১০:৪০ পি.এম
ইরানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক সংঘাতের ব্যয় সামলাতে গিয়ে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বেড়ে যাওয়ার ফলে, মূল্যস্ফীতির এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
ইরানি শ্রমিক সংবাদ সংস্থা (আইএলএনএ) দেশটির পরিসংখ্যান কেন্দ্রের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই মাসে পণ্যের দাম বেড়েছে ৮৭.৯ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য ও পানীয়ের দাম বেড়েছে ১২৮.১ শতাংশ।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। জুলাই মাসে মাসিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩.১ শতাংশ।
আরও পড়ুন: বিল গেটসের ৭১তম জন্মদিনে দানের ঘোষণা, সম্পদের প্রায় সবটাই মানবকল্যাণে
মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দাম রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে গেছে।
আইএলএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমজীবী একটি পরিবারের ন্যূনতম মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ৯ কোটি তোমান। বিপরীতে সর্বনিম্ন মজুরির একজন শ্রমিক মাসে পান প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ তোমান। অর্থাৎ একজন ন্যূনতম মজুরির শ্রমিকের আয় দিয়ে পরিবারের মৌলিক ব্যয়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি মেটানো সম্ভব হচ্ছে।
শ্রমিক অধিকারকর্মী ফারামার্জ তৌফিঘির মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়ানোর কারণে অনেক শ্রমিক মাসের মাত্র আট দিন পর্যন্ত নিজেদের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে পারছেন। তিনি বলেন, মাস শেষে বাকি ২০ দিনেরও বেশি সময় কার্যত কোনো অর্থ তাদের হাতে থাকে না।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ইরানের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধির ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমেই কমছে।
আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন