সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৭ পি.এম
বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হয়েছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শ্রীবরদীতে, "একসাথে, আরও শক্তিশালী, জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে। সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) ডা: অমিও জ্যোতি সাইফুল্লা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু সাদাত মোহাম্মদ মফিদুল ইসলাম।
বক্তাগণ সভায় উল্লেখ করেন যে, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় কিংবা লালার সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। কুকুর জলাতঙ্কের অন্যতম প্রধান বাহক হলেও বিড়াল, শিয়াল, বেজি ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে।
তবে আশার কথা হলো—জলাতঙ্ক প্রতিরোধযোগ্য। যদি কোনো প্রাণী কামড়ায় বা আঁচড়ায়, তাহলে ক্ষতস্থানে দ্রুত প্রচুর পানি ও সাবান দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধোয়া উচিত। এরপর বিলম্ব না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা এবং প্রয়োজন হলে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG) গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে নার্সিং সুপারভাইজার রহিমা খাতুন, মেডিকেল এসিস্টেন্ট খাদিজা বেগম সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তার, নার্স, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্টাফগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এলপিজির আমদানি গত এক মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার। এর ফলে খুচরা বাজারে রান্নার গ্যাসের দাম দুই হাজার টাকার উপরে চলে গেছে।
বিইআরসি কর্তৃক নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বর্তমানে ভোক্তাদের এটি কিনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে।
বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। কিন্তু চলতি সেপ্টেম্বর মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।
এদিকে, গত ২ সেপ্টেম্বর বিইআরসি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজের সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, "বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে বাড়তি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি সীমিত রেখেছে বলেও তাদের দাবি।
ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী জানান, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
দেশে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির রান্নার কাজে। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই সরবরাহ করে বেসরকারি খাত।
এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির কারণ হিসেবে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি জানান, সংকট নিরসনে দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
তবে বৈশ্বিক নৌপথের জটিলতা দূর না হলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবর মাসেও এলপিজি সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
চলমান সংকটে একদিকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের, অন্যদিকে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশ নারীবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সেবা ডেস্কের আধুনিকীকরণ এবং নারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন মন্তব্য করেন, ‘লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষমূলক আচরণ এবং বুলিং বা হেনস্তার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ও সংবেদনশীল করে তোলার লক্ষ্যে চলমান পুলিশ সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং সম্প্রসারণে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি বিভাগীয় শহরে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাঁদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৫-এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন)-এর তত্ত্বাবধানে উত্তরায় একটি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে।
এ ছাড়া বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে ৬৪টি জেলার সদর থানার নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য নির্ধারিত সেবা ডেস্কগুলোকে ‘মডেল’ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগও নিয়েছে পুলিশ।
প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিটের চাহিদা অনুযায়ী আরও মোতায়েন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইউএনএফপিএ’র অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড রেসপন্স ফর জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন অ্যান্ড গার্লস (প্রিভিল)’ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, কক্সবাজার, বান্দরবান, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বরগুনা, জামালপুর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাটসহ ১০টি জেলার ৯২টি থানায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নারী, শিশু ও প্রবীণদের অধিকার এবং আইনি সহায়তা বিষয়ে প্রাথমিক সচেতনতা ও প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ৫৪টি জেলা সদর থানার নারী, শিশু ও প্রবীণ সেবা ডেস্কে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে সেগুলোকে মডেল সেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য কর্তৃপক্ষ একটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে নারী সদস্যের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৭০ জন যা বাহিনীর মোট সদস্যের ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার সমপর্যায়ের পদসহ বিভিন্ন পদে নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারী সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই।’
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে পোশাক খাতে, যেখানে অধিকাংশ শ্রমিকই নারী, সেখানে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় নারী পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘শিল্প খাতে নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।’
মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটে কর্মরত এক নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) বলেন, নারী কর্মকর্তারা বড় ধরনের অপারেশনাল দায়িত্ব পালনে সক্ষম। তবে তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি গোয়েন্দা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল নেতৃত্বের সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পুলিশে ১৯৭৪ সালে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে নারীরা মূলত সীমিত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বর্তমানে কনস্টেবল, এএসআই, এসআই, পরিদর্শক, এএসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সমপর্যায়ের পদেও নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সিআইডি, পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, রিভার পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বিপিডব্লিউএন’র ২০২৪-২০২৭ মেয়াদের কৌশলগত পরিকল্পনায় পুলিশে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিপিডব্লিউএন’র এই কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কেবল নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিই নয়, বরং পুরো বাহিনীতে তাদের নেতৃত্ব, তদন্ত ও কার্যক্রম-পরিচালনা সংক্রান্ত ভূমিকার পরিধি সম্প্রসারণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা লিগে নিজের যাত্রার কথা স্মরণ করে, তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট বাছাইপর্বে অংশগ্রহণকারী তরুণ ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ।
রোববার, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ বাছাই প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০০৯ সালে বয়স-ভিত্তিক ক্রিকেটের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার শুরুর স্মৃতিচারণ করেন মিরাজ।
মিরাজ বলেন, ‘আমি ২০০৯ সালে ক্রিকেট খেলা শুরু করি। তখন আমি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে খেলছিলাম। সেখান থেকেই আমার সবকিছু শুরু। আমি সিসিএস-এর হয়ে খেলেছিলাম।’
মিরাজ জানান, বাছাইপর্ব থেকে শুরু হওয়ায় ঢাকা লিগের সব স্তরেই খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ ও প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে, প্রতিটি লিগেই খেলার সুযোগ পেয়েছি।’
দীর্ঘ বিরতির পর তৃতীয় বিভাগ বাছাইপর্ব শুরু হওয়ায় মিরাজ খুশি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার জন্য প্রশংসা করেন তিনি।
মিরাজ বলেন, ‘এত দিন পর আবার বাছাইপর্ব শুরু হচ্ছে জেনে খুব ভালো লাগছে। এক সময় আমরা ভেবেছিলাম হয়তো এই প্রতিযোগিতা আর হবে না। কিন্তু এখন আবার শুরু হচ্ছে।’
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়দের একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করা এবং অভিজ্ঞতার বিনিময়ের সুযোগের বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেন মিরাজ।
ঢাকা লিগ খেলার সময় বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এখন রংপুর, সিলেট, খুলনা ও বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকার খেলোয়াড়রাও একই ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।’
মিরাজ আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে খেলোয়াড়রা আসবে, একসঙ্গে থাকবে, ম্যাচের আগে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও খেলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে। আমার বিশ্বাস, তোমরাও এমন পরিবেশের অভিজ্ঞতা লাভ করবে এবং এটি তোমাদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়াবে।’
এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলোয়াড় উঠে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মিরাজ।
মিরাজ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, তোমাদের মধ্য থেকেই এমন অনেক খেলোয়াড় উঠে আসবে যারা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেবে।’
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটনি স্পিয়ার্সের জীবন কাহিনী নিয়ে একটি সিনেমা নির্মাণের খবর ইতোমধ্যে শোনা গেছে। তবে ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন, পপ কুইন ব্রিটনির চরিত্রে অভিনয় করবেন কে? বিশ্ববিখ্যাত ইউনিভার্সাল পিকচার্স যখন ব্রিটনির স্মৃতিকথা ‘দ্য ওম্যান ইন মি’-এর স্বত্ব অর্জন করে, তখন থেকেই হলিউডে কাস্টিং নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। যদিও বেশ কয়েকজন তারকার নাম আলোচনায় রয়েছে, কিন্তু কাউকে কেন্দ্র করে বিতর্ক থামছে না।
বর্তমানে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মার্কিন অভিনেত্রী সিডনি সুইনি। তাঁর পরিচিতি, অভিনয়ের বৈচিত্র্য এবং পপ তারকার ভাবমূর্তির কারণে নির্মাতারা তাঁকে প্রাথমিক পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে, ভক্তদের মধ্যে অনেকের প্রতিক্রিয়া খুব একটা ইতিবাচক নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—স্টেজে ব্রিটনির নাচ ও পারফরম্যান্স তুলে ধরার মতো দক্ষতা সিডনির আছে কি না।
অন্যদিকে, ‘স্ট্রেনঞ্জার থিংস’ খ্যাত অভিনেত্রী মিলি ববি ব্রাউন দীর্ঘদিন ধরেই এই চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু স্পিয়ার্স যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান, তখন ব্রাউন খানিকটা পিছু হটেন। তবে, চূড়ান্ত তালিকায় এখনও তাঁর শক্ত অবস্থান রয়েছে।
টিকটক থেকে সংগীতে খ্যাতি অর্জন করা অ্যাডিসন রে এই দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। ব্রিটনির মতো লুইজিয়ানার বাসিন্দা হওয়া এবং নাচ ও গানে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকার কারণে অনেকের পছন্দ তিনিই। তালিকায় আরও রয়েছেন অভিনেত্রী বেইলি ম্যাডিসন এবং টিকটকে ব্রিটনির নাচ অনুকরণ করে পরিচিতি পাওয়া ইথাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাইলি শুল্টজ।
ছবিটির জন্য ক্যামেরার পেছনের দল ইতোমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন জন এম. চু এবং প্রযোজনা করবেন মার্ক প্ল্যাট। অন্যদিকে, এর চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্বে রয়েছেন লিজ মেরিওয়েদার। নির্মাতারা জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যম ও মিডিয়ার তীব্র মনোযোগের মধ্যে স্পিয়ার্সের লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরাই এই ছবির মূল উদ্দেশ্য।
শুরুর দিকে ছবিটি নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও বর্তমানে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। জানা গেছে, বায়োপিকটি তৈরিতে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। ফলে নির্মাতারা যাকেই নির্বাচন করুন না কেন, শেষ পর্যন্ত পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্সের নিজস্ব অনুমোদন পাওয়াটাই কাস্টিংয়ের প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়াবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ