১১:২৫ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কর্তৃক আয়োজিত ‘ফ্রম সাইবার অ্যাওয়ারনেস টু সাইবার রেজিলিয়েন্স : সিকিউরিং বাংলাদেশ’স এয়ার অ্যান্ড স্পেস পাওয়ার’ শীর্ষক সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনারটি আজ সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত বাংলাদেশ সেন্টার ফর এয়ার অ্যান্ড স্পেস পাওয়ার স্টাডিজের (বিসিএএসপিএস) ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) ও বিসিএএসপিএসের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল রুসাদ দীন আছাদ।
আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনে একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র: রাশেদ খান
প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, "সচেতনতা হলো সাইবার নিরাপত্তার ভিত্তি, আর সহনশীলতা অর্জনই এর মূল লক্ষ্য। সাইবার সক্ষমতা জাতীয় শক্তির একটি অপরিহার্য উপাদান এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এর গুরুত্ব দেশের আকাশ ও মহাকাশ সক্ষমতার মতোই তাৎপর্যপূর্ণ।" তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সেমিনারে গৃহীত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বক্তা, সঞ্চালক, প্যানেল আলোচক, আয়োজক এবং উপস্থিত সবাইকে তাদের মূল্যবান অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।
স্বাগত বক্তব্যে বিসিএএসপিএস-এর নির্বাহী পরিচালক উল্লেখ করেন, সশস্ত্র বাহিনী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং শিল্প খাতের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রতিষ্ঠাই এ কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য। স্বাগত বক্তব্যের পর বিমান বাহিনী সদর দপ্তরের সাইবার ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি পরিদপ্তরের পরিচালক বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে পালিত সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস-২০২৬-এর কার্যক্রম ও অর্জনসমূহ তুলে ধরেন।
সেমিনারে তিনজন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও পরিপূরক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। প্রথম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির অধ্যাপক ড. বি. এম. মাইনুল হোসেন ‘ফ্রম অ্যাওয়ারনেস টু রেজিলিয়েন্স : আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য সাইবার থ্রেট ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আরও পড়ুন: মিরপুর ১০ নম্বরে যান চলাচল স্বাভাবিক, পুলিশ সতর্ক অবস্থায়
দ্বিতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক গ্রামীণফোন লিমিটেডের থার্ড-পার্টি রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ইনফরমেশন সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি, স্টেকহোল্ডার ম্যানেজমেন্ট, সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড সিকিউরিটি অপারেশন্স গভর্ন্যান্স বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ‘বিল্ডিং বাংলাদেশ’স সাইবার ডিফেন্স ক্যাপাবিলিটি : টেকনোলজি, ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটি গ্যাপস’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তৃতীয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক (বর্তমানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে লিয়েনে কর্মরত) এবং বিসিএএসপিএস -এর গভর্নিং বডির সদস্য ড. শাহাব এনাম খান ‘বিয়ন্ড দ্য ফেন্স : সাইবার রেজিলিয়েন্স অ্যাজ অ্যা হোল-অব-নেশন প্রায়োরিটি ফর এয়ার অ্যান্ড স্পেস পাওয়ার’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন শেষে ‘ফ্রম ডায়ালগ টু অ্যাকশন : অ্যা ন্যাশনাল পাথওয়ে টু সাইবার রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন। আলোচনায় তিনজন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক এবং বিমান বাহিনী সদর দপ্তরের সাইবার ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি পরিদপ্তরের পরিচালক অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেমিনারে উপস্থাপিত ধারণা ও সুপারিশগুলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া।
সেমিনারে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ইউক্রেন যুদ্ধের পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন