মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৩ পি.এম
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতায় জড়িত সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং চুক্তির আওতায় পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা বিভাগগুলো পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটিতে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকার গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কমিটিগুলোর মাধ্যমে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নীতি নির্ধারণ, সুপারিশ প্রদান ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনায় সরকার যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে, তা পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি দাবি করে, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পাহাড়ে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, সংঘাত ও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সংগঠনটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পিসিএনপির অভিযোগ, এসব সংঘাতের প্রভাব শিশু ও শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের একটি অংশ সহিংস রাজনীতির প্রভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপি আরও দাবি করে, পার্বত্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন করা হলেও চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে অস্ত্র পরিত্যাগ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
পিসিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, পাহাড়ে চলমান সংঘাত নিরসনে সরকারের গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া সাজানো যেতে পারে। একই সঙ্গে সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন: চুক্তির বর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া পুনর্গঠন।
২. সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধকরণ: জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফসহ সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা।
৩. লিগ্যাল টাস্কফোর্স গঠন: পাহাড়ে সংঘটিত হত্যা, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটিগুলোর সমন্বয়ে একটি লিগ্যাল টাস্কফোর্স গঠন।
৪. বিভাগগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া: পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা বিভাগগুলোর কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া।
৫. অনগ্রসর কোটা চালু: বিদ্যমান উপজাতীয় কোটার পরিবর্তে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালুর দাবি।
৬. সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা: পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনের আগে জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনায় আসন নির্ধারণ এবং সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
৭. এনজিও কার্যক্রমে জবাবদিহিতা: পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি এনজিওগুলোর প্রকল্প, বাজেট ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি তদারকির দাবি।
৮. শিশির চাকমার প্রতিনিধিত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান: শিশির চাকমা পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন—এমন দাবি করে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি। সংগঠনটির অভিযোগ, তিনি জেএসএসের এজেন্ডার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
৯. জেএসএসের বক্তব্যের প্রতিবাদ: পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে জেএসএসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি।
১০. ব্যারিস্টার মীর হেলালকে দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ব্যারিস্টার মীর হেলালকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি আরও জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটিগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসায় বিদ্যমান ম্যানেজিং কমিটি এবং গভর্নিং বডি পুনর্গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেছে শিক্ষা বোর্ড। এ লক্ষ্যে দ্রুত অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি নিয়ে তা গঠন করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর আওতায় দেশের বিদ্যমান বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটি এবং গভর্নিং বডি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি নিয়ে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ২ আগস্ট বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের জারি করা নির্দেশনা বহাল থাকবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, কমিটির সভাপতি মনোনয়নের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালার প্রবিধান ৬৪-এর উপ-প্রবিধান (৩) অনুযায়ী, মাদরাসা প্রধান স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সভাপতি মনোনয়নের জন্য তিনজনের একটি তালিকা পাঠাবেন। তালিকায় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি অথবা কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত নবম গ্রেড বা তার ওপরে পদমর্যাদার সরকারি কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
তবে সিটি করপোরেশন এলাকার মাদরাসার ক্ষেত্রে, মাদরাসা প্রধান বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের কাছে সভাপতি মনোনয়নের প্রস্তাব পাঠাবেন।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনাটি দেশের সব স্তরের অধ্যক্ষ, সুপার, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সভাপতি এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে নতুন করে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নব্বই দশকের জনপ্রিয় ঢালিউড অভিনেতা আমিন খান একের পর এক সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার সুদর্শন চেহারা এবং অভিনয় দক্ষতা তাকে বিশেষ খ্যাতি এনে দিয়েছে। করপোরেট জগতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে, তিনি অভিনয়ের জগত থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। তার ভক্তরা জানতে চান, কেন তিনি অভিনয় করছেন না এবং কেন তাকে আর পর্দায় দেখা যায় না। তবে আমিন খান জানিয়েছেন, ক্যামেরার সামনে আবার দেখা যাবে।
ডিসেম্বরে তিনি ‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমার শুটিং শুরু করবেন। তিনি বলেছেন, যদি ভালো গল্প পান, তবে নিয়মিত সিনেমায় কাজ করবেন। সম্প্রতি মাছরাঙা টিভির ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ অনুষ্ঠানে এসে তিনি এ কথা বলেন।
‘গুলশানের চামেলী’ সিনেমাটি পরিচালনা করবেন মোহাম্মদ ইকবাল। এতে কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার, আজমেরী হক বাঁধন, মিশা সওদাগর, ওমর সানী, রোজিনা সহ অনেকেই অভিনয় করবেন।
অভিনয়ের বাইরেও, আমিন খানকে একজন ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে চেনেন তার ভক্তরা। এ বিষয়ে নিজের চিন্তা-ভাবনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাউন টু আর্থ হয়ে চলার মধ্যে অনেক উপকার আছে। চলার পথে অনেক বিপদ-আপদ এড়িয়ে যেতে পারবেন, বিপদ আপনার কাছে আসবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা জিনিস— ভদ্রভাবে কথা বললে বা ভদ্র হলে ক্ষতি নেই; বরং উপকার আছে। রেসপন্স খুব ভালো পাবেন। ভদ্রতার মূল্য একদিন না একদিন পাওয়া যায়। কেন অহেতুক অভদ্র হবেন?‘
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের রাউজানে অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাউজান থানা পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের তিন সহযোগীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে উপজেলার কদলপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০) ও মো. জাফর (৩৮) বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু উত্তোলন থেকে প্রাপ্ত অর্থ রায়হানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, অপর আসামি মো. সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯) শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাং নিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং রায়হানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, রাউজান থানার কদলপুর ইউনিয়নের মীর বাগিচা মুনিরিয়া যুব তাবলীগ নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাউজান থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও মো. জাফর রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তারা রায়হানের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু উত্তোলন থেকে প্রাপ্ত অর্থ রায়হানের কাছে পৌঁছে দিতেন।
এছাড়া, তারা এলাকায় রায়হানের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার সিফাত সন্ত্রাসী রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে সহযোগীদের নিয়ে রাউজানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের নির্দেশনা ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং রায়হানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
পুলিশ সুপার জানান, রায়হানের সহযোগী হিসেবে কাজ করা অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের মোংলায় বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত ব্যাবসায়িক সিম ক্লোন করে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১টি মোবাইল ফোন এবং ২০টি সিমকার্ড। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কনফারেন্স কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, মোংলা উপজেলার চিলা বাজার এলাকায় দুজন বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীর ব্যাবসায়িক সিম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লোনকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে বিকাশ ও নগদের তিনটি সিম উত্তোলন করে। পরে এই সিমগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন করা হয়। এভাবে চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা আত্মসাৎ করে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে গত ১ জুলাই মোংলা থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর জেলা পুলিশ ও এসআরবির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট সিমকার্ড পরীক্ষা করে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, উদ্ধার করা আলামত এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তারদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ