ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষিজমি ভরাট চলছেই, খাদ্য উৎপাদন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা


কৃষিজমি ভরাট চলছেই, খাদ্য উৎপাদন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

বিতুল পারওয়ান বিল ছিল একসময় পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের ধান ও মাছের প্রধান উৎস। এই বিল গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বিতুল, পারওয়ান, রয়েন, সিপুলিয়া ও পিপুলিয়া গ্রামের মানুষের চাহিদা মেটাতো।

২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে জমি কিনে ঐতিহ্যবাহী এই বিল ভরাট করতে শুরু করেছে। সড়কের পাশে পাকা দেয়াল ও টিনের বেড়া দিয়ে রাতের অন্ধকারে ভরাট করা হচ্ছে বিলের জমি। ফলে এলাকার ফসল ও মাছের উৎস বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ বিলের অবস্থা বিতুল পারওয়ান বিলের মতোই। এসব বিলের কৃষিজমি ভরাটের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এতে খাদ্য উৎপাদন কমার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: বালিয়াকান্দিতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৩৩০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৫১ হেক্টর জমি এক ফসলি, চার হাজার ৭৮ হেক্টর দুই ফসলি এবং দুই হাজার ২০০ হেক্টর জমি তিন ফসলি।

কিন্তু কী পরিমাণ কৃষিজমি ভরাট হয়েছে বা ভরাট হওয়ার পথে রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ও আজ মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নিচু ও আবাদযোগ্য জমিতে মাটি ফেলে উঁচু করা হচ্ছে। কোথাও জমির একাংশ ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও ভরাটের প্রস্তুতি চলছে। কৃষিজমির পাশেই পড়ে থাকতে দেখা যায় মাটির স্তূপ। সড়কের পাশে বিল বা নিচু কৃষিজমি ভরাট হচ্ছে প্রকাশ্যেই।

স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করে। তবে সংশ্লিষ্টরা চলে যাওয়ার পর ফের শুরু হয় ভরাটের কাজ। নাগরী বাজারসংলগ্ন সড়কের পাশে দেখা যায়, ইট ও টিনের দেয়াল তুলে নির্মাণ করা হয়েছে গেট। রাত হলেই শুরু হয় জমি ভরাটের কাজ।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে শীতলা মন্দিরের জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নাগরী ইউনিয়নের গলান এলাকায়ও চলছে বিল ভরাটের কাজ। এতে একদিকে ফসলি জমির স্বাভাবিক চরিত্র বদলে যাচ্ছে, অন্যদিকে পানি অপসারণের পথও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষিজমি ভরাটের ফলে প্রতিবছর আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। আগে যেসব এলাকায় ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন হতো, সেসব জমি ধীরে ধীরে বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজধানীর পূর্বাচলঘেঁষা গাজীপুরের কালীগঞ্জে সাইনবোর্ড সর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠান কৌশলে মাটি ভরাট করে কৃষিজমি নষ্ট করছে। আবার কিছু বৈধ কোম্পানি আইনের তোয়াক্কা না করে মাটি ভরাট করছে। বেআইনি ও অপরিকল্পিতভাবে জমি ভরাটের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। খাল, নালা ও নিচু জমি ভরাট হয়ে গেলে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে না পেরে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, উন্নয়ন প্রয়োজন, কিন্তু উন্নয়নের নামে নির্বিচারে কৃষিজমি ভরাট কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের জন্য নির্ধারিত এলাকার বাইরে কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষিজমি ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরিবেশগত বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, উপজেলায় কোথায় কতটুকু কৃষিজমি ভরাট হচ্ছে, তার সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং আইন লঙ্ঘন করে ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে সন্দ্বীপে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নাগরী এলাকার একজন কৃষক সুবল চন্দ্র দাস বলেন, এখনই যদি কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে কালীগঞ্জের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ হারিয়ে যেতে পারে। কৃষিজমির জায়গা দখল করবে কংক্রিটের স্থাপনা—এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও পড়বে হুমকিতে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই কৃষিজমি ভরাট হচ্ছে। আরো কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা উচিত।

গাজীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠন চেতনা গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক কবি মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রকৃতির লীলাভূমি গাজীপুরের খাল বিল নদী নালা ও বন আমাদের অলংকার। এই সম্পদ ধ্বংসের জন্য কিছু অসাধু ব্যক্তি দায়ী। তারা কৃষিজমি ও খাল-বিল ভরাট করছে, যা গাজীপুরের জন্য হুমকি। অচিরেই জেলার ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কালীগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষিজমি ভরাটের খবর পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত যাচ্ছে। কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সড়কের পাশে দেয়াল নির্মাণ করে ভেতরে বিল ভরাটের ছবি দেখে তিনি বলেন, ‘এটি অবৈধ। ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

আরও পড়ুন: ত্যাগীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি মোঃ ফারুক আলীর

কৃষি থেকে পাওয়া উল্লেখিত তথ্য প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘কৃষিজমির এই পরিসংখ্যান আমি অফিসে যোগদান করার পর পেয়েছি, যা আপডেট ধরে নিয়ে কাজ করছি।’ কৃষিজমি ভরাট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ কৃষিজমি ভরাট করলে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোয়েল মল্লিক প্রথমবার ধারাবাহিক নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


কোয়েল মল্লিক প্রথমবার ধারাবাহিক নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে

পশ্চিমবঙ্গের সিনেমায় দীর্ঘকাল ধরে সফলতার সঙ্গে অভিনয় করে আসছেন কোয়েল মল্লিক। বাবা রঞ্জিত মল্লিকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি অভিনয়ে প্রবেশ করেন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের জন্য একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তবে এত দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টেলিভিশনের ধারাবাহিক নাটকে তাকে কখনো দেখা যায়নি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।

জীবনের ৪৪ বছরে এসে কোয়েল প্রথমবারের মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জনপ্রিয় সিরিয়ালের আদলে বাংলায় নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন একটি ধারাবাহিক। এই ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করবেন কোয়েল।

তবে ধারাবাহিকটির নাম এবং পরিচালকের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। শোনা যাচ্ছে, এটি সনি আট চ্যানেলে প্রচারিত হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

এর আগে টেলিভিশনের পর্দায় কোয়েল একাধিকবার উপস্থিত হয়েছেন। বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পাশাপাশি ‘কথা ও কাহিনী’ শিরোনামের একটি টক শোও উপস্থাপন করেছেন। তবে ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করা এবারই প্রথম।

২০০৩ সালে ‘নাটের গুরু’ সিনেমার মাধ্যমে কোয়েলের বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। এরপর ‘বন্ধন’, ‘নীল আকাশের চাঁদনি’, ‘হিরো’, ‘প্রেমের কাহিনী’, ‘মন মানে না’, ‘বলো না তুমি আমার’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘পাগলু’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘রংবাজ’, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও কোয়েল নাম লিখিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে দলটির পরাজয়ের পর মাস দুয়েকের মধ্যেই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান এই অভিনেত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিল্পী আবু সাঈদ খানের শাশুড়ি সালেহা খাতুন ৮৬ বছরে মারা গেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


শিল্পী আবু সাঈদ খানের শাশুড়ি সালেহা খাতুন ৮৬ বছরে মারা গেলেন

বীর মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও লেখক আবু সাঈদ খানের শাশুড়ি সালেহা খাতুন মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৮৬ বছর।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সালেহা খাতুন ঢাকার ধামরাইয়ের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি ব্যবসায়ী মরহুম মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার দুই ছেলে বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন এবং ছোট মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

মরহুমার নামাজে জানাজা আগামীকাল বুধবার বাদ আসর আজিমপুর কবরস্থান মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শহীদদের আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শহিদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের ১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা আলহাজ শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মা ফারহানা দিবা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে জনগণের নিরন্তর ও আপসহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আমরা আজকের এই বাংলাদেশ পেয়েছি, যার সুবাদে আজ আমরা মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে কথা বলতে পারছি।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যেখানে মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসন থাকবে।

 

অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার মা-বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সন্তানের ফেলে যাওয়া স্মৃতি মনে করে তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এলে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়স্পর্শী ও নিস্তব্ধ পরিবেশ নেমে আসে।

অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে তার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফারহান ফাইয়াজ (মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া) শহীদ হন। তিনি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

 

২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ গবেষণামূলক কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ন্যায়সংগত দাবিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ধানমণ্ডি এলাকায় রাজপথে নামেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত হামলায় তিনি সরাসরি বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে ধানমণ্ডির সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক আত্মত্যাগের মাধ্যমে শহীদ ফারহান ফাইয়াজ আজ দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে এক চিরস্মরণীয় প্রেরণার প্রতীক।

অনুষ্ঠানে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘লাল’ ও ‘সবুজ’ দলের মধ্যে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বিজয়ী দল ‘লাল’-এর খেলোয়াড়দের হাতে মন্ত্রী ও শহীদ ফারহান ফাইয়াজের মা-বাবা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম। অনুষ্ঠানে শহীদ ফারহান ফাইয়াজের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমি দখল, মূর্তি চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ জামাত নেতার বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পিরোজপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০৬ পি.এম


জমি দখল, মূর্তি চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ জামাত নেতার বিরুদ্ধে

 

 
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর, কষ্টিপাথরের মূর্তি চুরি, সংখ্যালঘু পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম হাওলাদার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
 
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সমুদয়কাঠী গ্রামের মৃত মাখন লাল আইচের ছেলে সমীর রঞ্জন আইচ ও উত্তম আইচ ১৯৯৮ সালের ২৩ মার্চ তিনটি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তাদের সম্পত্তির একটি অংশ আব্দুর রহমান হাওলাদারের দুই ছেলে শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ও সিদ্দিকুর রহমান হাওলাদারের কাছে যৌথভাবে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
 
অভিযোগ রয়েছে, শফিকুল ইসলাম অপর ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমানকে বাদ দিয়ে একটি অনিবন্ধিত চুক্তিপত্রের ভিত্তিতে আদালতে একতরফা ডিক্রি নেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ডিক্রিকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই ছাড়া অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, সমুদয়কাঠী এলাকায় কয়েকটি হিন্দু পরিবারের জমি ও বসতভিটা নিয়ে শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। ‘মুন্সি বাড়ি’ নামে পরিচিত রবি মুন্সি, সুমন মুন্সি ও সুজন মুন্সির পারিবারিক জায়গা দখল এবং তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া ‘ধোপা বাড়ি’র বিমল ধোপা, অমল ধোপা ও মানিক ধোপার বসতভিটার জমি নিয়েও দখলের অভিযোগ রয়েছে।
 
স্থানীয়দের আরও দাবি, সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন বোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট যতীন আইচ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য দান করেছিলেন এমন একটি পুকুর ও সরকারি রাস্তার সংলগ্ন কয়েক বিঘা জমি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। সেখানে বাগান করার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব জমির প্রকৃত মালিকানা, সরকারি সম্পত্তির অবস্থান ও দখলের বিষয়টি ভূমি রেকর্ড, খতিয়ান, দলিল এবং সরেজমিন পরিমাপের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
 
মঠ-মন্দির ভাঙচুর ও মূর্তি চুরির অভিযোগ
এলাকার একটি পুরোনো মঠ ও মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শীতলা মন্দিরের জায়গা দখলের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সমীর আইচের বাড়ির ভেতরে থাকা তিনটি মন্দিরের মধ্যে একটি কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি এবং একটি কষ্টিপাথরের সরস্বতী মূর্তি চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
 
তবে মূর্তি দুটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে, আদৌ চুরি বা পাচারের ঘটনা ঘটেছে কি না এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন।
 
ওয়ান-ইলেভেনের সময় দুই সিন্দুক নিয়ে রহস্য
শফিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে ওয়ান-ইলেভেনের সময় রাতে দুটি বড় সিন্দুক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই সময় প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি মোটা বাঁশের সাহায্যে দুটি বড় সিন্দুক বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং সেগুলো ট্রলারে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম সাঈদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন বলে তাদের দাবি।
 
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে নাজমুল ইসলাম সাঈদ ও তার সঙ্গে থাকা জাকির হোসেন খানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কয়েক দিন পর বেকুটিয়া ফেরিঘাট এলাকার ‘নাক পোড়া এনামুল’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি শফিকুল ইসলামের বাড়িতে এসে ওই সিন্দুকসহ আরও কিছু মালামাল তিনটি ট্রলারে করে নিয়ে যান বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে সিন্দুক দুটির ভেতরে কী ছিল, কোথায় নেওয়া হয়েছিল এবং ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি বা স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি কেবল স্থানীয়দের দাবির পর্যায়েই রয়েছে।
 
রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে শফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হন বলে তারা দাবি করছেন।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ করেছেন।
 
শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে গভীর রাতে এলাকায় ঘোরাফেরা এবং সংখ্যালঘু পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।
একই সঙ্গে তিনি কখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করেছেন কি না, করে থাকলে তার চাকরির রেকর্ড কী এবং সেনাবাহিনীর পোশাক তার কাছে কীভাবে এসেছে এসব বিষয়ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
স্থানীয়দের দাবি, জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর, মূর্তি চুরি বা পাচার, সরকারি সম্পত্তি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগগুলো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তারা অভিযোগকৃত জমির দলিল, খতিয়ান ও নামজারি যাচাই, সরকারি ও ধর্মীয় সম্পত্তি সরেজমিনে পরিমাপ, পুরোনো মঠ-মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব যাচাই, মূর্তি দুটির সন্ধান, সেনাবাহিনীর পোশাক ব্যবহারের অভিযোগ এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের দুই সিন্দুকের ঘটনা নিয়ে পুরোনো নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের কোনো অংশ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা হোক।
 
শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের সঙ্গে এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
 
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক অশোক সিকদার বলেন, নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নে জমি দখল, ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর, কষ্টিপাথরের মূর্তি চুরি এবং সংখ্যালঘু পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ পেয়েছি। সমুদয়কাঠী এলাকার ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন, নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং ষড়যন্ত্রকারীদের দ্রুত আইনের আওতাধীন করার দাবী জানাচ্ছি।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%