প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আকাশের বৃষ্টি তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমাতে পারেনি। হাতে লেখা পোস্টার, মাথার ওপর খোলা ছাতা এবং মুখে একটাই স্লোগান— "হাম লেকে রাহেঙ্গে আজাদি"। ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (ডিইউ) ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার দাবিতে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 'হুম অওরাতেঁ আজাদ হ্যায়' (আমরা নারীরা স্বাধীন) ব্যানারে এই প্রতিবাদ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজের ছাত্রী এবং কুইয়ার সম্প্রদায়ের সদস্যরা একত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার বিকেল ৩টায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টির ৭ নম্বর গেটে আন্দোলনকারীরা জড়ো হন। সেখান থেকে দৌলত রাম কলেজের বিপরীতের পথ ধরে মিছিলটি স্বামী বিবেকানন্দের ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লেও আন্দোলনকারীদের উদ্দীপনা কমেনি। বরং অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া হাঁসরাজ কলেজের ছাত্রী স্পর্শিকা জানান, নিরাপত্তার অজুহাতে অভিভাবকরা তাকে মিছিলে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি ফোন কেটে দিয়েই চলে এসেছেন। তার বক্তব্য ছিল, "আমরা শুধু মুক্তভাবে চলাফেরার মৌলিক অধিকারটুকু চাই। আজ যদি আমি রুখে না দাঁড়াই, তবে ভবিষ্যতে আমাদের সন্তানদের আরও বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে।"
আরেক শিক্ষার্থী শেফালী বলেন, "নারীদের পোশাক বা ঘোরাঘুরির সময়ের ওপর অপরাধকে চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায়। ছোট শিশুরা যখন নিগ্রহের শিকার হয়, তখন তারা কী উসকানি দেয়?"
এই প্রতিবাদে নারীদের পাশাপাশি পুরুষ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। কিটোরি মল কলেজের ছাত্র সাহিল বলেন, "নিরাপত্তাহীন পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে নারীদের বাধ্য করা বন্ধ করতে হবে। বাইরে বের হওয়ার আগে সময় দেখতে হবে কেন? সমস্যা দূর করতে হলে মূল মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।"
আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, আন্দোলনস্থলে কোনো ধরনের বর্ণবাদী, লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা আপত্তিকর স্লোগান ও ব্যানার সহ্য করা হবে না। এছাড়াও এআই-জেনারেটেড কোনো পোস্টারও সেখানে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও বিবেকানন্দের ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে নারীরা তাদের দাবির কথা জানিয়ে যান— নিরাপত্তা কোনো শর্তে নয়, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকার সমান্তরালভাবে নিশ্চিত করতে হবে। সূত্র: টিওআই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন