ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আসামি ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ


আসামি ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশ স্থানীয়দের বাধার সম্মুখীন হয়। এক পর্যায়ে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে আটক করার পর, পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

পরে তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সম্পত্তি দখল করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আটক ব্যক্তিরা হলেন হাজরাকাটি গ্রামের মৃত আপু বিশ্বাসের ছেলে মো. ফারুক বিশ্বাস, নূর ইসলাম বিশ্বাসের ছেলে রফিকুল বিশ্বাস এবং মোসলেম খাঁর ছেলে রাশেদ খাঁ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ নম্বর খলিলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য সোহেল শেখ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর আগে একাধিক মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর জেরে গত শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে হাজরাকাটি বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে সোহেল শেখের ওপর হামলা হয়। বিল্লাল বিশ্বাস, ফারুক বিশ্বাস এবং হযরত সরদারসহ কয়েকজন তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে আহত করেন এবং হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সোহেল। পরে তাকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে সোহেল শেখ তালা থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আরও পড়ুন: দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

অভিযোগ এবং জিডির ভিত্তিতে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তালা থানা পুলিশের একটি দল হাজরাকাটি গ্রামে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে যায়। এ সময় পুলিশ হযরত নামে এক অভিযুক্তকে আটক করলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে, আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অভিযানকারী পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, এ সময় মাদক কারবারিদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন নূর ইসলাম বিশ্বাস নুরু। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে অভিযান চালিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ফারুক বিশ্বাস, রফিকুল বিশ্বাস এবং রাশেদ খাঁকে আটক করা হয়।

ওসি বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় করা অভিযোগ এবং জিডির ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে যায়। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে একটি দল সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধ, জলবায়ু ও অভিবাসনে জটিল বিশ্ব, জাতিসংঘের নতুন প্রধানের বড় চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


যুদ্ধ, জলবায়ু ও অভিবাসনে জটিল বিশ্ব, জাতিসংঘের নতুন প্রধানের বড় চ্যালেঞ্জ

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাটি যে শক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ৮১ বছর বয়সী সেই প্রতিষ্ঠান এখন ক্রমবর্ধমান জটিল বিশ্বে বিভিন্ন সংকটের মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, সে বিষয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) এপি নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এক সময় জাতিসংঘ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কিন্তু বর্তমানে ইরান, ইউক্রেন এবং গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় সংস্থাটির ভূমিকা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাওনা কয়েক শ কোটি ডলারসহ আর্থিক সংকটের কারণে জাতিসংঘকে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যাপক কাটছাঁট করতে বাধ্য হতে হয়েছে।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের বক্তব্যে পরবর্তী মহাসচিবের সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাধারণ পরিষদে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে উল্লেখ করেন, "বিশ্বের এখন দুর্বল জাতিসংঘের প্রয়োজন নেই।" তিনি বলেন, "এমন একটি জাতিসংঘ প্রয়োজন, যা বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী এবং ভবিষ্যৎ বিশ্বকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"

গুতেরেস ১০ বছর জাতিসংঘের নেতৃত্ব দেওয়ার পর বলেন, সবার জন্য কার্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই সংস্থাটির সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, "মানবতা ক্ষমতাকে কতটা বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারে, তার ওপরই যৌথ ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।"

গুতেরেস জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব এবং বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, "আইনের শাসনকে দায়মুক্তির স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার আগেই রক্ষা করা যাবে কি না, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে যুদ্ধ বন্ধ করা যাবে কি না, সমাজ ভেঙে পড়ার আগে বৈষম্য কমানো যাবে কি না।"

এছাড়া তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক সীমা অতিক্রমের আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই তা পরিচালনার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

২১ শতকের উপযোগী করতে হবে জাতিসংঘকে

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তবে তার প্রধান দায়িত্ব হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী কাঠামোর পরিবর্তে ২১ শতকের বাস্তবতা অনুযায়ী জাতিসংঘকে নতুনভাবে সাজানো।

উন্মুক্ত সমাজ ইনস্টিটিউটের প্রচার বিভাগের পরিচালক কিজিতো বিয়েঙ্কিয়া বলেন, "কয়েক দশকের মধ্যে জাতিসংঘের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অপেক্ষা করছে নতুন মহাসচিবের জন্য।" তিনি মনে করেন, জাতিসংঘ দীর্ঘদিন পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আর্থিক সংকটের কারণে বাজেট কমানো, বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংস্থাকে একীভূত করা এবং শত শত পুরোনো নির্দেশনা বাতিলের চেষ্টা চলছে।

তবে একই সঙ্গে নতুন মহাসচিবের ওপর বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনে আরও সক্রিয় হওয়ার চাপও থাকবে বলে তিনি জানান। বিয়েঙ্কিয়া প্রয়াত মহাসচিব কফি আনানের উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেন, তিনি বিভিন্ন সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়েছিলেন এবং দক্ষ মধ্যস্থতাকারী ও আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

গাজা, সুদান এবং ইউক্রেনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাতের দিকে তাকিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এসব সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকা কোথায়?" তার মতে, কফি আনানের সময় জাতিসংঘ সংঘাত নিরসনের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিল।

সংস্কারের কথা সহজ, বাস্তবায়ন কঠিন

জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে একের পর এক বিশ্বনেতা সংস্থাটির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে সংস্কারের উদ্যোগ নিতে গেলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দেয়।

বিশেষ করে জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। জাতিসংঘের সব সদস্য দেশই চান নিরাপত্তা পরিষদে বর্তমান বিশ্বের বাস্তব প্রতিফলন থাকুক। কিন্তু পরিষদে নতুন সদস্য যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স—ভেটো ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে প্রায় দেড়শ কোটি মানুষের মহাদেশ আফ্রিকার কোনো স্থায়ী আসন নেই। লাতিন আমেরিকারও কোনো স্থায়ী আসন নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্তিত্বের হুমকিতে থাকা দ্বীপরাষ্ট্রগুলোরও নেই স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব।

ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা গত সপ্তাহে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, "নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আফ্রিকার প্রতি কোনো দয়া নয়; বরং জাতিসংঘের বৈধতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও টিকে থাকার জন্য এটি অপরিহার্য।"

নতুন মহাসচিবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামা বলেন, "বিশ্ব এখন তীব্র বিভক্তি, বাড়তে থাকা বৈষম্য এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি কমে যাওয়া আস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।" তিনি বিশ্বব্যবস্থার বিপজ্জনক ভাঙন ঠেকানোর আহ্বান জানিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা বাড়ার বিষয়েও সতর্ক করেন।

তিনি জাতিসংঘ সনদের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ বিংশ শতাব্দীর দুটি বিশ্বযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।" তাই "শক্তিই ন্যায়"—এমন ধারণার পরিবর্তে জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন অভিজিৎসহ শীর্ষ ককরোচ নেতারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫১ পি.এম


গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন অভিজিৎসহ শীর্ষ ককরোচ নেতারা?

ভারতের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস।

আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে এই গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তার দাবি, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, রত্না সিংসহ তাকেও গ্রেফতার করা হতে পারে।

রোববার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ দাস বলেন, "সরকার যদি মনে করে গ্রেফতার করে প্রতিবাদ দমন করা যাবে, তবে তারা ভুল করছে। তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে।" নেতাদের গ্রেফতার করা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সৌরভের বক্তব্য, তারা জেল কিংবা আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে নেতৃত্বকে গ্রেফতার করে আন্দোলন থামানো যাবে না। ১০ অক্টোবর থেকে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, "কতজনকে গ্রেফতার করা হবে?" তার দাবি, ১০ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে আসবেন। তবে সরকার সত্যিই দলটির নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে।

ভোটার তালিকা ঘিরে ক্ষোভ ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু যোগ্য ভোটারের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে তারা।

গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুলিশ অনুমতি না দিলেও সেখানে জমায়েত হয়। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানির মতো পরিচিত মুখের উপস্থিতি আন্দোলনটির প্রতি বাড়তি দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

শিক্ষার্থী সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। এরপর দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবর বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে দলটি। তাদের লক্ষ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভকে দেশব্যাপী প্রতিবাদে রূপ দেওয়া।

বিজেপি কি চাপে?

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে বিজেপি এই তরুণদের আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। গ্রেফতারের অভিযোগ সত্য হলে তা আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না মিললে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।

দলটির সাম্প্রতিক কর্মসূচি থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে থেমে থাকতে চায় না। মুম্বাইয়ের পর দিল্লিতে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা সেই কৌশলেরই অংশ।

১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে কত মানুষ যোগ দেন এবং প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জমিতে বন্দিশিবির ও সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে আরাকান আর্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫২ পি.এম


রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জমিতে বন্দিশিবির ও সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে আরাকান আর্মি

মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৪ সালে রাখাইনের রাজ্যের বিস্তৃত অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো ধ্বংস করে, তাদের জমির ওপর বন্দিশিবির, সামরিক ঘাঁটি এবং বসতি নির্মাণ করছে।

সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এর একটি অনুসন্ধানে।

স্যাটেলাইট ছবি, জাতিসংঘের গবেষণা এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অনুসন্ধানে বাংলাদেশের সীমান্তের নিকটবর্তী বুথিডং টাউনশিপের হ্নগেট থায় এলাকায় একটি ধানখেতের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওই জমিতে রোহিঙ্গারা চাষাবাদ করতেন। কিন্তু ২০২৬ সালে সেখানে ১২০টি ধূসর রঙের ভবন দেখা যায়। এগুলো আরাকান আর্মি পরিচালিত বন্দিশিবিরের স্থাপনা। সেখানে আশপাশের এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে রাখা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া তারা ওই শিবিরে ঢুকতে বা বের হতে পারেন না।

আরাকান আর্মি উত্তর রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এ ধরনের অন্তত ১০টি শিবির নির্মাণ করেছে।

রাখাইনে মিয়ানমার শাসনকারী জান্তাবাহিনী এবং বৌদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের পর থেকে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছেন। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে থাকা ১৮ বছর বয়সি মুহাম্মদ আরেস বলেন, ‘আরাকান আর্মি প্রথম যখন আসে, তখন আমাদের এলাকায় তীব্র লড়াই শুরু হয়। এসব সংঘর্ষের সময় অনেক বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আরাকান আর্মি আমাদের পুরো গ্রাম পুড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়...তারা সব বাস্তুচ্যুত মানুষকে একত্র করে জোর করে শিবিরে নিয়ে যায়।’ আরেস জানান, ‘তারা মূলত আমাদের মাতৃভূমিকে জোরপূর্বক শ্রমের শিবির ও সামরিক ঘাঁটির একটি নেটওয়ার্কে পরিণত করেছে। তারা আমাদের জমিতে বাড়ি বানিয়েছে।’

মায়ু নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোর একটি সারি রয়েছে ওয়েত নিয়ো তাউং এলাকায়। বন্দিশিবিরটি সেখান থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওই এলাকা পুড়িয়ে দেওয়ার সময় রোহিঙ্গা কৃষক ও নৌকার মাঝিরা তাদের বাড়ি, কৃষিজমি ও ফলের বাগান হারান। ২৬ বছর বয়সি মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘তারা সব বড় গাছ ও ফলের বাগান কেটে ফেলেছে এবং পুরো জমি পরিষ্কার করে দিয়েছে। তারা গ্রামের ভৌত কাঠামো পুরোপুরি মুছে দিয়েছে। তারা আমাদের জমিতে বাড়ি বানিয়েছে।’

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানান, তাদের নিজেদের বাড়ি ভেঙে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং সেই বাড়ির উপকরণ ব্যবহার করে বিদ্রোহীদের জন্য নতুন স্থাপনা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ওয়েত নিয়ো তাউং এলাকায় ‘এপি ব্যাটালিয়ন’ নামে পরিচিত সামরিক ব্যারাকও ছিল। তরুণ রোহিঙ্গারা জানান, সেখানে তাদের জোর করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

সাদিক বলেন, ‘তারা আমাদের রাস্তা পরিষ্কার করতে, পরিখা খুঁড়তে এবং তাদের শিবিরের ভেতরে কায়িক শ্রম করতে বাধ্য করত। কেউ ক্লান্তিতে পড়ে গেলে তাকে রোদের মধ্যে ফেলে রাখা হতো।’

জাতিসংঘের এক অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের অন্তত ৮০০ হেক্টর জমি দখল করে সেখানে শিবির, অন্য সম্প্রদায়ের জন্য বসতি অথবা সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের গবেষণায় ওই সময়ে আরাকান আর্মির রোহিঙ্গাদের জমি দখল বা রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত করার অন্তত ২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

২০২৪ সাল থেকে এক লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর মিয়ানমারে থেকে যাওয়া আনুমানিক ৬ লাখ রোহিঙ্গার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই সময়ে দেশ ছেড়েছে। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বর্তমানে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ দ্য গার্ডিয়ানকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির শেষ এখানেই, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যতদিন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সহ্য করতে পারবে, ততদিন কারাগারের মতো শিবিরগুলোতে থাকতে পারে। কিন্তু তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।’

দ্য গার্ডিয়ানের সংগ্রহ করা সাক্ষ্য এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রতিফলিত তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেফতার, জোরপূর্বক শ্রম, জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ এবং ‘কর’ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব কৌশল এর আগে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করেছে।

৩২ বছর বয়সি একজন জানান, তাকে জোর করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং এক মাস আটক থাকার সময় বারবার মারধর করা হয়। আরেকজন জানান, আরাকান আর্মির সদস্যরা তার ২২ বছর বয়সি মেয়েকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয় এবং সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য করা হয়। হ্নগেট থায় বন্দিশিবিরে থাকা অনেকেই ২০২৪ সালের ২ মে হোইয়ার সিরিতে সংঘটিত গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তালিকায় সেখানে নিহত বা নিখোঁজ হওয়া ১৭০ জনের বেশি গ্রামবাসীর তথ্য রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শিশু। আরাকান আর্মি যুদ্ধাপরাধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা শুধু সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা ইন্ডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমারের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর হামলার পরিকল্পনাকারীদের লক্ষ্য ছিল ‘মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা তৈরি করা’। তবে রোহিঙ্গাদের জমি ধ্বংসের জন্য আরাকান আর্মিই দায়ী, এমন কোনো তথ্য জাতিসংঘের ওই তদন্ত ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত করেনি বলে জানান তিনি।

কুমজিয়ান বলেন, ‘মিয়ানমারের ভেতরে এখনো থাকা রোহিঙ্গাদের চলমান সংঘাতের সব পক্ষই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক টম ড্যানেনবাম বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর জবরদস্তি এবং তাদের নিজ এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার এই সমন্বিত কর্মকাণ্ড ‘জনসংখ্যা স্থানান্তর’-এর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মিয়ানমারের নির্বাসিত জাতীয় ঐক্য সরকারের সম্প্রতি পর্যন্ত একমাত্র রোহিঙ্গা সদস্য অং কিয়াও মো বলেন, ‘মূল বিষয়টি এখন আর এটা নয় যে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে টিকে থাকতে পারবে কিনা। বরং প্রশ্ন হলো, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে কিনা, যা তাদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করা এবং তাদের ভৌত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি মুছে ফেলার বিষয়টিকে অপরিবর্তনীয় করে দেবে।’

জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার শুনানি শুরু করা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এর আগে ‘পরিকল্পিতভাবে মানুষকে উচ্ছেদ করা এবং তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করাকে’ গণহত্যার একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেছে। চলতি মাসেই আইসিজে রায় দেওয়ার কথা রয়েছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হয়েছিল কিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান: তীব্র গরমে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ঝুঁকি বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান: তীব্র গরমে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের ঝুঁকি বাড়ছে

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল সতর্ক করেছেন যে, তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোমবার ফিজির নাদিতে অনুষ্ঠিত ‘প্রাক-কপ’ জলবায়ু সম্মেলনে তিনি একটি নতুন জরিপের তথ্য উপস্থাপন করবেন।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, পাঁচ মহাদেশের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী গত পাঁচ বছরে গর্ভাবস্থা ও প্রসবসংক্রান্ত জটিলতা তীব্র গরমের কারণে দেখেছেন।

স্টিয়েল মন্তব্য করবেন, ‘তাপমাত্রা যত বাড়ছে, গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিও তত বাড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ ক্রমেই সময়ের আগে সন্তান জন্ম, মৃত সন্তান প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম এবং মায়ের বিভিন্ন জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হচ্ছে।’

স্টিয়েল সতর্ক করে বলেন, ‘এটি স্পষ্ট এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চরম তাপমাত্রার পরিস্থিতি যত খারাপ হচ্ছে, গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদান বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের নতুন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্ভোগ, বৈষম্য ও অবিচারের আরেকটি গভীর খাদে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।’

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো আরও তীব্র হয়ে উঠছে এবং আগের তুলনায় ঘন ঘন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

এএফপির বিশ্লেষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য ব্যবহার করে দেখা গেছে, চলতি বছর পশ্চিম ইউরোপ থেকে সাহেল অঞ্চল এবং মধ্য আমেরিকা পর্যন্ত প্রায় ৩৩টি দেশ রেকর্ড শুরুর পর সবচেয়ে উষ্ণ জুলাই পার করেছে।

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ব্রাজিল ও জিম্বাবুয়ের ১ হাজার ধাত্রী ও চিকিৎসকের ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়েছে। দাতব্য সংস্থা ওয়েলকাম জরিপটির অর্থায়ন করেছে।

সংস্থাটির চেয়ারওম্যান ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

তিনি বলেন, ‘তীব্র তাপ একটি অদৃশ্য ঘাতক। কিন্তু গর্ভবতী নারীদের অদৃশ্য করে রাখা যাবে না। নেতাদের হাতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমাধান রয়েছে—এখন তাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’

জরিপে দেখা গেছে, প্রায় সব ধাত্রী ও চিকিৎসকই এমন মা বা নবজাতকের চিকিৎসা করেছেন, যারা তীব্র গরমের কারণে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগেছেন।

প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসাকর্মী জানিয়েছেন, তারা এমন রোগী দেখেছেন যাদের কম ওজনের শিশু জন্ম, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, শিশুকে দুধ খাওয়াতে সমস্যা, পানিশূন্যতা বা তাপজনিত অসুস্থতা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যার পেছনে তীব্র গরমকে তারা অন্যতম কারণ বলে মনে করেছেন।

প্রাক-কপ সম্মেলনে স্টিয়েল প্রতিনিধিদের বলবেন, ‘গর্ভাবস্থা আশার একটি সময় হওয়া উচিত।

তবে তিনি সতর্ক করবেন, যে ‘কোটি কোটি মানুষের জন্য এটি এখন উদ্বেগের সময়ে পরিণত হচ্ছে, কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তাদের দৈনন্দিন জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।’

ফিজি এবং দূরবর্তী প্রবাল দ্বীপ তুভালুতে অনুষ্ঠিত প্রাক-কপ-৩১ সম্মেলনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখসারিতে থাকা মানুষের জীবন ও বাস্তবতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

এই বৈঠক আগামী মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের বৃহৎ বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এর প্রস্তুতিপর্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%