বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:০০ পি.এম
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৯ সালের বিতর্কিত তুরস্ক-লিবিয়া সামুদ্রিক চুক্তির প্রতি সমর্থন প্রদান করেছে। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটে, লিবিয়ার পূর্বভিত্তিক পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে চুক্তিটি অনুমোদন করে। এর ফলে তারা ২০২০ সালে নিজেদের দেওয়া পূর্ববর্তী বিরোধিতাকে উল্টে দিয়েছে। তবে এই ঘটনার ফলে ভূ-রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও মিশর চুক্তিটির তীব্র বিরোধিতা করেছে।
চুক্তিটি আসলে কী?
২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর, ইস্তাম্বুলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং লিবিয়ার তৎকালীন ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফায়েয়েজ আল-সাররাজের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক ও লিবিয়ার সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়। চুক্তির ফলে আঙ্কারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিশাল ও গ্যাসসমৃদ্ধ এলাকায় নিজেদের জোরালো দাবি প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায়।
মিশর ও ইইউর বিরোধিতার কারণ
এই চুক্তির কারণে মিশর ক্ষুব্ধ হয়েছে। কায়রোর মতে, এই চুক্তি মিশরের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) এবং কন্টিনেন্টাল শেলফের সার্বভৌম অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই স্মারকটি তৃতীয় দেশের সার্বভৌম অধিকার লঙ্ঘন করে এবং জাতিসংঘের সামুদ্রিক আইন বিষয়ক কনভেনশন (UNCLOS)-এর পরিপন্থী। বিশেষ করে গ্রিস ও সাইপ্রাসের জলসীমা খর্ব হওয়ার আশঙ্কায় ইইউ এই জোরালো অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্ক ইউএসএনসিএলওএস (UNCLOS)-এ স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক আইনের এই বাধ্যবাধকতা মানতে নারাজ।
তুরস্ক ও লিবিয়ার অবস্থান
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই চুক্তিকে ‘আইনগত ও সংবিধিবদ্ধ উভয় দিক থেকেই সম্পূর্ণ বৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন। ত্রিপোলির বর্তমান সরকারও পূর্বের সংসদের এই নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তরাধিকারের পথ সুগম করতে তুরস্কের সাথে এই নতুন কৌশলগত বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে ভূমধ্যসাগরে নতুন করে নৌ-সংঘর্ষ বা উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সোর্স: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম মন্তব্য করেছেন যে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে আলোকচিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "একটি আলোকচিত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন তুলে ধরে, তেমনি পরিবেশদূষণের নির্মম বাস্তবতাও মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করতে পারে।" এই মাধ্যমে মানুষের চিন্তায় পরিবর্তন আনা এবং পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক দায়বদ্ধতা জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় পরিবেশ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘ওয়েভস অব লাইফ’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনটি বিভাগে মোট নয়জন বিজয়ী আলোকচিত্রীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিভাগগুলো হলো— সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, জলজ জীবন-জীবিকা ও উপকূলীয় দূষণ এবং জ্বালানি ও পরিবেশ।
ফরিদা খানম বলেন, "বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও সমুদ্রবেষ্টিত দেশ। বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় অঞ্চল, নদ-নদী ও জলাভূমি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।" তিনি আরও বলেন, "এসব সম্পদ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনীতি ও অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।" তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, প্লাস্টিক ও বর্জ্যদূষণ, অপরিকল্পিত সম্পদ আহরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই প্রাকৃতিক প্রতিবেশ আজ নানা সংকটের মুখে।
তিনি উল্লেখ করেন, "পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।" সংকট মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোকচিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, "অনেক সময় দীর্ঘ বক্তব্য যে বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে না, একটি ছবি তা মুহূর্তেই মানুষের হৃদয় ও বিবেককে নাড়া দিতে পারে।" তিনি বলেন, "পরিবেশবিষয়ক আলোকচিত্র প্রকৃতির সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্যের বৈশিষ্ট্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং দূষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।" তাই আলোকচিত্র ধারণ ও উপস্থাপনায় সত্যনিষ্ঠ, যথাযথ প্রেক্ষাপট ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি।
তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফরিদা খানম বলেন, "তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে পরিবেশ রক্ষার কাজে যুক্ত করতে হবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "শুধু সমস্যার চিত্র তুলে ধরাই নয়, সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এবং সেই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়াও প্রয়োজন।" তরুণ আলোকচিত্রী, পরিবেশকর্মী ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন ও পরিবেশবিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।" তিনি বলেন, "প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধ এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।"
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, "এ ধরনের আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত অঙ্গীকার গড়ে তোলার উপলক্ষ হয়ে উঠতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদী ও সমুদ্রের দূষণ রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে হবে।"
‘ওয়েভস অব লাইফ’ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ইয়ুথ ফর ওশান ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেউলি মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল ফারহা আলী আকবরের বিরুদ্ধে বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ, গাছপালা কেটে ফেলা, ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসতঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান। তাঁর দাবি, হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় একই দিন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০ নম্বর গারুড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জেরে তাঁর জমিতে অনধিকার প্রবেশ, গাছপালা কেটে ফেলা এবং বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও মালামল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।
মিজানুর রহমানের অভিযোগ, বুধবার বেলা ১১টার দিকে দেউলি মোহাম্মাদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল ফারহা আলী আকবরসহ কয়েকজন তাঁর বসতঘরের সামনে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় গাছপালা কেটে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
দরজা-জানালা ভাঙচুর, ক্ষতি আরও ৩০ হাজার টাকা
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার প্রতিবাদ করায় মিজানুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তিনি ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন। পরে বসতঘরের দরজা, জানালাসহ বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়। এতে আরও আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাঁদের সামনেও হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গাছপালা কাটা ও ঘর ভাঙচুর মিলিয়ে মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
চিকিৎসা নেওয়ার দাবি, তদন্ত চান ভুক্তভোগী
মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সময় হামলায় আহত হওয়ার পর তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, “দেউলি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আবুল ফারহা আলী আকবরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) আগামী ২৭ অক্টোবর ‘মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের আয়োজনের মধ্যে শিক্ষা-গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ‘মাভাবিপ্রবি ক্যারিয়ার অ্যান্ড জব ফেয়ার-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
দিবসের দ্বিতীয় পর্বে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সংস্থার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, গবেষণা পুরস্কার প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের প্রস্তুতি, গবেষণার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিকাশ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিবসটি সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমকে সদস্য-সচিব করে একটি মূল কমিটি ও ১৫টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম মূল কমিটি ও উপকমিটিগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সভা করে আয়োজনের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন।
উল্লেখ্য, মাভাবিপ্রবি দিবস ১৬ অক্টোবর হলেও পূজার ছুটির কারণে ২৭ অক্টোবর দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজনে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের মৃত্যু, নিখোঁজ হওয়া এবং নিহতদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি দাবি করেছে যে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, লাশ ফেরত, ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এইচআরএসএস জানিয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হলে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এটি নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতারও ইঙ্গিত দেয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে রাশিয়ায় অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি চাকরির প্রতিশ্রুতিতে নেওয়া ৩০ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবরও এসেছে। এইচআরএসএস বলছে, নিহত ও নিখোঁজদের প্রকৃত অবস্থা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতারণা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অপরিহার্য।
সংগঠনটির মতে, প্রবাসী নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় দুটির গৃহীত পদক্ষেপ ও ব্যর্থতার বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। যদি দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
সংগঠনটি দাবি করেছে, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের মাধ্যমে নিয়োগকারী ও দালালদের দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নিহতদের লাশ ফিরিয়ে আনতে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, বিমা ও পুনর্বাসন সুবিধা প্রদান করতে হবে। মানবপাচারে জড়িতদের বিচার এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জনসমক্ষে ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং অবহেলা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ