০৫:৪১ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর অংশগ্রহণে র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বলা হয়, "নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান।"
রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসের নবম বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ক্যাম্পের একটি ফুটবল মাঠে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার (ইউসিআর) উদ্যোগে এই সমাবেশ হয়। এর মধ্যে মাঠে প্রায় ৩০০০০ থেকে ৩৫০০০ জন এবং সমাবেশস্থল সংলগ্ন সড়ক ও পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১ লাখ শরণার্থী সমবেত হয়।
সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক ও নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। তবে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্য শুধু ২০১৭ সালেই নয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর ফ্লাইট চালু হবে: আরিফুল হক
ওই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান করে। এ জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, "দীর্ঘ ৯ বছর ধরে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর; তারা আর শরণার্থী শিবিরের জীবন যাপন করতে চান না।" তাদের মতে, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
বক্তারা আরো বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তারা নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে প্রস্তুত। তবে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তাদের জীবনের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, নাগরিকত্বের অধিকার এবং কেড়ে নেওয়া সম্পদ ও বসতভিটা পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০১২, ২০১৭ এবং ২০২৪ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে বৈষম্য, নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। বাস্তুচ্যুত হওয়ার পূর্বে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ঐতিহ্য ছিল। রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস তাদের অতীতের নির্মমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিকে পুনরুজ্জীবিত করে।
তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন: গত আট মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি : বিদ্যুৎমন্ত্রী
সমাবেশ শেষে ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে নিহত রোহিঙ্গাদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত হয়। এ সময় ইউসিআর সভাপতি মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম, মৌলভী সৈয়দ উল্লাহ, মাস্টার খিন মং রফিক, মাস্টার মোহাম্মদ শোয়াইফ, সাজেদা বেগম এবং নির্বাহী সদস্য মাওলানা জুবায়ের ও মাওলানা আবদু রহিমসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন