মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪০ পি.এম
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ; সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে প্রেরণ
চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুর রহিমের দিকনির্দেশনায় অপারেশন অফিসার এসআই (নিঃ) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সোহেল প্রকাশ মনু (২২), আরিফুল ইসলাম (২৩), মো. দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ সাঈদ (২৩), আশরাফুজ জামান প্রকাশ জনি (২১), মো. পারভেজ (৬০) ও মো. শাহাবউদ্দিন (৪৫)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে *খুলশী থানার মামলা নম্বর-৭, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর **৬, ৮, ৯, ১০ ও ১১ ধারায়* মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ছয়জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
খুলশী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো ধরনের কার্যক্রম প্রতিহত করতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায়। ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কের একটি অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে লেগুনা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। সড়কের পাশে রাখা হচ্ছে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল। এর সঙ্গে ফুটপাতজুড়ে বসেছে বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার ও দোকানপাট।
ফলে ব্যস্ততম টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কটি পরিণত হয়েছে যানজটের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের পর কয়েক দিন ফুটপাত ও সড়ক তুলনামূলকভাবে দখলমুক্ত থাকলেও পরে আবার আগের চিত্র ফিরে আসে। বর্তমানে ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে পথচারীদের সড়কের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, টঙ্গী স্টেশন রোডের বিভিন্ন অংশে ফুটপাতের ওপর পরিবহন কাউন্টার, ছোট দোকান ও নানা ধরনের অস্থায়ী স্থাপনা রয়েছে। সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে লেগুনা, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। যাত্রী ওঠানামার সময় এসব যানবাহন সড়কের ওপর অবস্থান করায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয়। ব্যস্ত সময়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা বলছেন, স্টেশন রোডে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে একের পর এক পরিবহন স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেশি। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহনকেও অনেক সময় ধীরগতিতে চলতে হয়।
স্থানীয়রা আরোও বলেন, সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা এবং পরিবহন স্ট্যান্ডের নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল রয়েছে। বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তাদের দাবি, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশকে 'ম্যানেজ' করে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের দখল ও সড়কের ওপর স্ট্যান্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার, দোকানপাট ও স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে এখানে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের চাঁদাবাজি হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারা এই অর্থ আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত- তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পর পরই আবারও একই জায়গায় দোকান, কাউন্টার ও বিভিন্ন স্ট্যান্ড গড়ে ওঠছে। এতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তাদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হলে শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না; উচ্ছেদের পর সেখানে যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কের ওপর যত্রতত্র পরিবহন দাঁড় করানো বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্থানে স্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতায় জড়িত সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং চুক্তির আওতায় পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা বিভাগগুলো পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটিতে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকার গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কমিটিগুলোর মাধ্যমে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নীতি নির্ধারণ, সুপারিশ প্রদান ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনায় সরকার যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে, তা পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি দাবি করে, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পাহাড়ে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, সংঘাত ও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সংগঠনটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পিসিএনপির অভিযোগ, এসব সংঘাতের প্রভাব শিশু ও শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের একটি অংশ সহিংস রাজনীতির প্রভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপি আরও দাবি করে, পার্বত্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন করা হলেও চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে অস্ত্র পরিত্যাগ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
পিসিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, পাহাড়ে চলমান সংঘাত নিরসনে সরকারের গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া সাজানো যেতে পারে। একই সঙ্গে সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন: চুক্তির বর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া পুনর্গঠন।
২. সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধকরণ: জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফসহ সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা।
৩. লিগ্যাল টাস্কফোর্স গঠন: পাহাড়ে সংঘটিত হত্যা, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটিগুলোর সমন্বয়ে একটি লিগ্যাল টাস্কফোর্স গঠন।
৪. বিভাগগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া: পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা বিভাগগুলোর কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া।
৫. অনগ্রসর কোটা চালু: বিদ্যমান উপজাতীয় কোটার পরিবর্তে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালুর দাবি।
৬. সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা: পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনের আগে জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনায় আসন নির্ধারণ এবং সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
৭. এনজিও কার্যক্রমে জবাবদিহিতা: পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি এনজিওগুলোর প্রকল্প, বাজেট ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি তদারকির দাবি।
৮. শিশির চাকমার প্রতিনিধিত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান: শিশির চাকমা পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন—এমন দাবি করে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি। সংগঠনটির অভিযোগ, তিনি জেএসএসের এজেন্ডার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
৯. জেএসএসের বক্তব্যের প্রতিবাদ: পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে জেএসএসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি।
১০. ব্যারিস্টার মীর হেলালকে দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ব্যারিস্টার মীর হেলালকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি আরও জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটিগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ