ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান


আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আমাদের দরজায় টোকা দিচ্ছে’।

তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিকামী দেশবাসীকে এই বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে বলেও তিনি তাদের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

জামায়াতের আমির একই সঙ্গে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশনের আগে সরকারকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। অন্যথায়, জনগণের দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

আরও পড়ুন: মারামারির ঘটনায় যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লা হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন আসামি

শনিবার সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো মেনে নিন, সুস্থ ধারায় ফিরে আসুন। ৯ তারিখ সংসদ অধিবেশনের আগেই নিজেদের মূল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে ঘোষণা দিন যে আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করব। তাহলে পরবর্তী আর কোনো কর্মসূচি আপাতত বিরোধী দলের নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি তা না দেন, তাহলে জনগণের এই দাবি, ৭০ ভাগ মানুষের ভোট—এই দুটিকে ইনশা আল্লাহ আমরা অপমানিত হতে দেব না; আদায় করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।’

জাতিকে বৃহত্তর ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা আশা করি কারো ছলনায় কান দেবে না। কারণ, তোমরা রাজপথে লড়াই করে জাতিকে সাময়িক এই মুক্তি এনে দিয়েছ। এই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আরেকবার লড়াই করতে হবে ইনশা আল্লাহ।’

ডা. শফিকুর রহমান জানান, তারা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামেননি। জনগণের দাবি ও ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়েই আন্দোলন করছেন। এর আগে দুটি লংমার্চ মহান আল্লাহর রহমত এবং জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এবারও তৃতীয় লংমার্চ সফল করতে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দল ও জনগণের ঐক্য ছাড়া সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জামায়াতের আমির সাত দফা দাবির মূল বিষয় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন উল্লেখ করে বলেন, এই গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ছয় দফার জন্ম হয়েছে। একটি দফা বাস্তবায়িত হলে বাকি ছয় দফার প্রয়োজন হতো না বলে তারা বিশ্বাস করেন।

তার ভাষায়, ‘কোনো চাঁদাবাজ, কোনো দখলদার, কোনো দুর্নীতিবাজ, কোনো মাদক সম্রাট মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না।’

বিএনপির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দলটি জাতিকে হতাশ করেছে এবং ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। তারা কথা দিয়ে কথা রাখেনি। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে এবং জাতির আকাঙ্ক্ষা ও গণরায়কে উপহাস করেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, ভালোয় ভালোয় এখান থেকে ফিরে আসুন, গণরায় বাস্তবায়ন করুন; তা না হলে আপনাদের উচ্চ মূল্য দিতে হবে। সেদিকেই সম্ভবত বিএনপি আগাচ্ছে।’

আরও পড়ুন: জামায়াত ছাড়লেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন চাইলেন

তিনি আরো বলেন, মানুষের কপালে যখন দুর্ভোগ লেখা থাকে, তখন সেই দুর্ভোগের ঠিকানায় না পৌঁছানো পর্যন্ত শান্তি হয় না।

জামায়াতের আমিরের অভিযোগ, বিএনপি অতীতের স্বৈরাচারী শাসন ও নিজেদের ভুল থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। বরং প্রতিদিন নতুন নতুন জঞ্জাল তৈরি করে জাতির জন্য সমস্যা বাড়াচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী চার দিনের সফর শেষে দুই দিন আগে দেশে ফিরেছেন উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কী কারণে তিনি সফরে গিয়েছিলেন এবং কী করে ফিরেছেন, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, তা জনগণ জানতে চায়।

তিনি বলেন, ‘কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।’

আরও পড়ুন: যুবকদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছেন : প্রধানমন্ত্রী

অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তারা এখন তার পরিণতি ভোগ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে পার পাওয়া যাবে না।

সাত দফা দাবিতে লংমার্চ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সকাল ৭টায় সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের জন্য এই লংমার্চ। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। তা না হলে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটলে খালে-বিলে থাকতে হবে : শফিকুর রহমান

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ অনেকে। তবে এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হন। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ঢাকার বাইরে পর্যায়ক্রমে ৬টি স্থানে পথসভা ও অনির্ধারিত সভা করার কথা রয়েছে লংমার্চের বহরের। রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

আরও পড়ুন: জামায়াতকে সন্দেহ করার কারণ বিএনপির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে

ঢাকা থেকে ছয় শতাধিক গাড়ি এবং পথে আরো প্রায় দেড় হাজার গাড়ি লংমার্চের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। দীর্ঘ সোয়া চারশ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ১৯ জেলার নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

লংমার্চের পথসভা ও সমাপনী সমাবেশ

লংমার্চের কর্মসূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায় প্রথম পথসভা হবে। এরপর সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে পথসভা করার কথা রয়েছে।

খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টায় এবং ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায় পথসভা হবে। এরপর যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে বিকেল ৫টায় পথসভা হবে।

সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।

১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘চলি মানবতার সাথে’ শিরোনামে বসুন্ধরা শুভসংঘের সম্মেলন সান্তাহারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


‘চলি মানবতার সাথে’ শিরোনামে বসুন্ধরা শুভসংঘের সম্মেলন সান্তাহারে

‘চলি মানবতার সাথে’

সকাল থেকে সান্তাহারের শখের পল্লীজুড়ে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছিল। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে একে একে মানুষ জড়ো হতে শুরু করে।

ভালোবাসা থাকলে সব হয়

আগের দিন বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল। পরদিন বউভাতের অনুষ্ঠান। এবার বউকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পালা। কিন্তু রাফির মন তো আর স্থির হচ্ছে না।

শিলার জীবনের গৌরবময় অধ্যায়

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সতীর্থদের সঙ্গে পুনর্মিলন, নতুন অভিজ্ঞতার গল্প এবং মানবতার জন্য কিছু করার স্বপ্ন সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতি।

মানবতার বন্ধনে স্মরণীয় এক মিলনমেলা

মানুষের জন্য কিছু করার আনন্দই বসুন্ধরা শুভসংঘের সঙ্গে আমার যাত্রার সবচেয়ে বড় উৎসাহ। সেই যাত্রায় রাজশাহী ও রংপুরের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।

মুগ্ধতা ছড়ানো অনন্য মিলনমেলা

বসুন্ধরা শুভসংঘের বিভাগীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ আদমদীঘি উপজেলা শাখার সদস্যরা আনন্দিত ও মুগ্ধ হয়েছেন।

সেরা সাংবাদিক

   

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত জোটের সাত দফা দাবি আদায়ে চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


জামায়াত জোটের সাত দফা দাবি আদায়ে চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা

জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষ্যে আজ শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে দীর্ঘ লংমার্চের আয়োজন করেছে জোটটি।

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল সাতটায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শুরু হবে। এর পর পর্যায়ক্রমে ছয়টি স্থানে পথসভা ও অনির্ধারিত সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং রাতের শেষ সমাবেশ কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা এসব সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর ছাড়াও সোয়া চারশ’ কিলোমিটার সড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দেশব্যাপী সভা-সমাবেশসহ নানা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে ৬ দফা দাবিতে প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। পরে ৬ দফার সঙ্গে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত হয়ে ৭ দফা হয়ে যায়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চের সময় আঞ্চলিক দাবি হিসেবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন ইস্যু যুক্ত হয়।

দুটি লংমার্চে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর আজকের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ার কর্মসূচিকে সফল করার জন্য জামায়াত জোট আরো বেশি তৎপরতা চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আজকের লংমার্চের চিত্র আগেরগুলোর চেয়ে ভিন্ন হবে। আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আরো কিছু লংমার্চ শেষে ঢাকামুখী কর্মসূচি হতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, আজকের লংমার্চ বাস্তবায়নে ঢাকা ও খুলনা মহানগর, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের ১৯ জেলার নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ, মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বিকালে উদ্বোধনী সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন জামায়াত নেতারা।

লংমার্চের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। আমরা এই গণভোটের রায়সহ সাত দফা দাবি নিয়ে লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের কাছে যাচ্ছি। এতে জনমত গঠন হবে। আর জনগণ যত রাস্তায় নামবে ততই দাবি আদায়ে সরকারের ওপর নিশ্চয়ই চাপ সৃষ্টি হবে।"

তিনি আরো বলেন, "সরকার জনগণের সঙ্গে কথা দিয়ে যে কথা রাখেনি, তারা যে দ্বিচারিতা করবে—সে বিষয়গুলো লংমার্চের জনসভায় জনগণকে অবহিত করব। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, ব্যর্থতার বিষয়ে জনমত তৈরি হবে, একসময় জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে—এটাই লংমার্চের মূল উদ্দেশ্য।" তিনি বলেন, "আমরা তো কালকেই সরকারকে উৎখাত করতে চাচ্ছি না। আমাদের এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং একপর্যায়ে তারা দাবি পূরণের বিষয়ে আলোচনা করতে বাধ্য হবে।"

এর আগে গত মঙ্গলবার লংমার্চ বাস্তবায়ন নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, "দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ১১ দলীয় ঐক্য আপাতত সহনশীল কর্মসূচি পালন করে আসছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই আমরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি। কিন্তু সরকারের আচরণে বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণের আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে জনগণের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সরকারকে বলব, জনগণের মনোভাব অনুধাবন করুন; অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না।"

লংমার্চ বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি

জামায়াত ছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকরা ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফলে স্ব স্ব প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে গতকাল মগবাজার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে তৃতীয় দফা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লংমার্চ আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় সবচেয়ে দীর্ঘ কর্মসূচি।"

সাত দফা দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "প্রথম দাবি হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। সরকার জনগণের গণরায় অস্বীকার করে রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করছে। জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত গণহত্যার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস, সার ও জ্বালানি সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং নতুন করে গ্যাসসহ বিভিন্ন জ্বালানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে।"

"নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক দলীয়করণ চলছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির ধরন পরিবর্তন হয়নি শুধু চাঁদাবাজদের পরিচয় ও দলের নাম পরিবর্তন হয়েছে।"

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ঢাকা ও আশপাশের ১৯টি জেলার নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা এই লংমার্চে অংশ নেবেন। প্রায় ছয় শতাধিক গাড়ি নিয়ে লংমার্চ শুরু হলেও বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, "লংমার্চ সফল করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী যোগাযোগ করা হয়েছে। ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।"

লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক কিছু অসুবিধা হতে পারে। এজন্য সাধারণ মানুষ, পথচারী, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, "আমরা মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করব, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কম হয়।"

এছাড়া লংমার্চে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য, স্লোগান কিংবা প্রতিপক্ষকে আঘাত করে—এমন আচরণ করা যাবে না। পথে কোনো নতুন গাড়ি বহরে যুক্ত হলে শেষ প্রান্তে যুক্ত হবে। নিরাপত্তা, চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত টিমগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রত্যেক গাড়ির টোলের টাকা নিজ দায়িত্বে প্রস্তুত রাখতে হবে। তিনি লংমার্চ সফল করতে দেশবাসী, রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

ছয় পথসভা যেখানে

ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ হবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আজ শনিবার সকাল ৭টায়। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় প্রথম সভা হবে সকাল ৯টায়। এরপর বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে সকাল ১১টা; খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টা ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টা; যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকাল সাড়ে তিনটা এবং ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে বিকাল ৫টায় পথসভা হবে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় রাত সাড়ে ৮টায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।

বিভিন্ন মহলের প্রতি সফলের আহ্বান

লংমার্চ সফল করতে যুব ও ছাত্রসমাজসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। গতকাল শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ যুবমিশন ও বাংলাদেশ ছাত্রমিশনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

লংমার্চে দেশবাসীকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত। গতকাল বিকেলে এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান দলের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতার ইসরাইলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


কাতার ইসরাইলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করেছে

কাতার দেশটি ইসরাইলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এবং নির্বাচনের ফলকে প্রভাবিত করার জন্য কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগকে নাকচ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে ‘আরেকটি অপপ্রচার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মুখপাত্রের দাবি, কাতারকে ইসরাইলের রাজনৈতিক বিরোধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র আরও বলেন, দোহা ইসরাইলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার জন্য কোনো কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, এটি কাতারকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে ফেলতে ‘আরেকটি অপপ্রচার অভিযান’।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে বিশ্বাসঘাতক বলবে মানুষ: মজিবুর রহমান মঞ্জু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ এম


জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে বিশ্বাসঘাতক বলবে মানুষ: মজিবুর রহমান মঞ্জু

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে মানুষ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে অথবা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে জনগণ তাদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। তিনি আরও বলেন, যদি কোন কারণে ক্ষমতা ছাড়তে হয়, তাহলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার দায় তাদের নিতে হবে।

তিনি জানান, "আমরা হয়তো আমাদের লংমার্চের একটা অন্তিম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। অর্থাৎ কর্মসূচি শেষ। এরপরে আমাদের কর্মসূচি আছে ঢাকার দিকে। আমরা সবাইকে নিয়ে সমাবেশ করব।" তিনি বারবার বলেন, "বিএনপিকে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। আপনারা যদি ক্ষমতায় থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করেন কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে মানুষ আপনাদেরকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে।"

মঞ্জু বলেন, "আর যদি কোন কারণে আপনাদেরকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়, তাহলে জুলাই সনদের যেই লক্ষ্য আমরা তৈরি করেছিলাম, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেটা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে লিখে রাখেন, আপনারা যদি ক্ষমতা ছাড়েন, সবচেয়ে বেশি জুলুম-নিপীড়নের শিকার আবার আপনারা হবেন।"

এবি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমি একটু স্পেশালি শেখ হাসিনাকে একটা বার্তা পৌঁছাতে চাই। শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না বোন। পারলে আপনি নভেম্বরে চলে আসেন। জুলাইয়ের ক্ষত এখনো আমাদের মনে ধবধবে ক্ষয়ের মতো আছে। আপনি যত দ্রুত দেশে ফিরবেন, এই ঘা শুকানো এবং নিরাময়ের ব্যবস্থা আমাদের হবে। আপনি আসেন, আমরা প্রস্তুত আছি।"

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সমাবেশে উপস্থিত রয়েছেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বিএনপির বিরুদ্ধে জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "বিএনপি আমাদেরকে জুলাই সনদের অক্ষরের চক্করে ফেলে টক্কর খেলতে চায়। আমরা বলছি, গণভোটে ৪ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতা সহ জাতীয় নেতাদের অনুরোধ করব, এরপরের কর্মসূচি হবে, যেই ৪ কোটি জনতা ভোট দিয়েছে, তাদের পক্ষে আমরা ৪ কোটি জনতার একটি মঞ্চ তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। আমরা ধরিয়ে দেব, আপনারা কীভাবে আমাদের সঙ্গে এক একটা করে বেইমানি করছেন।"

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বিএনপি বলেছিল, এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। করেছে? একজন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে? সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বিএনপি চাকরি দেবে কি!"

তিনি আরও বলেন, "শুনছি এখন ওই যে নাটোরে একজন বিখ্যাত এমপি আছেন, উনার চাকরি নাকি নড়বড়ে হয়ে গেছে। আরও শুনছি, এই যে এখানে আইজিপি সাহেব আছেন, উনার চাকরিও নাকি টলমলে অবস্থা।"

মজিবুর রহমান মঞ্জু আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা প্রসঙ্গে বলেন, "কেন আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করি, খুব দুঃখ থেকে করি। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এক বছরে প্রথম এক বছরে অন্তর্দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগের নেতা মারা গেছে ৩৮ জন। আর বিএনপি মাশাল্লাহ আট মাসে এটা ৪৫ জন পার করে দিয়েছে। তাহলে বলেন, চরিত্রের কী মিল?"

তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ বলেছিল ১০ টাকা চাল খাবে। আওয়ামী লীগ বলছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। একটা কথাও কি রাখছে? বিএনপি একটা কথাও রাখছে না।"

বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, "আমরা দেখেছি এ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলার কারণে, দলীয় বিশৃঙ্খলার কারণে বিএনপির ৮ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। ১৫ বছর শেখ হাসিনার শাসনকালে আপনাদের এত শক্তি, এত বড় দল, একটা লোকেরও তো বহিষ্কার হতে দেখি নাই। এই দুই মাসে, এই দুই বছরে কী কারেন্ট চলে আসলো আপনাদের গায়ে? আপনাদের ৮ হাজার লোক দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ফেলল।"

লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আপনারা বলছেন, এরপরে আমরা কী করব? লংমার্চ শেষ হলে কী করব? বিএনপি কী করেছিল মনে রাখবেন। বিএনপি যেই সমস্ত কর্মসূচি করেছিল, আমাদের সেগুলো মনে আছে। আমরা একটা একটা করে সে সমস্ত কর্মসূচিতেও যাওয়ার ইনশাআল্লাহ পরিকল্পনা করছি।"

মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, "আমাদের অত্যন্ত সুস্পষ্ট কথা, আমাদের ভাই এবং বোনদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি আমরা বরদাস্ত করব না। আমরা প্রত্যেকটা রক্তের সঙ্গে ওয়াদা করেছি। জুলাই সনদ শুধু আমরা কলম দিয়ে লিখি নাই। জুলাই সনদ শুধু আমাদের ঘাম ঝরানো সংগ্রামের অস্ত্র দিয়ে লিখি নাই। জুলাই সনদ বাংলার প্রতিটি মানুষের রক্তের অক্ষরে লেখা সনদ। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আবার রক্ত প্রয়োজন হলে রাজপথে রক্ত দিয়ে জুলাই সনদ আমরা আদায় করব ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%