ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৬২৩ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, জরিমানা ১ কোটি ২৮ লাখ


৬২৩ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, জরিমানা ১ কোটি ২৮ লাখ

গত ৩১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে ৬২৩টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯১ টাকা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে এ তথ্য প্রদান করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করেছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের হাতে ১৩.৭ কেজি হরিণের মাংসসহ চামড়া জব্দ

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। গত ১৪ দিনে এ কার্যক্রমে ১১ হাজার ১৮৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি অভিযান ছিল মোবাইল কোর্টের। অবৈধভাবে নেওয়া ৬২৩টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং জরিমানা বাবদ ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯১ টাকা আদায় করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

তিনি আরও জানান, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি (ডেসকো) অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। ডেসকো ৩০টি অভিযান চালিয়ে ২১টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ (নেসকো) বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও নিজেদের এলাকায় অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। সামগ্রিকভাবে ৩৭৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, অবৈধ ১ হাজার ২৫৮টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং ৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাদানীর ওয়াজ মাহফিলে এমপিকে পাগড়ি পরিয়ে দিলেন আলেমরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তবুও প্রকাশ্যে ৩ আসামি! কর্ণকাঠীতে চাঁদাবাজি-মাদক সিন্ডিকেটের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তবুও প্রকাশ্যে ৩ আসামি! কর্ণকাঠীতে চাঁদাবাজি-মাদক সিন্ডিকেটের অভিযোগ

চাঁদাবাজির মামলায় পুলিশের চার্জশিট; জমি দখল ও সন্ত্রাসের অভিযোগও—পরোয়ানা বাস্তবায়নে বন্দর থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন


বরিশাল নগরীর বন্দর থানাধীন চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠী এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা হলেন—মো. ফেরদৌস লিটন চৌকিদার, মো. রাসেল মাহমুদ চৌকিদার ও মো. বশির আহমেদ শামিম হাওলাদার।
তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি চাঁদা দাবির মামলায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। তালাশ বিডির হাতে থাকা মামলার নথি অনুযায়ী, ওই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও তাদের কর্ণকাঠী এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কীভাবে প্রকাশ্যে এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা কতটুকু?
চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর বন্দর থানায় এফআইআর নং-৭ এবং জিআর নং-১৬১ হিসেবে মামলাটি রুজু হয়। মামলার বাদী মো. শিপন হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি ও অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং জমি কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিপন হাওলাদার বাড়ি থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে চরআইচা এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করেন।
এ সময় তাদের হাতে রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা ছিল বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জমি বিক্রির সূত্র ধরে শিপন হাওলাদারের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বাদীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন বন্দর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) শহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে বদলিজনিত কারণে তদন্তভার হস্তান্তর করা হলে ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ভূঞা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বাদী ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থলের ছবি সংগ্রহ, থানার রেকর্ডপত্র যাচাই এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তদন্তে নথিভুক্ত সাক্ষ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাদীর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হওয়ায় মো. ফেরদৌস লিটন চৌকিদার, মো. রাসেল মাহমুদ চৌকিদার ও মো. বশির আহমেদ শামিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩৮৫ ও ৩৮৭ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল অভিযোগপত্র নং-৩০ মূলে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর ওই তিন ব্যক্তি নিজেদের বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেন, রাজনৈতিক দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালালে এতে সংশ্লিষ্ট দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তবে মো. ফেরদৌস লিটন চৌকিদার, মো. রাসেল মাহমুদ চৌকিদার ও মো. বশির আহমেদ শামিম হাওলাদার বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে রয়েছেন কি না কিংবা দলীয়ভাবে তাদের সঙ্গে বিএনপির আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না অনেকে
তালাশ বিডির পক্ষ থেকে কর্ণকাঠী এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে অনেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, অভিযুক্তদের প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে অনেকে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
দুই স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ওই তিন ব্যক্তি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
লিটন চৌকিদারের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে মো. ফেরদৌস লিটন চৌকিদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তালাশ বিডি।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে মামলা আছে। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল হওয়ার পর আমি আর আদালতে হাজির হইনি। তবে আমি যেকোনো মুহূর্তে আদালতে হাজির হব।”
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট” দাবি করেন তিনি।
তবে তালাশ বিডির পক্ষ থেকে স্থানীয়দের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লিটন চৌকিদার বলেন, এসব অভিযোগের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
পরোয়ানা রয়েছে, অভিযানে আসামি ফসকে যাওয়ার দাবি পুলিশের
আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কীভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন—এ বিষয়ে জানতে তালাশ বিডির পক্ষ থেকে বন্দর থানায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তথ্য সংগ্রহের সময় থানার সংশ্লিষ্ট কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
পরে এ বিষয়ে এসআই ফারুক চৌহালীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার কাছে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।”
তিনি আরও বলেন, “বন্দর থানা থেকে ঘটনাস্থল অনেক দূরে হওয়ায় অভিযান পরিচালনার সময় কোনো মাধ্যমে আসামিরা খবর পেয়ে যায়। তারপরও এর মধ্যে আমি অভিযান পরিচালনা করেছি। অল্পের জন্য আসামি ফসকে গেছে। আশা করছি, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।”
পরোয়ানা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন
মামলার নথিতে চার্জশিট এবং আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও অভিযুক্তরা এলাকায় প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন—স্থানীয়দের এমন অভিযোগ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর কথা স্বীকার করার ঘটনায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও ভুয়া পুলিশ আইডিসহ যুবক গ্রেপ্তার: সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৪ পি.এম


কাউখালীতে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ ও ভুয়া পুলিশ আইডিসহ যুবক গ্রেপ্তার: সংবাদ সম্মেলন

পিরোজপুরের কাউখালীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬৯ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি, দেশীয় অস্ত্র, একটি খেলনা পিস্তল ও পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ডসহ মো: শাওন ইসলাম অপু (২৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় কাউখালী থানার সভা কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের নেতৃত্বকারী সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) প্রণয় রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে শাওন ইসলাম অপুকে বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, ওয়াকিটকি ও ভুয়া পুলিশ পরিচয়পত্রসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। অপরাধমূলক তৎপরতা রোধে পুলিশের এই 'জিরো টলারেন্স' অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চক্রটির সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধী জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীর দিকনির্দেশনায় এবং কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে থানা পুলিশ ও ফোর্সের সমন্বয়ে একটি চৌকস টিম সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী চৌরাস্তা এলাকায় মৃত শাখাওয়াত হোসেনের দোতলা ভবনের ছাদ থেকে তার ছেলে অপুকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে অপুর দেওয়া তথ্যমতে ৬৯টি শটগানের কার্তুজ, দুটি ওয়াকিটকি সেট, দুটি ধারালো ছোরা, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি ভুয়া অস্ত্রের লাইসেন্স, একটি ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড এবং একটি চামড়ার অস্ত্রের কভার উদ্ধার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ইবাদ আলী জানান, অভিযুক্ত শাওন ইসলাম অপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে কাউখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএসজিকে দিতে হবে ৬০ হাজার ইউরো জরিমানা এমবাপ্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


পিএসজিকে দিতে হবে ৬০ হাজার ইউরো জরিমানা এমবাপ্পের বিরুদ্ধে আদালতের রায়,

ফরাসি ফুটবলের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ক্লাবের সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক বিরোধের আইনি লড়াইয়ে একটি বড় ধাক্কা খেয়েছেন। প্যারিস কোর্ট অব অ্যাপিল এমবাপ্পেকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাকে তার পুরোনো ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ৬০ হাজার ইউরো পরিশোধ করতে হবে।

ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘লেকিপ’ জানাচ্ছে, আদালত ২০২৫ সালে পিএসজির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত বা জব্দ করার প্রচেষ্টার ওপর রুল জারি করে এই রায় প্রদান করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা এমবাপ্পে এবং তার পুরোনো ক্লাবের মধ্যে চলমান আইনি বিরোধে এটি পিএসজির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের আগস্টে পিএসজি ছেড়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। তবে ক্লাব ছাড়ার পর তিনি বকেয়া বোনাস ও অন্যান্য ইনসেনটিভ বাবদ পিএসজির কাছে ৬০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করেন।

ফরাসি ফুটবল লিগের (এলএফপি) আইনি কমিটির সমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিষয়টির কোনো সমাধান না হওয়ায় এমবাপ্পে ২০২৫ সালের প্রথম দিকে বিষয়টি শ্রম আদালতে নিয়ে যান। সেখানে ক্লাবের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবার উল্টো জরিমানার মুখে পড়তে হলো এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। যদিও পিএসজির জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ খুব বেশি বড় নয়, তবুও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা এটিকে পিএসজির জন্য নৈতিক ও আইনি দিক থেকে একটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


বরিশাল দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত

বরিশাল এক সময় ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ এবং নদী-খালের সৌন্দর্যে ‘বাংলার ভেনিস’ নামে পরিচিত ছিল। বন্দরে দূর-দূরান্তের বণিকদের আনাগোনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে বরিশাল দেশের সবচেয়ে দরিদ্র বিভাগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কৃষি উৎপাদন কমে গেছে, শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। যদিও গ্যাসের বড় মজুদ রয়েছে, তবুও সেই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২ অনুযায়ী, দেশের দারিদ্র্যের হার ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে এই হার ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা দেশের আট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। পূর্বে রংপুর ছিল দেশের দরিদ্রতম বিভাগ, কিন্তু এখন বরিশাল সেই অবস্থানে রয়েছে।

নতুনভাবে নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে বরিশালের মানুষ ঢাকায় চলে যাচ্ছে। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দাদের ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছে। স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বস্তিবাসীর প্রায় ১৩ শতাংশ বরিশালের।

বরিশালকে এক সময় শস্যভাণ্ডার বলা হলেও বর্তমানে ধান উৎপাদনে বিভাগটি পিছিয়ে পড়ছে। বিবিএসের ইয়ারবুক অব এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৫ অনুযায়ী, আউশ উৎপাদনে বরিশাল চতুর্থ, আমনে পঞ্চম এবং বোরো উৎপাদনে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশালে আউশ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার ২০ টন, যা পরবর্তী অর্থবছরে কমে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯৯ টনে দাঁড়িয়েছে। আমন উৎপাদনও ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৯ টন থেকে কমে ১৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ টনে নেমেছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরিশাল একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা বাড়ার ফলে অনেক জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা বিকল্প হিসেবে চিংড়ি চাষসহ অন্যান্য কাজে যাচ্ছেন।

শিক্ষাসচিব জানিয়েছেন, বিভিন্ন কলেজে সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বরিশালের মৎস্যসম্পদেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিভাগীয় মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরিশালে ৩ লাখ ৭২ হাজার টন ইলিশ উৎপাদন হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ২ লাখ ৬৬ হাজার টনে নেমেছে। তিন বছরে উৎপাদন প্রায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

বিবিএসের ২০২৫ সালের এক জরিপে দেখা যায়, ধান, গম ও শস্য উৎপাদনে বরিশালের কৃষকদের বার্ষিক নিট আয় মাত্র ৬ হাজার ৮১ টাকা, যা আট বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্ন। ভোলায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ সম্পদকে ঘিরে বড় শিল্পায়ন হয়নি।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগে শিল্প-কারখানা কার্যত সীমিত। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ জেলায় উল্লেখযোগ্য কলকারখানা নেই। বরিশাল জেলায় কারখানা রয়েছে ৪০৯টি, যেখানে কাজ করেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, যে ধরনের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কৃষি ও মৎস্যকে ঘিরে আগের অর্থনৈতিক তৎপরতাও কমেছে। ফলে কর্মসংস্থানের সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় রাজনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নদীনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিল্পায়নের অভাব বরিশালের অর্থনৈতিক বিকাশে বড় বাধা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বড় রাজনৈতিক নেতারা জাতীয় রাজনীতিতে বেশি মনোযোগী ছিলেন। পুরো অঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।

তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতি বদলাতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং দুর্গম যোগাযোগের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্প গড়ে ওঠেনি। ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, পায়রা বন্দর সচল, কুয়াকাটায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থসামাজিক কাঠামো দ্রুত বদলে যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%