০৯:৫০ এম
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাইতিতে গ্যাংয়ের হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে।
বিবিসি জানাচ্ছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এই সময়কালে ২৩০ জনের বেশি মানুষ অপহৃত হয়েছে। তুর্ক আরও উল্লেখ করেছেন, প্রায় ১ হাজার নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে ‘অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’।
হাইতিতে বিভিন্ন গ্যাং বহু দশক ধরে বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজের হত্যার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক গ্যাং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে ফলাফল মানবেন কি ট্রাম্প?
শুক্রবার ক্যারিবীয় দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, নিহত ও আহতদের অর্ধেকের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর গ্যাংবিরোধী অভিযানের সময় হতাহত হয়েছে। এ সময় শত শত মানুষ ‘বিপথগামী গুলি ও বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোনের’ আঘাতে হতাহত হয়েছে।
মোইজের শাসনামলেও হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা ব্যাপক ছিল। তবে তাকে হত্যার পর দেশে যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়, তা কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো বেশি এলাকা দখল করে এবং নিজেদের প্রভাব বাড়ায়।
তুর্ক বলেন, গ্যাংগুলো ‘ক্রমাগত নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে এবং বিস্তৃত হচ্ছে’। জাতিসংঘের সংগ্রহ করা তথ্য থেকে দেখা গেছে, তারা ‘নতুন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ দখলের কৌশল নিয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে’।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের চালানো বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা কমেছে। তবে গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা মানুষ এখনো তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিচারকের ছেলের গাড়িচাপায় স্কুটিচালকের মৃত্যু, পুলিশপ্রধান বরখাস্ত
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আরও বলেন, গ্যাংগুলোতে শিশুদের নিয়োগের হার ‘প্রায় তিন গুণ বেড়েছে’। কারণ অনেক অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে গ্যাংয়ে যোগ দেওয়া ‘বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হতে পারে’। তুর্ক বলেন, ‘কোনো শিশুকেই নিজের জীবন আর প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।’
২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তুর্ক বলেন, ‘এ বছর একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হবে, তা কল্পনা করাও কঠিন।’
গ্যাং সহিংসতা বাড়তে থাকায় ২০২৫ সাল থেকে হাইতিতে একটি বহুজাতিক পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। সংঘাতকবলিত দেশটিতে গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের লক্ষ্য। তবে গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতেই এই বাহিনীকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধ ২৫ শতাংশ কমেছে: হোয়াইট হাউস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন