মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৬ পি.এম
চট্টগ্রামের রাউজানে অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাউজান থানা পুলিশ শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের তিন সহযোগীকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে উপজেলার কদলপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুটি সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ (৩০) ও মো. জাফর (৩৮) বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু উত্তোলন থেকে প্রাপ্ত অর্থ রায়হানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, অপর আসামি মো. সাফায়েত হোসেন সিফাত (১৯) শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাং নিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং রায়হানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, রাউজান থানার কদলপুর ইউনিয়নের মীর বাগিচা মুনিরিয়া যুব তাবলীগ নির্মাণাধীন মাদ্রাসার সামনে একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাউজান থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায় এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও মো. জাফর রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার নির্দেশনায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তারা রায়হানের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বালু উত্তোলন থেকে প্রাপ্ত অর্থ রায়হানের কাছে পৌঁছে দিতেন।
এছাড়া, তারা এলাকায় রায়হানের প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার সিফাত সন্ত্রাসী রায়হানের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে সহযোগীদের নিয়ে রাউজানে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের নির্দেশনা ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং রায়হানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন।
পুলিশ সুপার জানান, রায়হানের সহযোগী হিসেবে কাজ করা অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের মোংলায় বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত ব্যাবসায়িক সিম ক্লোন করে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশ ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১টি মোবাইল ফোন এবং ২০টি সিমকার্ড। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কনফারেন্স কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, মোংলা উপজেলার চিলা বাজার এলাকায় দুজন বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীর ব্যাবসায়িক সিম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্লোনকৃত ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে বিকাশ ও নগদের তিনটি সিম উত্তোলন করে। পরে এই সিমগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন করা হয়। এভাবে চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা আত্মসাৎ করে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে গত ১ জুলাই মোংলা থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। এরপর জেলা পুলিশ ও এসআরবির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট সিমকার্ড পরীক্ষা করে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, উদ্ধার করা আলামত এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তারদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আকাশের বৃষ্টি তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমাতে পারেনি। হাতে লেখা পোস্টার, মাথার ওপর খোলা ছাতা এবং মুখে একটাই স্লোগান— "হাম লেকে রাহেঙ্গে আজাদি"। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (ডিইউ) ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার দাবিতে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 'হুম অওরাতেঁ আজাদ হ্যায়' (আমরা নারীরা স্বাধীন) ব্যানারে এই প্রতিবাদ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজের ছাত্রী এবং কুইয়ার সম্প্রদায়ের সদস্যরা একত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার বিকেল ৩টায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টির ৭ নম্বর গেটে আন্দোলনকারীরা জড়ো হন। সেখান থেকে দৌলত রাম কলেজের বিপরীতের পথ ধরে মিছিলটি স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লেও আন্দোলনকারীদের উদ্দীপনা কমেনি। বরং অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া হাঁসরাজ কলেজের ছাত্রী স্পর্শিকা জানান, নিরাপত্তার অজুহাতে অভিভাবকরা তাকে মিছিলে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দিয়েই চলে এসেছেন। তার বক্তব্য ছিল, "আমরা শুধু মুক্তভাবে চলাফেরার মৌলিক অধিকারটুকু চাই। আজ যদি আমি রুখে না দাঁড়াই, তবে ভবিষ্যতে আমাদের সন্তানদের আরও বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে।"
আরেক শিক্ষার্থী শেফালী বলেন, "নারীদের পোশাক বা ঘোরাঘুরির সময়ের ওপর অপরাধকে চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। ছোট শিশুরা যখন নিগ্রহের শিকার হয়, তখন তারা কী উসকানি দেয়?"
এই প্রতিবাদে নারীদের পাশাপাশি পুরুষ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। কিটোরি মল কলেজের ছাত্র সাহিল বলেন, "নিরাপত্তাহীন পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে নারীদের বাধ্য করা বন্ধ করতে হবে। বাইরে বের হওয়ার আগে সময় দেখতে হবে কেন? সমস্যা দূর করতে হলে মূল মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।"
আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, আন্দোলনস্থলে কোনো ধরনের বর্ণবাদী, লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা আপত্তিকর স্লোগান ও ব্যানার সহ্য করা হবে না। এছাড়াও এআই-জেনারেটেড কোনো পোস্টারও সেখানে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও বিবেকানন্দের ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে নারীরা তাদের দাবির কথা জানিয়ে যান— নিরাপত্তা কোনো শর্তে নয়, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার সমান্তরালভাবে নিশ্চিত করতে হবে। সূত্র: টিওআই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, অনিবন্ধিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ নিয়ে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে পরিচালিত অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেজ খুলে নিজেদের অনলাইন নিউজ মিডিয়া হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুযোগ-সুবিধা ও নীতিমালার ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন ও নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত পরিবীক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন যুব ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা উল্লেখ করেছেন, বায়ুদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিষ্কার বায়ু কোন বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মৌলিক অধিকার।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রিদ কোলিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। ‘ব্রিদিং ইন দ্য গ্রে: ফ্রম পলিসি গ্যাপস টু পাবলিক অ্যাকশন ফর ক্লিন এয়ার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটির পরিচালক রায়হান নোমান নূরনবী। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, যিনি নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন একশনএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মো. মাসুদ পারভেজ অভি, স্মার্ট এয়ার বাংলাদেশের অপারেশন ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম প্রমূখ।
অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার মূল বক্তব্যে বলেন, বায়ুদূষণ একটি অদৃশ্য সংক্রামক ও জীবনঘাতী সংকট। তিনি উল্লেখ করেন, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর কমে যাচ্ছে। প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে এক লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন মারা যান। তাই, এই দুষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি আইন প্রয়োগের কঠোরতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সবার জন্য নিরাপদ ও পরিষ্কার বায়ু নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ড. আহমেদ কামরুজ্জামান বায়ু গবেষণা সেল গঠনের সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, বায়ু ছাড়া আমরা এক মিনিটও বাঁচতে পারি না। অথচ, সেই বায়ু নিয়ে গবেষণা খুবই কম। তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া সঠিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়। সমস্যা তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে টেকসই সমাধানে যুবসমাজকে সক্রিয় অংশীদার করতে হবে। তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।
একশনএইডের মাসুদ পারভেজ অভি বলেন, বায়ুদূষণ বর্তমানে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিষ্কার বায়ু মানুষের সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের মৌলিক অধিকার। বায়ুদূষণের কারণে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও কর্মজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সেই ঝুঁকি মোকাবেলায় ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ১৫ দফায় বলা হয়েছে, বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২’সহ বিদ্যমান সব নীতি ও কর্মপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন; পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও পুলিশের সমন্বয়ে কার্যকর যৌথ টাস্কফোর্স গঠন; বায়ুদূষণের অভিযোগ জানাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা হটলাইন চালু এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি।
এছাড়া, ‘পলিউটার পেইজ প্রিন্সিপল’ অনুযায়ী দূষণকারী শিল্প ও স্থাপনার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায়, প্রয়োজন অনুযায়ী লাইসেন্স স্থগিত; ঢাকা ও সব বিভাগীয় শহরে পর্যাপ্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বা ক্যাম্প স্থাপন ও কার্যকর রাখতে হবে। জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে রিয়েল-টাইম এ কিউ আই প্রদর্শন এবং দৈনিক বায়ুমান বুলেটিন প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিনামায় নির্মাণ এলাকায় ধুলা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নিয়মিত পানি ছিটানো এবং ফিটনেসবিহীন ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। খোলা জায়গায় বর্জ্য ও প্লাস্টিক পোড়ানো বন্ধে কার্যকর নজরদারি, চরম দূষণের সময়ে জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি এবং ট্রাফিক পুলিশ ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য উপযুক্ত মাস্ক সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বাজেট ও সরঞ্জাম বৃদ্ধি, গণমাধ্যম ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বছরব্যাপী জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা, সরকারি নীতি প্রণয়ন ও মূল্যায়নে তরুণ গবেষক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটিতে ব্রিদ কোয়ালিশনসহ যুব প্ল্যাটফর্মগুলোকে স্বাধীন পরিবীক্ষক অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ