০৩:২৭ পি.এম
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন যে, দেশে গত ১২-১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে আয় বৈষম্য বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা খুবই কম। যারা পূর্বেই শিল্প-কারখানার মালিক ছিলেন, সেই ব্যক্তিরাই মূলত আরও বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাসের অভাবকে চিহ্নিত করেছেন।
রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিগত ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০-১৫ বছরে সেই অনুপাত তীব্রভাবে কমে গেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবাহ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের হাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এটি আয় বৈষম্য বাড়ানোর একটি প্রধান উপায় এবং আমরা সেটি অনুসরণ করেছি। 15-20 বছর আগের তুলনায় আয় বৈষম্য বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বেড়েছে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের জন্মশতবর্ষে মাসব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু
আয় বৈষম্যের বৈশ্বিক সূচকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনকাম ডিসপারিটির স্কেল শূন্য থেকে এক পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। সূচক যত বেশি হয়, সংখ্যাটা তত বেড়ে যায় এবং আমাদের এখানে এই বৈষম্য এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ২০ শতাংশ। এই হারকে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, কারণ অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহকে গতিশীল রাখার জন্য এমএসএমই খাতকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, আমরা একটি ব্রড-বেইজড (সুদূরপ্রসারী) পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরও শিল্প পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্যাস সংকট ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা কম জ্বালানি ব্যবহারকারী শিল্পের দিকে বেশি নজর দেব। বর্তমানে যেসব কল-কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে, সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর লক্ষ্যে সংকট সমাধানে আমরা আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আরও পড়ুন: বিএসির সহযোগিতা বাউবির কার্যক্রমকে গতিশীল করবে: উপাচার্য
এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি: আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ বিষয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন সময়োপযোগী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন