মো. লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
১১:৫৯ এম
টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার ফলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। এ কারণে কয়েক হাজার বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। বলা হচ্ছে, এতে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকগুলি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এমন এক কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দীঘিনালা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। এরপর তারা তাদের মাঝে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেন।
এই সময় বন্যাদুর্গত পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক, নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দীঘিনালা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। তারা উল্লেখ করেছেন যে, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীঘিনালা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা আরো বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, স্বাস্থ্যসেবাও যাতে কেউ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও বিনামূল্যে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পেয়ে বন্যাকবলিত মানুষ তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (ভিডিপি) শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে সরকার আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ বাহিনীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।
এছাড়া, বাহিনীকে আধুনিক কমব্যাট প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক কণ্ঠস্বর নামে ডিজিটাল মিডিয়া সেলের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ১১৪তম পরিচালনা বোর্ড সভায় ডিজিটাল রূপান্তর ও সেবার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সাথে সঞ্জীবন প্রকল্পবিষয়ক কর্মশালা আয়োজন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ এবং স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (এসআইঅ্যান্ডটি)-এ সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়নে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, মানুষের আস্থা অর্জন, মানবিক মূল্যবোধ, সততা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ বাহিনীকে।
তিনি আরও বলেন, এ বাহিনী বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি স্থাপনা বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলওয়ে স্টেশন, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিজেড, শিল্পাঞ্চল, মেট্রোরেল স্টেশন, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা, বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস, আইসিডিডিআরবি, পাসপোর্ট অফিসসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং অন্যান্য নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে সাহায্য করছে আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া ঈদ, দুর্গাপূজা ও বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নৌযান নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
আনসার মহাপরিচালক আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ এবং ত্রাণ বিতরণে কাজ করছে বাহিনীর সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেলাই, কম্পিউটার, মৎস্য চাষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ও গ্রামীণ জনবলের আত্মকর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে আনসার বাহিনী।
দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আনসার সদস্যদের সক্ষমতা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জাপানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আনসার পুরুষ সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত সিক্স জি ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণ ও ৫২০ জন নারী সদস্যের জন্য ৯০ দিনব্যাপী জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং মলদোভায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ৩০০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাহিনীকে দক্ষ করার অংশ হিসেবে নিজস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রান্তিক কণ্ঠস্বর উদ্বোধন করা হয়েছে।
এছাড়া ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েন ১৬টি ব্যাটালিয়নের সাড়ে ৬ হাজারের অধিক সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে রাজবাড়ী, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, রংপুর, ঢাকা, সুনামগঞ্জ, মেহেরপুর, নরসিংদী ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত ১৪টি মোবাইল কোর্ট অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
এসব অভিযানে অবৈধ ব্যবসা, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন, পরিবেশবিধি অমান্য, মিটার জালিয়াতি, অবৈধ মাছ ধরা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অর্থ আদায় করা হয়েছে।
সমতলের ৩১টি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে ১৩ হাজারের অধিক হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, পাহাড়ধস মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রस्त সড়ক ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
এছাড়াও প্রায় ৫৬ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য ৬ হাজারের অধিক আনসার গার্ডে বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করছেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করে পুশইন প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
আনসার মহাপরিচালক বলেন, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ইউনিয়ন দলনেতা ও দলনেত্রী, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোম্পানি কমান্ডার, সহকারী কোম্পানি কমান্ডার, প্লাটুন কমান্ডার ও মহিলা প্লাটুন কমান্ডার এবং ৬ হাজারের অধিক ভাতাভোগী ওয়ার্ড দলনেতা ও দলনেত্রী মাদকবিরোধী কার্যক্রম, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে।
অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, পাহাড়ধস ও ভারী বর্ষণজনিত দুর্যোগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, সৈয়দপুর, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা প্রদান, বান্দরবানের লামা, যশোরের শার্শা, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, যোগাযোগ পুনরুদ্ধার, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, উদ্ধার অভিযান এবং দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বলেন, বন্যাকবলিত সুনামগঞ্জে শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল বিতরণসহ বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক কার্যক্রমও বাস্তবায়িত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিরাপত্তা জোরদারে চলতি বছর ১ জুলাই থেকে দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে চিকিৎসক, রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দালালচক্র প্রতিরোধ, সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার সদস্যের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার বাহিনী ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এটি দেশ গঠন ও বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সারাদেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করানোর অভিযোগে পুলিশ মো. বাচ্চু মিয়া, স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ছাত্র মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ ঘটনায় রবিবার (১২ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া তাঁর ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে বিষয়টি আসলে তিনি ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, গতকাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দেবিদ্বার থানায় মো. বাচ্চু মিয়া ও ছাত্র মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি দায়েরের পর গতকাল রাতেই অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর আবুল হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের মরদেহটি রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাজার রোড এলাকার কাছে একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
মৃত আবুল হোসেন একলাশপুর ইউনিয়নের মৃত বাবুলের সন্তান। সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আবুল হোসেনের ভাইয়েরা প্রবাসে আছেন এবং তিনি ছিলেন বেকার। শুক্রবার রাতের সময় তার বাড়িতে এক ভাগ্নির বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই রাত থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। স্থানীয় লোকেরা রোববার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় পরিত্যক্ত একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন এবং পুলিশে খবর দেন। এরপর বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, আবুল হোসেন মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং তিনি শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দুই দিন পানিতে থাকার কারণে তার মরদেহ ফুলে যায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও ঝড়বৃষ্টির মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্কিংয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি বাসের ওপর উপড়ে পড়েছে একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ।
ঘটনাস্থলের আশপাশে শিক্ষার্থীদের চলাচল থাকলেও বাসের ভেতরে কেউ না থাকায় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে গাছটির শিকড় দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হঠাৎ করে গাছটি পাশেই পার্কিং করা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের ওপর ভেঙে পড়ে। ঘটনার সময়ে বাসটিতে কোনো শিক্ষার্থী না থাকার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, গত রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে এবং এর ফলে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণের সামনে থাকা পুরোনো গাছটির গোড়ার মাটি সরে যায়। একপর্যায়ে বিকট শব্দে গাছটি উপড়ে পড়ে পাশের রাখা বাসটির ওপর। ভাগ্য ভালো, সেই সময় সেখানে কেউ ছিল না। তবে আশপাশ দিয়ে অনেকেই যাতায়াত করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসিরুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, গাছটির ভেঙে পড়ার সময় বাসের ভেতরে বা আশপাশে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গাছের আঘাতে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক এ ঘটনায় মুহূর্তের জন্য ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আমরা সতর্ক রয়েছি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ