১১:৫২ এম
চীনে শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছে দ্বিতীয়বার, সপ্তাহের ব্যবধানে। টাইফুন ‘বাভি’ শনিবার (১১ জুলাই) দেশটির পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ে। এই টাইফুন আঘাত হানার পূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। ঝড়ের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও পরিবহনের সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল হয়েছে শত শত ফ্লাইট।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, টাইফুনটি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত। এটি শনিবার সন্ধ্যায় উপকূলীয় তাইঝৌ শহরে প্রথমে আঘাত হানে। এরপর মধ্যরাতের দিকে দ্বিতীয়বার ওয়েনঝৌ শহরে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। টাইফুনের পর জাপানের কিছু দূরবর্তী দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর তাইওয়ানের উত্তর প্রান্তে ভারী বৃষ্টির দেখা মেলে।
এদিকে, টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ফিলিপাইনে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। বাভি দুর্বল হয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়েছে, কিন্তু এর বৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ব-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে এর শক্তি কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইরানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগে বিতর্কের সৃষ্টি
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার(১২ জুলাই) ঝেজিয়াং প্রদেশের পূর্বাঞ্চল এবং ফুজিয়ান প্রদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত’ হবে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে জনসাধারণকে ব্যাপকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুযায়ী, ঝেজিয়ান প্রদেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঞ্চলটির পার্শ্ববর্তী প্রদেশ থেকেও হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
ঝেজিয়ান প্রদেশে স্কুল, কর্মস্থল এবং খোলা জায়গায় সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বাতিল হয়েছে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট এবং বেশকিছু ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তাইফুনের গতিপথের কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার শহর ওয়েনঝৌ থেকে কয়েক লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেইজিংয়ে ঝুঁকি এড়াতে এক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
এর আগে, সোমবার(৬ জুলাই) বাভি সুপার টাইফুন হিসেবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় বাতাসের গতি কমে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার হয়েছে, কিন্তু এটি জাপানের রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জের সাকিশিমা দ্বীপগুলোতে আঘাত হানে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজারো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। তাইওয়ানে টাইফুনটি সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে। এ সময় ভূমিধসের আশঙ্কাও দেখা দেয়। জাপান ও তাইওয়ানে এ ঘটনায় নতুন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্ক করেছিল, বাভির কারণে কোথাও কোথাও এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। টাইফুনের কারণে বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় স্কুলে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে মানুষের ভিড়ে অনেক সুপারমার্কেটের তাক খালি হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: দুই বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
এদিকে, গত সপ্তাহের শুরুতে ক্ষয়ক্ষতি চালানো টাইফুন ‘মায়সাক’ থেকে এখনও পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকা। মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয় এবং বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও মারা যায়, যার ফলে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া হুবেই প্রদেশে দুইটি টর্নেডো ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন