০৬:১৩ পি.এম
যৌথভাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের পর সরকারী সুত্র জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
২০২৬ সালের ৩০ জুন, মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেন।
মামলাটির একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ হচ্ছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
প্রতাপশালী তথ্যমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন হাসানুল হক ইনু। তিনি ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক নেতাও ছিলেন। সেই সুবাদে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলা ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তাদের মধ্যে বিভিন্ন কথা চালাচালি হয়েছে।
অতীতের ফোনালাপগুলি প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপিত হয়। তার মধ্যে একটি কথোপকথনে শোনা যায়, হাসানুল হক ইনু শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এই ফোনালাপটি নিম্নরূপ:
হাসানুল হক ইনু: হ্যালো, জি জি স্লামালাইকুম।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ, ওয়ালাইকুমস্লাম, কী হইছে?
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
হাসানুল হক ইনু: ইনু বলছিলাম... না এক কথা... আমি মনে করি যে আপনার পদক্ষেপটা সঠিকই হয়েছে। এখন পর্যন্ত যা রিপোর্ট বাংলাদেশে পাচ্ছি আরকি। খালি ঢাকাতে আপনার রামপুরার দিকে এবং...
শেখ হাসিনা: না রামপুরা ক্লিয়ার, শনির আখড়ায় একটু ঝামেলা এখন আছে...
হাসানুল হক ইনু: শনির আখড়ায় কিছু মোল্লারাই...
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ জানি, না, খালি মোল্লা না ওইখানে অনেক মাদরাসা।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
হাসানুল হক ইনু: মাদরাসা আছে ওই...
শেখ হাসিনা: ... ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে... মাইকিং করতে হচ্ছে আরকি... নারায়ণগঞ্জে ঢুকতে দিচ্ছে না, আর্মিকে আমরা... নামাচ্ছি।
হাসানুল হক ইনু: ও আচ্ছা...
শেখ হাসিনা: না আমি বলছি ক্যাজুয়াল্টির দরকার নাই। ওরা ব্যারিকেড দিয়ে আছে তো, ঠিকাছে, আকাশ থেকে নামবে, তখন দুই পাশ দিয়ে ধরবে... মেসেজটা দিয়ে দিতে পারেন যে... সেনা পাঠানো হচ্ছে... আর হেলিকপ্টার দিয়ে সোজা বোম্বিং করা হবে... র্যাবের হেলিকপ্টার দিয়েও ওপর দিয়ে মারবে।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
হাসানুল হক ইনু: আচ্ছা, ওপর দিয়ে সাউন্ড বোম যাবে আরকি, ঠিকাছে... আমি একটা পয়েন্ট আপনাকে একটু নজরে আনার জন্য রিকোয়েস্ট করতেছি যে, কারফিউ ধরেন দুই-পাঁচদিন যা চলল, চলল। কিন্তু কারফিউয়ের পর যেন আর মিছিল না নামতে পারে সেজন্য একট হোমওয়ার্ক করতে, করা দরকার যেরকম আমি উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, যাত্রাবাড়ীতে যারা মিছিল লিড করছে সেইগুলা চিহ্নিত আরকি... ছাত্রদল, বিএনপির ছেলে-মেয়ে, ছেলেরা, শিবিরের... মানে ধরেন রিজভীকে এরেস্ট করা বা রুহুলকে এরেস্ট করা ইম্পর্টেন্ট না, ইস্পটে হচ্ছে ওইখানে গ্রাউন্ডে যে মিছিলটা লিড করেছে, আমি কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার সেভাবে অলরেডি তালিকা করে ফেলেছে। ওখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। একটা ছররা গুলিতে খালি একজনের পায়ে লাগছে, উনি ম্যানেজ করছে। ম্যানেজ করছে। উনি অলরেডি কম্পিউটারে ছবি দেখে দেখে ছেলেগুলার তালিকা করতেছে। তা আমি বললাম যে ছেলেগুলাকে আজকে রাত্রের ভেতরে পিকআপ করে নাও।
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ শিওর।
হাসানুল হক ইনু: যেন মিছিলটা লিড না করতে পারে। তা আমি ঢাকা শহরের জন্য বলছি যে আপনার গোয়েন্দারা নিশ্চয়ই তালিকা করতে পারবে যে উত্তরায় কারা।
শেখ হাসিনা: ... খালি গোয়েন্দারটা না, লোকাল লিডারদেরও করা উচিত।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
হাসানুল হক ইনু: লোকাল লিডার ওইখানে এমপি খসরু ও হাসান হাবিব আছে। আমার কালকের যে রিপোর্ট হাসান হাবিব কিন্তু। ও রাগ করে খসরুর ওপর ছেড়ে দিছে যে এমপি সাহেব মোকাবিলা করুক.....
শেখ হাসিনা: খসরু তো পারবে না, খসরু তো লোকাল না, হাসান তো লোকাল, ওদেরতো লোকজন আছে।
হাসানুল হক ইনু: লোকাল না তো। রাইট, হাসান হাবিব নামেনি। আর এখানে ওয়াকিলও সামলাইতে পারেনি, ও দুই লাইনে পা দিয়ে চলে। তো আমার কথা হচ্ছে যে একটু লোকাল লিডারদের সাহায্যে তালিকাটা করে নিয়ে আজকের রাত্রের ভেতরে সব কাস্টডিতে নিতে পারেন তাহলে কোনো জায়গায়... আর মোহাম্মদপুরে একটা পাঁয়তারা ছিল। কালকে আপনি রাত বারোটায় গিয়ে খুব ভালো করছেন। আজ কিন্তু গণভবন ঘেরাও করতো। কিন্তু মোহাম্মদপুরে ওইখান থেকে রেডি হচ্ছিল কালকে, মানে এইটা, সুতরাং...
শেখ হাসিনা: হ্যাঁ এইটা কয়েকদিন ধরে করতেছে।
আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের
হাসানুল হক ইনু: ডিসিশনটা খুবই কারেক্ট হইছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা: থ্যাংকিউ, থ্যাংকিউ... আমরা হলাম রণক্ষেত্রের সাথী।
হাসানুল হক ইনু: রণক্ষেত্রের সাথী। তা আপনি একটু দয়া করে... এই পিকআপটা করতে বলেন...
শেখ হাসিনা: না এইটা বলা আছে, বলতেছি, বলতেছি।
হাসানুল হক ইনু: ওইটা একটু হোমওয়ার্ক করতে বলেন, করে এরেস্ট করে ফেলতে বলেন আজকে। মানে সবই এরেস্ট করে ফেললে আর মিছিল করার লোক থাকবে না।
শেখ হাসিনা: লিসেন, দাঁড়ান, দাঁড়ান। এরেস্ট করে....
হাসানুল হক ইনু: আরেকটা রিকোয়েস্ট আমার যে ইন্টারনেট আমার মনে হয় চালু করতে পারেন, এটা আমাদেরই কাজে লাগবে।
শেখ হাসিনা: ভাই কি যে চালু করবো সবতো পোড়াই দিছে। ডাটা সেন্টারও পোড়ায় দিছে। এখন ওই নতুন তারতুর কিনে জোড়া লাগাতে হবে।
হাসানুল হক ইনু: ...আমি যে কথাটা বলার চেষ্টা... আমি একাত্তরে রাত আটটার সময় যাবো একা কথা বলবো। আমি বলবো যে সরকারের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীর কোনো বিরোধ নাই। সরকারের সঙ্গে বিরোধ হচ্ছে নাশকতাকারী বিএনপি-জামায়াতের।
শেখ হাসিনা: না ওইটা তো বলা হয়েছে। ওইটা আমি নিজেও বলছি...
হাসানুল হক ইনু: ... এই জিনিসটা প্রোপাগান্ডায় আনতে হবে যদি ইন্টারনেট থাকে, গণমাধ্যম দিয়ে আমরা পুরা নিউজে ফ্লাড করে দিলাম...
শেখ হাসিনা: ইন্টারনেট পাবো কোথায়? ইন্টারনেট পোড়ায় দিছে। জীবনে... আমি তো আর আনবো না, যদি অন্য সরকার আসে তাহলে আনবে... আমি দিছি ইন্টারনেট, ওরা পোড়াইতে থাকুক, ওইটা চলতে হবে...
হাসানুল হক ইনু: অন্য সরকার, বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ অন্য সরকার আসবে না।
শেখ হাসিনা: আসুক, না আমি আর পারবো না... যাচ্ছি এখন
হাসানুল হক ইনু: না না... যাওয়া দরকার নাই
শেখ হাসিনা: জামায়াত শায়েস্তা করে রেখে যেতে হবে
হাসানুল হক ইনু: ....
শেখ হাসিনা: ... আপনার যেখানে যেখানে লোক আছে তালিকাগুলো আপনারা করান, আমরাও করাচ্ছি।
হাসানুল হক ইনু: ...আপনি এই... জামায়াত-শিবিরের মেরুদণ্ডটা আবার ভেঙে দেন ঢাকা শহরে।
শেখ হাসিনা: একেবারে...
হাসানুল হক ইনু: ...এক্সপোজ হইছে আরকি, একটু দেখেন, আর আমি বাদবাকি আমাকে যেটা বলবেন আমি ইনশাআল্লাহ করবো, কোনো অসুবিধা নাই।
শেখ হাসিনা: না ওই তালিকাগুলো একটু করায় ফালান...এই ইস্যুতে যা পারেন, শিবির যে কয়টা আছে, যা আছে সব বের করেন...
হাসানুল হক ইনু: বুঝছি আমি বুঝছি। জি স্লামুয়ালাইকুম
শেখ হাসিনা: ঠিকাছে আচ্ছা।
হাসানুল হক ইনু: জি স্লামুয়ালাইকুম
শেখ হাসিনা: থ্যাংকিউ, থ্যাংকিউ...
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন