প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি পুনর্মূল্যায়ন, পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতায় জড়িত সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং চুক্তির আওতায় পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তর করা বিভাগগুলো পুনরায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটিতে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকার গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কমিটিগুলোর মাধ্যমে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি নেতারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নীতি নির্ধারণ, সুপারিশ প্রদান ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনায় সরকার যে তিনটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করেছে, তা পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি দাবি করে, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পাহাড়ে অস্ত্র, চাঁদাবাজি, সংঘাত ও সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সংগঠনটির অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
পিসিএনপির অভিযোগ, এসব সংঘাতের প্রভাব শিশু ও শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ছে। ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের একটি অংশ সহিংস রাজনীতির প্রভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপি আরও দাবি করে, পার্বত্য চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন করা হলেও চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে অস্ত্র পরিত্যাগ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
পিসিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, পাহাড়ে চলমান সংঘাত নিরসনে সরকারের গঠিত তিনটি জাতীয় কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া সাজানো যেতে পারে। একই সঙ্গে সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. পার্বত্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন: চুক্তির বর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়া পুনর্গঠন।
২. সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধকরণ: জেএসএস, ইউপিডিএফ ও কেএনএফসহ সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা।
৩. লিগ্যাল টাস্কফোর্স গঠন: পাহাড়ে সংঘটিত হত্যা, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটিগুলোর সমন্বয়ে একটি লিগ্যাল টাস্কফোর্স গঠন।
৪. বিভাগগুলো মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া: পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা বিভাগগুলোর কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া।
৫. অনগ্রসর কোটা চালু: বিদ্যমান উপজাতীয় কোটার পরিবর্তে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অনগ্রসর কোটা’ চালুর দাবি।
৬. সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা: পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনের আগে জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনায় আসন নির্ধারণ এবং সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
৭. এনজিও কার্যক্রমে জবাবদিহিতা: পার্বত্য অঞ্চলে বিদেশি এনজিওগুলোর প্রকল্প, বাজেট ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর সরকারি তদারকির দাবি।
৮. শিশির চাকমার প্রতিনিধিত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান: শিশির চাকমা পাহাড়ের সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন—এমন দাবি করে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি। সংগঠনটির অভিযোগ, তিনি জেএসএসের এজেন্ডার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
৯. জেএসএসের বক্তব্যের প্রতিবাদ: পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে জেএসএসের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় পিসিএনপি।
১০. ব্যারিস্টার মীর হেলালকে দায়িত্বে বহাল রাখার দাবি: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ব্যারিস্টার মীর হেলালকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখার দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি আরও জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটিগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন