বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৪ পি.এম
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা রজনীকান্ত অভিনীত সিনেমা ‘জেলার ২’ দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। নেলসন দিলীপকুমার নির্মিত এই সিনেমার বৈশ্বিক আয় ইতোমধ্যে ৮০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে, যা তামিল সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বর্তমানে রজনীকান্ত অভিনীত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে ব্যাপকভাবে চলছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—সিনেমাটির শিল্পীরা কত পারিশ্রমিক পেয়েছেন? গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘জেলার ২’ সিনেমার জন্য রজনীকান্ত একাই ১১০ কোটি রুপি নিয়েছেন। তাছাড়া, সিনেমার লাভের একটি অংশও তিনি পাবেন—এমন একটি চুক্তি হয়েছে। ফলে, সিনেমাটি থেকে তার মোট আয়ের পরিমাণ প্রায় ১৮০ কোটি রুপি হতে পারে।
এদিকে, ‘জেলার ২’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও ম্যাথিউ গ্যাংস্টারের চরিত্রে ফিরেছেন মালয়ালম তারকা মোহনলাল। তিনি এই সিনেমার জন্য ৩০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। ছবিটিতে অতিথি চরিত্রে ছিলেন বলিউড তারকা হৃতিক রোশন, যিনি অল্প সময়ের উপস্থিতির জন্য ২৫ কোটি রুপি পেয়েছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণী অভিনেতা বিজয় সেতুপতির সম্মানী ১৫ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন বলিউড তারকা বিদ্যা বালান, যাকে ৬ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছে। এস জে সুরিয়ার পারিশ্রমিক ৩ থেকে ১০ কোটি রুপি মধ্যে, এবং সুরাজ ভেঞ্জামুডুর নিয়েছেন ১ কোটি রুপি। সংগীত পরিচালক অনিরুদ্ধ রবিচন্দর ২০ কোটি রুপি পেয়েছেন। যদিও এসব পারিশ্রমিকের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘জেলার ২’ সিনেমাটি ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘জেলার’-এর সিক্যুয়াল। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘জেলার ২’ সিনেমার বাজেট প্রায় ৩০০ কোটি রুপি। এর মধ্যে সিনেমাটি সর্বোচ্চ আয় করে ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে পুলিশের অভিযানের সময় গোলাগুলির ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অঙ্গরাজ্যটির পূর্বাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে।
স্পোকেন কাউন্টির শেরিফ জন নওয়েলস জানান, স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ সদস্যরা একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান। একটি প্রতিবেশী নারী পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, তার ভাই তাকে গুলি করেছে।
পুলিশ পরে জানতে পারে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং ওই বাড়িতে আরও কেউ হতাহত হতে পারেন। এরপর, বিশেষ অভিযানকারী দল ও পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে, ভেতর থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
এই গোলাগুলির ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান এবং আহত সহকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আহত দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন পরে মারা যান। অন্যজনের অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে, তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হলেও তার বেঁচে থাকার আশার পরিমাণ খুবই কম বলে পুলিশ জানায়।
এছাড়া, বাড়ির ভেতরে একজন, বাড়ির উঠানে আরেকজন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা বিশেষ অভিযানকারী দলের তরুণ সদস্য ছিলেন। তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নিহত এক কর্মকর্তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ওই নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। গোলাগুলির কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
স্পোকেন কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বিপদের ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও অন্যদের রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের এই আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সংস্থাটি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সংঘটিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় ২৪ আসামির মধ্যে আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এ ছাড়া, সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, সামছুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ এবং স্বপন। তাদের প্রত্যেককেও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, আসামি শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামি মজনু মিয়াকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস এবং সাহেরা খাতুন ও খাতুনি বেগমকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, আসামি উজ্জ্বল মিয়া, অলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার জানান, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ১০ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিচারক আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আ. ফ. ম. নূরতাজ আলম বাহার। তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান ও মেজবাউদ্দিন জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম (আধাসামরিক পুলিশ) মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃইউনিয়ন জোটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্যারিসের বাইরের বিক্ষোভে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে। অপরদিকে, রাজধানী প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজারের মধ্যে হতে পারে।
বিক্ষোভে শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মী এবং মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি হলো—বেতন বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, বিক্ষোভের নিরাপত্তাব্যবস্থা গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় নেওয়া ব্যবস্থার মতোই থাকবে।
তিনি জানান, নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট বিআরআই, রেইড এবং জিআইজিএন-এর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
নুনেজ বলেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য যতটা সম্ভব নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করাই এ নিরাপত্তাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলসহ স্পর্শকাতর এলাকা এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা করা হবে।
প্যারিসে বিক্ষোভের রুট নিয়ে বিরোধ
প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা পুলিশের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের রুটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক আদালত পুলিশের দেওয়া রুট বহাল রেখেছে।
পুলিশের নির্ধারিত পথ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিল করবেন।
এর আগে শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্লাস দ্য লা বাস্তিল থেকে জাতীয় পরিষদের কাছে প্লাস দ্য লা কনকর্ড পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
তবে রাজধানীতে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে পুলিশ ওই প্রস্তাবিত রুটে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পরে বিকল্প রুট নির্ধারণ করা হয়।
বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে ধর্মঘটের কারণে পরিবহণব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেললাইনেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের প্রতি ১০টির মধ্যে একটি বাতিল করা হতে পারে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনা, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী, ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় একাধিকবার এই ঘোষণা দিয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রত্যয়ও প্রকাশ করেছেন।
তবে, তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি মাথায় রেখে তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসিনার দেশে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনীতির মাঠে দলটির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে শত শত মামলা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এটি নিশ্চিত।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ একাধিকবার আবেদন করেছে। তবে, ভারত এখনো সাড়া দেয়নি। চুক্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগসহ কয়েকটি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, ভারত হাসিনাকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।
অন্য একটি পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাশ নেওয়া। কিন্তু এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার তা অনুমোদন করবে কিনা, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন।
তবে, আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবার এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন। তার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করেন, ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন।
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগ গোপন তৎপরতায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তারা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত হতে পারে। সেজন্য তারা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ