মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
০৯:১০ পি.এম
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিকসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কাশীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বিল্লাল মিয়া (২২), হারুন মিয়া (২৭) ও রুবেল মিয়া (২৬)। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী তরুণী অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে বিল্লাল মিয়ার প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে আসতে বলেন বিল্লাল। পরে তাঁকে কেন্দুয়া নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিল্লাল তাঁকে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি স্থানে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন তাঁর দুই সহযোগী হারুন ও রুবেল। একপর্যায়ে তাঁরা তরুণীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বিল্লাল মিয়া মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নির্যাতনের একপর্যায়ে তরুণী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্ত বিল্লাল তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সিম কার্ড ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়। এরপর বিল্লালও তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার কথা কাউকে জানালে কিংবা মামলা করলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ওই তরুণী। পরে রাতেই তাঁকে অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে কেন্দুয়া বাজারে নেমে তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন।
কেন্দুয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা সজল সরকার জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘৭০ শতাংশ মানুষকে অপমান করার অপরাধে এ সরকারের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা সম্মানজনক হবে বলে আমরা মনে করি।’
তিনি এই বক্তব্যটি রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় তুলে ধরেন, যা জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যে আমানত রক্ষা করে না, তার ঈমান নেই, আর যে ওয়াদা রক্ষা করে না, তার দ্বীন নেই। এই হাদিসটি আমাদের প্রধানমন্ত্রীও কয়েকটি জায়গায় বলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার জুলাই সনদ মানবে বলে ওয়াদা করেছিল; অথচ মানছে না। এটা কি ওয়াদা লঙ্ঘন নয়? ৭০ শতাংশ মানুষ একটি বিষয়ে মতামত দিল, রায় দিল। এই রায় যদি মানা না হয়, তাহলে কি জনগণ অপমানিত হয় না? ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে একটি সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকবে—এটি কি আশা করা যায়?’
জামায়াতে ইসলামীর এই নায়েবে আমির বলেন, ‘এখন সরকারকে হয় ৭০ ভাগ মানুষের রায় মানতে হবে, না হয় জনগণকে অপমান করার অপরাধে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করাই তাদের জন্য সম্মানজনক হবে বলে আমরা মনে করি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বেইলি রোডের (নাটক সরণি) বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকি অবিলম্বে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শতাধিক নাট্যশিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মী।
আজ (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান। নাট্যজন সৈয়দ জামিল আহমেদ, সারা যাকের, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, ফেরদৌসী মজুমদার, শহীদুজ্জামান সেলিমসহ দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আগে মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এক শিফটে নাটক মঞ্চায়নের জন্য নাট্যদলগুলোকে ভাড়া দিতে হতো ৫ হাজার টাকা। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নাট্যদলগুলোকে একই শিফটের জন্য গুণতে হচ্ছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা। এতে নাট্যদলগুলো চরম আর্থিক চাপে পড়েছে এবং এই ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে নাটক প্রদর্শনীর আগ্রহ কমছে।
স্বাধীন বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় এই মঞ্চটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ সালে এই মহিলা সমিতির মঞ্চ থেকেই বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতির সূচনা হয়। ২০০৫ সালে ঢাকার তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কটির নাম দেন ‘নাটক সরণি’। তবে হঠাৎ হল ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় টিকিট বিক্রি করে প্রদর্শনীর আয় থেকে খরচ তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় মহিলা সমিতিতে নাটক মঞ্চায়নে বিশেষ অনুদান দেওয়া শুরু করে। সর্বশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এ খাতে ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নাট্যকর্মীরা জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসে ২০টি প্রদর্শনীর বিপরীতে প্রতি প্রদর্শনীতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা হারে মোট ১১ মাসের জন্য ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে ইতিমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে।
থিয়েটার বিষয়ক পত্রিকা ‘ক্ষ্যাপা’র নির্বাহী সম্পাদক এবং নাট্যকার অপু মেহেদীর পক্ষে পাঠানো এই বিবৃতিতে নাট্যকর্মীদের সুনির্দিষ্ট দুটি দাবি হলো- বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য চাওয়া ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার সরকারি প্রণোদনা অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে; নাট্যদলগুলোর আর্থিক চাপ কমাতে নাট্যচর্চায় সরকারি প্রণোদনার সামগ্রিক পরিমাণ বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন– সৈয়দ জামিল আহমেদ, সারা যাকের, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, কামাল হোসেন, মাসুম রেজা, মামুনুর রশীদ, মোহাম্মদ আলী হায়দার, কামালউদ্দিন কবির, রামেন্দু মজুমদার, অলোক বসু, ইউসুফ হাসান অর্ক, ফেরদৌসী মজুমদার, হারুন রশীদ (নাট্যকার), ঠান্ডু রায়হান, রতন সিদ্দিকী, আহমেদ ইকবাল হায়দার, শামীমা শওকত লাভলী, ত্রপা মজুমদার, শামীম জামান, আক্তারুজ্জামান, কামরুল হাসান, সাইফুল জার্নাল, ফজলুর রহমান বাবু, জ্যোতি সিনহা, হুমায়ুন আজম রেওয়াজ, শরীফ হাসান চৌধুরী, হামিদুর রহমান পাপ্পু, অনন্ত হিরা, জয়িতা মহলানবিশ, বাকার বকুল, ওয়াসিম আহমেদ, শুভাশিস সিনহা, সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা, শুভাশিস দত্ত তন্ময়, তোসাদ্দেক হোসাইন মান্না, কাজী রুখসানা রুমা, কাজী রাকিব, আবু আজাদ, আশিকুর রহমান লিয়ন, রূবাইয়াৎ আহমেদ, নাহিদ স্মৃতি, শামীম সাগর, আপন আহসান, মলয় ভৌমিক, অপু মেহেদী, রুমা মোদক, শাহজাদা সম্রাট চৌধুরী, মোহসিনা আক্তার, সামিউন জাহান দোলা, চারু পিন্টু, মাহফুজ সুমন, নূনা আফরোজ, শতাব্দী ওয়াদুদ, মীর জাহিদ হাসান, মামুন রেজা সৈয়দ, হাবিব জাকারিয়া উল্লাস, পাভেল রহমান, জাহিদ রিপন, ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, নাজনীন হাসান চুমকী, তৌফিকুল ইসলাম ইমন, জগন্ময় পাল, পারভীন পারু, সোহেল মন্ডল, ক্যাথরিন পিউরিফিকেশন, শহীদুল মামুন, ড. বাবুল বিশ্বাস, আনন জামান, গোলাম শাহরিয়ার সিক্ত, আজাদ আবুল কালাম, রোজী সিদ্দিকী, শাহেদ আলী, খোরশেদুল আলম, অধ্যাপক শফি আহমেদ, আরিফ হায়দার, সাইদুর রহমান লিপন, মোহাম্মদ বারী, মারুফ কবির, শহীদুজ্জামান সেলিম, খন্দকার রাকিবুল হক, এম এস রানা, সাইফ সুমন, সুবীর মহাজন, অসীম দাশ, তামান্না হক সিগমা, সামিনা লুৎফা, রেজা আরিফ, রহমান রাজু, তানভীর নাহিদ খান, শামীমা আক্তার মুক্তা, কাজী নওশাবা আহমেদ, আমিনুর রহমান মুকুল, অম্লান বিশ্বাস, মাজহারুল ইসলাম তোকদার, মুস্তাফিজ শাহীন, কুন্তল বড়ুয়া, শাহনাজ জাহান, শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, সাজ্জাদ সাব্বির, শরণ এহসান ও ফারুক আহমেদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করার সময় শ্যামলীতে ৬ জনকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২ জন ডিজিএফআই কর্মকর্তা রয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাদের জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
আবেদন থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২ জন ডিজিএফআইয়ে কর্মরত সার্জেন্ট এবং ল্যান্স করপোরাল পদমর্যাদার সদস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ