অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের এমনভাবে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা উচিত নয়, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়। আন্তঃসীমান্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে আইসিএপিপির একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এআই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করলেও লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় এর ব্যবহারও উদ্বেগজনক। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আইসিএপিপির উদ্যোগে একটি অভিন্ন কৌশলগত নীতিপত্র প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জাতীয় জিডিপির একটি উপযুক্ত অংশ বরাদ্দ এবং জলবায়ু অর্থায়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা।

তরুণ প্রজন্মের ওপর ভুল তথ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপতথ্যের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বিষণ্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকটও নীরব চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আইসিএপিপি-কে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও নিয়মিত সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কেবল জবরদস্তি কিংবা সম্পদের ওপর নির্ভর করবে না; আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে কতটা সক্ষম, তার ওপরও নির্ভর করবে। তিনি বাংলাদেশ ও বিএনপির পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আস্থা পুনর্গঠনকে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতি স্থায়ী অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%