নীলফামারী: জেলা প্রতিনিধি রায়হান আলী
১১:২৩ পি.এম
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের হাওয়া লাগলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি নীলফামারীর সরকারি দপ্তরগুলোতে। অভিযোগ উঠেছে, জেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে দায়িত্বরত বেশ কিছু কর্মকর্তার কথাবার্তা, আচরণ ও কর্মপদ্ধতিতে এখনও ফুটে উঠছে পুরোনো কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ছাপ। এতে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক দপ্তর, ভূমি অফিস, হাসপাতাল এবং অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে নিয়মিতই অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সই করানো কিংবা সাধারণ তথ্যের জন্য গিয়েও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মিলছে না সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলে বা কাজের অগ্রগতি জানতে চাইলে উল্টো ধমক, এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ও ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ তুলছেন অনেকে।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ঘুরতে হচ্ছে, ঘুষ ও তদবির ছাড়া কাজ হচ্ছে না। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের আগের আমলের মতোই ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তাঁদের কথাবার্তা এবং ভাবভঙ্গি দেখে মনেই হয় না যে দেশে কোনো পরিবর্তন এসেছে।"
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনিক আমূল সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমবে না। তাঁরা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই পুরোনো মনোভাব বজায় থাকলে গণঅভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে জানতে নীলফামারীর জেলা প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের আচরণের মানসিকতা পরিবর্তন এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক তরুণীকে তার মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক তুলে নেয়ার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় আসামি আবদুর রহিম রনিকে (২৩) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১১) সিপিসি-৩ এর চৌকস টিম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন (এসআরবি-১১) সিপিসি-৩ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মিথুন কুমার কুণ্ডু।
এর আগে, সোমবার রাত ৮ টা ৩৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং এসআরবি-৭, সিপিএসসি, চট্টগ্রাম যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাশে কলোনি এলাকার ইউসুফ নামে ভাড়াটিয়া এক বাসা থেকে আসামী আবুল হোসেন রনিকে (২৩) গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত রনি নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের জগদানন্দ গ্রামের বাছেদের বাড়ির সালাউদ্দিনের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে (এসআরবি-১১) সিপিসি-৩ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মিথুন কুমার কুণ্ডু আরো জানান, মামলার ভিকটিম স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আবুল হোসেন রনি অন্য আসামীদের সহায়তায় ভিকটিমকে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ভিকটিমের মা বাদি হয়ে গত ১৬ জুলাই তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল নোয়াখালীতে একটি মামলা দায়ের করেন। ফলে আদালত ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা (১৩) কে উদ্ধারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা, নোয়াখালীকে আদেশ দেন।
আসামীরা পর্দার আড়ালে থেকে ভিকটিমকে আদালতে হাজির করে এবং বিজ্ঞ আদালত তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, চট্টগ্রামে প্রেরণ করে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত ভিকটিমকে বাদীনির জিম্মায় প্রদান করে। বাদীনি ভিকটিমকে জিম্মায় নিয়ে আদালত থেকে সিএনজিতে অটোরিক্সায় ওঠার সময় আসামী রনিসহ তার সহযোগীরা তাদের ঘিরে ফেলে। আসামীরা ভিকটিমকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে বাদীনি বাধা দেন। এ সময় আসামীরা বাদীনিকে কিল ঘুষি মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। বাদীনি ভিকটিমকে হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা করলে আসামী বাদীর গলা টিপে ধরে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আসামীরা সিএনজি ও মোটরসাইকেল করে ভিকটিমকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সুধারাম থানায় মামলা দায়ের করেন ভিকটিমের মা। মামলাটি রুজু হওয়ার পর ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধারের লক্ষ্যে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং এসআরবি-৭, সিপিএসসি, চট্টগ্রাম যৌথ আভিযানিক দল চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পাশে কলোনি এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার ধামরাইয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিনকে লক্ষ্য করে হুমকি ও অশালীন বক্তব্য দেওয়ার কারণে ইউপি চেয়ারম্যান মো. রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে কৃষক দল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর আগে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল—চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এ ছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল মিছিল শেষে সমাপনী বক্তব্য দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমার লোকজন বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় সূতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই দিন চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে মারামারির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন এবং তাকে সূতিপাড়ায় আসতে বলেন। তিনি মন্তব্য করেন, "এমপি কিছু কুত্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন।" তার এই অশালীন মন্তব্যের ফলে ধামরাইয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর থেকেই বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
পরদিন রোববার স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তমিজ উদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান একজন দালাল, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। তিনি একাধিক বাড়ি-গাড়ি গড়ে তুলেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠে নির্বাচনে ভোট চেয়েছেন। বক্তব্যে তাকে দালাল, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বলা হয়নি, বরং তাকে সন্ত্রাসীদের গডফাদার বলেও মন্তব্য করা হয়।
অন্যদিকে শারদীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমরা ধামরাইয়ে শান্তি চাই। দলের চেইন অব কমান্ড মানতে হবে। কোথাকার কে আমাদের এমপি সাহেবের সাথে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাকে বলতে চাই—তোমাকে শায়েস্তা করতে আমার মহিলা দলই যথেষ্ট।"
উল্লেখ্য, বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় সূতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে প্রধান আসামি করে এবং ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় সোহেল মাহমুদ নামের একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমাকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রান্তিক জনগণের নাগরিক সেবা সহজ ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তৃণমূল স্তরে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও নির্ভুল ও সুশৃঙ্খল করার চিন্তাভাবনা চলছে, এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা ধরনের ভুল ও জটিলতা দেখা দিচ্ছে। দেশের মোট জনসংখ্যার সঠিক হিসাব ছাড়া সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্যের চাহিদা নিরূপণ, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে একটি নির্ভুল ডেটাবেজ থাকা অত্যন্ত জরুরি।’
জন্মনিবন্ধন সনদ শিশুর আইনি পরিচিতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন সনদের ওপর ভিত্তি করেই শিশুর জন্মতারিখ, জন্মস্থান, পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব এবং জাতীয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়।’
তিনি আরও জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের ভিত্তিতে দেশের গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১৯৮০ ও ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার সংক্রান্ত আইনগুলোকে সমন্বিত করে একটি নতুন ও যুগোপযোগী গ্রাম সরকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করে জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধনের কাজগুলো তৃণমূল মানুষের একেবারে কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হবে। এতে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ভোগান্তি কমবে এবং ডেটাবেজে ভুয়া ও দ্বৈত এন্ট্রি রোধ করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে সরকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘একক ডিজিটাল আইডি’ (ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি) ও ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ‘বিডিআরআইএস’ নামক জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পদ্ধতিকে পুনরায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিস্টেমে ‘বিডিআরআইএস’ হলো এই উদ্যোগের প্রাথমিক বা প্রাইমারি সিস্টেম। তাই এই সিস্টেমের তথ্য ভুল হলে সরকারের উদ্যোগটি হুমকির মুখে পড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর শহরের কোতয়ালী থানা এলাকার মধ্যে পৃথক দুটি অভিযানের মাধ্যমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০) একটি বিদেশি রিভলবার, তাজা কার্তুজ, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, ওয়াকিটকি এবং সেনাবাহিনীর পোশাকসহ সাফায়েত আহমেদ (৩৬) নামের এক ভুয়া সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং এসব সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-১০ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানাধীন উত্তর কালীবাড়ি এলাকার জেনারেল হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনে মাদক বেচাকেনার খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। এরপর ভবনে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলবার এবং ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে একই দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে নীলটুলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে অপর এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে পালানোর চেষ্টা করার সময় চরকমলাপুর এলাকার মৃত বশির আহমেদের ছেলে সাফায়েত আহমেদকে আটক করা হয়।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ২টি ককটেল, ১টি খেলনা রিভলবার, ১টি চাইনিজ কুড়াল, ১টি রামদা, ১টি ছুরি, ১টি সুইচ গিয়ার, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি ট্রেজার গান, ২৫ রাউন্ড গুলির খোসা, ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি সেনাবাহিনীর ক্যাপ, ১টি এপিবিএন-এর ক্যাপ এবং ১টি সেনাবাহিনীর কোমর বন্ধনী উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক সাফায়েত দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি মাদক ও একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করে এসআরবি-১০ এর সিপিএসসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো: শাহরিয়ার রিফাত অভি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ দমনে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ