ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে : সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান


সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে : সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান

দেশে কোন উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার লক্ষণ নেই বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তবে সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে বর্তমানে অনলাইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্যসহ নিজস্ব ডাটাবেইসের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে তিনি সোমবার (২৭ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে। কেরানীগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা এবং মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে উগ্রবাদী তৎপরতা বাড়ছে কিনা—এমন একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘এ মুহূর্তে সে ধরনের কোনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি দেখছি না। আমরা অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য এবং আমাদের নিজস্ব ডাটাবেইসের মাধ্যমে উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়মিত নজরদারি করছি। কোথাও কোনো তথ্য বা সংবাদ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না— এ প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান জানান, ‘এ বিষয়ে এখনই এমন কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে দেশের মধ্যে আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না।’ মতিঝিলে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, পুলিশের কাছে খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের মতিঝিল বিভাগ এই ঘটনায় তদন্ত করছে। অ্যারেস্ট হওয়ার আগে কারা জড়িত বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয় বলেও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়

জঙ্গিবাদ-সংক্রান্ত মামলার অগ্রগতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান জানান, গ্রেফতারের বিস্তারিত পরিসংখ্যান পরে জানানো হবে। তবে আলোচিত ফাতা কমব্যাট মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আরো কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। মোহাম্মদ শামসুল হক যোগ করেন, ‘সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অভিযান আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি ভোকেশনালে শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধি করতে ৭টি পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


এইচএসসি ভোকেশনালে শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধি করতে ৭টি পদক্ষেপ

দেশের সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে পরিচালিত এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে আশানুরূপ শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। জরুরি এই পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে আসন খালি রাখা বন্ধ করতে প্রচারণা জোরদারসহ শিক্ষকভিত্তিক বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মাধ্যমে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার অধিদপ্তরের একটি চিঠিতে দেশের সকল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষদের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজসমূহে বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল ও শিক্ষা উপকরণ থাকা সত্ত্বেও এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা আশানুরূপ নয়। ফলে সরকারের অবকাঠামো, জনবল এবং শিক্ষা কার্যক্রম যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না, যা কারিগরি শিক্ষার প্রসারের জন্য বাধা তৈরি করছে। এই অবস্থার উত্তরণে অধিদপ্তর থেকে সাতটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো। অভিভাবক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভার আয়োজন করা। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ট্রেড, আধুনিক ল্যাব, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারণা চালানো। অনলাইন প্লাটফর্ম যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ক্যাবল টিভি, স্থানীয় গণমাধ্যম, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা। স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সে ভর্তি নিশ্চিত করা। প্রত্যেক শিক্ষককে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির দায়বদ্ধতা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করা। ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ট্রেডভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য নির্ধারিত ছকে পূরণ করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। এছাড়া, ভর্তির সার্বিক অগ্রগতি ও গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রথম প্রতিবেদন আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। পরবর্তীতে চূড়ান্ত ভর্তির তথ্য ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু মঙ্গলবার, মানতে হবে তিন শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


আদ্-দ্বীন হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু মঙ্গলবার, মানতে হবে তিন শর্ত

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৪৫ দিনের এক দীর্ঘ সময় পর পুনরায় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছে। লাইসেন্স ফিরে পাওয়ার পর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮ টা থেকে বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, ইমার্জেন্সিসহ সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

লাইসেন্স ফেরত পাওয়ার পর মহান আল্লাহ তাআলার প্রতি শুকরিয়া জানাতে গিয়ে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবাগ্রহীতা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সোস্যাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট, ইসলামিক স্কলার এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য সরকার তিনটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা আদেশে বলা হয়েছে, ৬ নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃক দাখিলকৃত আপিল ও আপিলের অধিকতর বিবরণীর বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যারা ১৫ জুলাই ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা পায়। তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদন সন্তোষজনক হওয়ায় শর্তসাপেক্ষে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শর্তগুলো হলো—

১। হাসপাতাল পরিচালনায় দ্য মেডিকেল প্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্স, ১৯৮২ এর নির্দেশনা মানতে হবে।

২। লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে।

৩। লাইসেন্সের শর্তাবলীর প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।

উল্লেখিত ঘটনা অনুযায়ী, গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ওই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ১১ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯২ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৭ পি.এম


সিলেটে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯২ জন

সিলেট মহানগরীতে ৩২ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) বিভিন্ন অপরাধের কারণে ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগে ১৩৭টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন ছয়টি থানার পুলিশ এ বিশেষ অভিযানটি পালন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম জানান, মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকরী একটি ৩২ ঘণ্টার বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যা চলাকালে ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবী ও মাদক কারবারি, চোরাকারবারি এবং বিভিন্ন অপরাধে সন্দেহভাজন ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এছাড়া অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্য ও মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি

ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের দিকে মুখ করে থাকা চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে পঞ্চম প্রজন্মের ‘মাইটি ড্রাগন’ বা জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে বেইজিং। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত জুন মাসের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে ভারতের কাছাকাছি দুটি চীনা বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লাদাখ থেকে শুরু করে অরুণাচল সীমান্ত পর্যন্ত ভারতবিরোধী কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স বা পিএলএএএফ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ৯ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্রে জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটির টারমাকে সারিবদ্ধভাবে সাতটি জে-২০ স্টেলথ ফাইটার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যৌথভাবে বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত এই বিমানঘাঁটিটি উত্তর লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং লেহ শহর থেকে ৩৮৯ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইমেজে এখন পর্যন্ত একটি চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। একই সাথে প্রকাশিত অন্য একটি চিত্রে তিব্বতের লহাসা প্রিফেকচারের অংশ দামক্সুং বিমানঘাঁটির রানওয়েতে ক্যানোপি বা সুরক্ষামূলক কভারে ঢাকা আরও চারটি জে-২০ বিমান মোতায়েন অবস্থায় দেখা গেছে। দামক্সুং ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ফাইটার পাইলট সমীর জোশী এই সামরিক তৎপরতা বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হোটানে সাতটি এবং দামক্সুংয়ে চারটি জে-২০ বিমানের উপস্থিতি প্রমাণ করে ভারতের মুখোমুখি উচ্চভূমির ঘাঁটিগুলো থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের সামরিক পরিচালনা বা অপারেশন এখন চীনা বিমানবাহিনীর জন্য কোনো সাময়িক প্রদর্শন নয়, বরং রুটিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য এখন উত্তর সীমান্তে যেকোনো কম দৃশ্যমান হুমকির বিষয়টি একটি মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের কাউন্টার-স্টেলথ সেন্সর, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার স্ট্রাইক সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি করার জরুরি প্রয়োজনকে ফুটিয়ে তুলছে।

জে-২০ যুদ্ধবিমানের এই মোতায়েন ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর উন্নত স্টেলথ ডিজাইন বা রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা শত্রুর আকাশসীমা সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সাহায্য করে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র রাডার সিগনেচারের কারণে এই যুদ্ধবিমানটি ভারতের বিমানবাহিনীতে থাকা বর্তমান প্রজন্মের ফ্রন্টলাইন ফাইটার জেটগুলোর চেয়ে বহুগুণে এগিয়ে রয়েছে। ভারতের হাতে থাকা ফরাসি প্রযুক্তির দাসো রাফাল অত্যন্ত আধুনিক হলেও তা কোনো স্টেলথ প্ল্যাটফর্ম নয়। বর্তমানে ভারতের নিজস্ব কোনো স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। ভারত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম স্টেলথ ফাইটার ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ বা এএমসিএ তৈরির উদ্যোগ নিলেও এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগবে, যা এর বিস্তृत ফ্লাইট-টেস্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রধান প্রযুক্তিগুলোর সফল মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের জে-২০ বিমান তৈরির ক্ষমতা অবিশ্বাস্য গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে যেখানে চীনের কাছে মাত্র ৫০টি জে-২০ বিমান ছিল, ২০২২ সালের শেষের দিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০০টিতে। পরবর্তীতে এর উৎপাদন দ্বিগুণ গতি পায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ চীনের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়ায় প্রায় ১২০টি বিমানে, যার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির এক ডজনেরও বেশি সামরিক ইউনিটে এই বিমানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০টিতে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন প্রায় ১,০০০টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে সক্ষম হবে।

‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন বিমানবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি চীনের এই উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে বলেন, প্রতি বছর ১২৫টি যুদ্ধবিমান তৈরি করার ক্ষমতা তাদের উন্নত উৎপাদনব্যবস্থার বিশালতার প্রমাণ দেয়। তারা প্রায় বাণিজ্যিক বিমানের মতো গণহারে এগুলো তৈরি করছে, যা কেবল তখনই সম্ভব যখন সরবরাহব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ সমন্বিত থাকে, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয় এবং দক্ষ মানবসম্পদ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে। তিনি আরও জানান, চীন একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করে একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত দলকে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন জুগিয়ে এসেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর তারা বিমান শক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে এবং একটি মিশন মোড হিসেবে কাজ শুরু করে।

বিগত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি চীনা বিমানঘাঁটিগুলোতে জে-২০ বিমানের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। ২০১৬ সালে তিব্বতের ডাওচেং ইয়াডিং উচ্চতম বিমানবন্দরে প্রথম জে-২০ ফাইটারের ছবি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্ত থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত শিগেতসে বিমানঘাঁটিতে এই ড্রাগন জেটের অবতরণের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

বিপরীতপক্ষে, ভারতের বিমানবাহিনী বর্তমানে তাদের আম্বালা ও হাশিমারা ঘাঁটিতে দুটি স্কোয়াড্রনে বিভক্ত হয়ে মাত্র ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৭.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ২৬টি রাফাল কেনার অর্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল জেটের জন্য দাসোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৬০টিরও বেশি রুশ প্রযুক্তির সুখোই-৩০ এমকেআই পরিচালনা করছে, যেগুলোর বড় ধরনের আধুনিকীকরণ এখনো বাকি, এর পাশাপাশি রয়েছে পুরোনো মিরাজ ২০০০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান।

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়া এই নতুন সামরিক পরিস্থিতি এবং সুরক্ষার বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%