শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪১ পি.এম
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগের জন্য পর্যটকরা প্রতিদিনই আসছেন। পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে, কক্সবাজারে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সৈকতে পর্যটকদের ভিড় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ভিড়ের ফলে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ও প্রাণ ফিরে এসেছে। তবে, পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা, হয়রানি প্রতিরোধ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সাগরের ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর এবং দিগন্তজোড়া নীল জলরাশি উপভোগ করতে সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে পর্যটকরা ভিড় করছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। অনেকেই ব্যস্ত ছবি তোলা ও আনন্দঘন মুহূর্তগুলো স্মৃতিতে ধরে রাখতে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা শিশু আদিবুর রহমান জানায়, সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য তার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় বড় বড় ঢেউ ও স্রোত উপভোগ করতে তার বেশি ভালো লাগে। ঢেউয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এবং লাফালাফি করতে সে আনন্দ পায়।
গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আতিকুর রহমান বলেন, সমুদ্র দেখার জন্য অনেক দূর পথ পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। এখানকার পরিবেশ তার ভালো লাগছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং সন্তান বাদশার সমুদ্রের পানিতে খেলাধুলা উপভোগ করছেন তিনি।
লিলি আক্তার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন বিবাহবার্ষিকীর পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে। লিলি জানান, অনেক দূর পথ পাড়ি দিয়ে এলেও সমুদ্রসৈকতের মনোরম পরিবেশে এসে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটাতে পেরে তিনি খুশি।
অন্যদিকে, স্ত্রী, সন্তান, ভাগনি ও বন্ধুদের নিয়ে সৈকতে ঘুরতে আসা সাদেক হোসেন বলেন, দৈনন্দিন ব্যস্ততা ও ক্লান্তি দূর করতে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে এসেছেন। সমুদ্রের ঢেউ এবং সৈকতের পরিবেশ তাকে মুগ্ধ করেছে।
পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে সৈকতকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ এবং সৈকতপাড়ের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বাড়ছে ব্যস্ততা। তবে, পর্যটকের এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, নভেম্বরের শুরু থেকেই পর্যটন মৌসুম শুরু হচ্ছে। গত মাসে ঘটে যাওয়া কয়েকটি দুর্ঘটনার দায় কোনো পক্ষই এড়াতে পারে না। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ-সবার। বিশেষ করে সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় এবার পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি বিবেচনায় সমুদ্রসৈকতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।
সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে। তাঁদের নিরাপত্তায় সৈকতের তিনটি পয়েন্টে তিন স্তরে কাজ করছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। ওয়াচ টাওয়ার থেকে পর্যটকদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পানিতে থাকা একটি দল গভীর পানিতে চলে যাওয়া পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কাজ করে। অন্য সদস্যরা সৈকতে টহল দেন। বিশেষ করে শিশু ও নারী পর্যটকদের নিরাপত্তায় নজর রাখা হয়, যাতে সৈকতের বিপজ্জনক গর্ত বা অন্য কোনো ঝুঁকিতে পড়ে কেউ দুর্ঘটনার শিকার না হন।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা, হয়রানিমুক্ত পরিবেশ এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলা যুবদলের আহবায়ক রহমত উল্লাহ জিকুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমান উল্লাহ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও কুমিল্লা -৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম।
তিনি বলেন, "যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আয়োজনে আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে সকলকে রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।"
এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুবদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রাণশক্তি। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুবদল সবসময় রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে আহ্বান জানান যে, আগামী দিনেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, "গত সংসদ নির্বাচনে আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ের সময় যুবদলের ভূমিকা ছিলো প্রশংসনীয়।"
এজন্য তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সকল নেতাকর্মীকে তার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই নাজুক।
মনোহরগঞ্জ উপজেলায় কুমিল্লা -নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক ছাড়া আর কোন আঞ্চলিক সড়ক নেই, যে সড়ক দিয়ে বাস চলাচল করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমি মহান সংসদে মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে ২টি হাইওয়ে সড়ক অনুমোদনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, খুব সহসাই আপনার তার সুফল দেখতে পাবেন।"
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন, সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু, মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী মর্তুজা, জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুল আলম বাচ্চু, মোবারক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক জিএম আহসান উল্লাহ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক বাহরুল ইসলাম বাবর, জহিরুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি মোবারক হোসেন বিল্লাল, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ মেহেদী প্রমুখ।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে সকল অতিথি, উপজেলা যুবদল এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের ফলে উপত্যকাটির পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই পরিস্থিতির কারণে সেখানে জাতিগত নির্মূলের (Ethnic Cleansing) আতঙ্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন (OHCHR) উল্লেখ করেছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অভ্যন্তরে একটি কাল্পনিক সীমানা বা ‘ইয়েলো লাইন’ (Yellow Line) তৈরি করেছে এবং সেটি ধারাবাহিকভাবে পশ্চিম দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই রেখাটিকে কার্যত ইসরায়েলি সেনারা একটি ‘কিল জোন’ বা মৃত্যুপুরী হিসেবে ব্যবহার করছে।
একটি বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকার বাসিন্দাদের বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য গাজার খুব সামান্য একটি অংশ মাত্র অবশিষ্ট রাখা হয়েছে। ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক উদ্বেগকে উপেক্ষা করে গাজায় মানবিক সংকটকে আরও চরম অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার ভূখণ্ডকে পরিকল্পিতভাবে সংকুচিত করার এই কৌশল ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব ভিটেমাটি থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করার একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও নির্বিচার হামলা থামছে না। সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : মাদকাসক্তি প্রতিরোধের ক্ষেত্রে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
কচুয়া উপজেলার কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে কচুয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত ‘ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এর ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, খেলাধুলার চর্চা বর্তমান প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। একইসাথে, ভবিষ্যতে ক্রীড়াক্ষেত্রে পেশাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ বছরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ‘খেলাধুলা’-এর মতো বিষয়ভিত্তিক বই শিক্ষার্থীদের প্রদান করা হবে। আগামীতে সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখার প্রতি উৎসাহিত করা হবে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায়, কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম, কচুয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আওয়ামী লীগ বা শ্রমিক লীগ নেতা হিসেবে আব্দুস সালাম এবং তার ভাগ্নে রিপন শ্রমিক দল নেতা। বড় ভাই চরমপন্থি সংগঠনের আঞ্চলিক নেতা। এইভাবে পুষ্পপাড়া হাটের আধিপত্য নিজের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রাখেন সালাম, যিনি গত ৩০ বছর ধরে হাটের ইজারাদার ছিলেন। দাদন ব্যবসায় কোটি টাকা খাটাতেন তিনি।
পাবনার পুষ্পপাড়া হাটে সালাম ও রিপনকে খুনের ঘটনা বর্তমানে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুস সালাম (৬০) এবং তার ভাগ্নে রিপন হত্যার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনও খুনের রহস্য উদঘাটন কিংবা কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই নেতাকে হত্যার পর মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা উল্লাস করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
হত্যার পর খুনিরা মন্তব্য করেন, ‘আজ থেকে পুষ্পপাড়া হাট স্বাধীন হলো’ বলে জানা যায়।
এদিকে নিহত শ্রমিক লীগ নেতা সালাম সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী ও তার স্বজনরা জানান, তিনি গত ৩০ বছর ধরে পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার ছিলেন। তিনি অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্তত ৩ কোটি টাকা দাদন দিয়েছেন বলে জানা যায়। এই কারণে হাটের আধিপত্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে এবং হাটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে পুলিশের ধারণা।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সদর উপজেলা ও আতাইকুলা থানায় অবস্থিত পুষ্পপাড়া হাটে নিজ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে সালাম ও রিপন হোসেন (৩৫) নিহত হন।
আব্দুস সালাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিক লীগের সদর উপজেলা আহ্বায়ক এবং হাটের ইজারাদার, আর রিপন হোসেন সালামের ভাগ্নে ও আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইজারাদার সালামের নিজ অফিসে তারা দুজন বসে কাজ করছিলেন। এ সময় ৫ থেকে ৭ জন মুখোশ পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সালামের অফিসে হামলা চালায়। তারা সালামকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। রিপন ঠেকাতে গেলে তাকেও গুলি করে। ফলে দুজনই অফিসের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর স্থানীয়রা দুজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুজনের লাশের ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুরে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, পুষ্পপাড়া হাটের আধিপত্য নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই জোড়া খুনের সঙ্গে কারা জড়িত তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা কিংবা কাউকে আটক করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুষ্পপাড়া হাট উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় গরুর হাট। এখানে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে থাকে। এই হাটকে কেন্দ্র করে সেখানে একটি ‘ক্রাইম জোন’ তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে একসঙ্গে ৪ জনসহ গত দেড় দশকে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত সালাম কুরআনে হাফেজ এবং তিনি বেশ কয়েকবার হজ পালন করেছেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগ আমলের গত ১৬ বছরে শ্রমিক লীগ বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলেও যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকতেন। এর মূল কারণ পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা বা আধিপত্য।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সালাম জামায়াতের ছত্রছায়ায় থাকেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনে তিনি দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন বলে এলাকাবাসী জানান। তার ভাগিনা নিহত রিপন বিএনপির বা শ্রমিক দলের সক্রিয় নেতা ছিলেন। অর্থাৎ তারা রাজনীতির ভারসাম্য রেখে পুষ্পপাড়া হাটের আধিপত্য নিজেদের কব্জায় রাখতেন। সালামের বড় ভাই কাল্যা কালাম পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল লাল পতাকা) আঞ্চলিক নেতা। তিনি দীর্ঘদিন জেলে থেকে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ