০৪:২৭ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার দুই শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির চাহিদাকে সামনে রেখে বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি এআই চিপের চাহিদা কমে যায়, তাহলে এই বিনিয়োগ বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রয়টার্সে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুই প্রতিষ্ঠান একত্রে প্রায় ৩ হাজার ২০০ ট্রিলিয়ন ওন বা প্রায় ২ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন চিপ ক্লাস্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটিতে মেমোরি চিপ উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করতে চায়। এর জন্য ইয়ংইন সেমিকন্ডাক্টর ক্লাস্টারে কারখানা নির্মাণ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এআই প্রসেসরের জন্য ব্যবহৃত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি চিপ উৎপাদনে বিশ্বে প্রধান নেতৃস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স। এই চিপের চাহিদা এআই প্রযুক্তির বিস্তৃতির সাথে সাথে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নতুন কারখানা কার্যক্রম শুরু হতে কয়েক বছর লাগবে। এ সময়ের মধ্যে যদি এআই খাতে বিনিয়োগ কমে যায়, তাহলে বাজারে অতিরিক্ত চিপের সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক জিং জিয়ে ইউ মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো বাজারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এআই কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে একই গতিতে বিনিয়োগ করে যাবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লি জং-হো বলেছেন, এত বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। তাই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক সতর্ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
অতীতে চিপের বাজারে মন্দার সময় স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল। ২০২৩ সালেও এই দুই প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানায়, বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিনিয়োগের গতি সমন্বয় করা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারের দ্রুত অনুমোদন ও অবকাঠামোগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই যুগে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য একটি বড় সুযোগ হতে পারে। তবে এই বিশাল বিনিয়োগের সফলতা শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই চিপের চাহিদার ওপর নির্ভর করছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন