বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিহাইর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৩৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ অভিযানের সময় ৪০৫ মিটার অবৈধ ৩/৪ ইঞ্চি এমএস পাইপ অপসারণ এবং ৯০০ মিটার অবৈধ পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক অকার্যকর করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়। অভিযানের ফলে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী আটজনকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানটির নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক।
অভিযানের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পাইপ লাইনে নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান বন্ধ থাকায় কিছু অসাধু চক্র জেলা শহরসহ সদর ও সরাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় অবৈধভাবে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিতভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে বিহাইর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক জানান, অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর কিছুদিনের মধ্যে আবারও কিছু অসাধু চক্র নতুন করে অবৈধ সংযোগ দেয়। ফলে সম্পূর্ণরূপে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে বাখরাবাদের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। অনেকেই প্রাথমিকভাবে এটিকে রিয়াদের কোনো সাময়িক হুমকির প্রতিক্রিয়া মনে করলেও গভীর বিশ্লেষণে উঠে আসছে এক ভিন্ন বাস্তবতায় তিন আঞ্চলিক পরাশক্তির স্বার্থের অভূতপূর্ব মেলবন্ধনের কথা। দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা যে একক কোনো বহিরাগত পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেই পুরোনো ধারণার দিন এখন শেষ হতে চলেছে। নতুন এই প্রতিরক্ষা অক্ষ মূলত বহিরাগত নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝুঁকি বণ্টন এবং আত্মরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর এক কৌশলগত দর্শন। এই ত্রিদেশীয় জোটের গুরুত্ব অনুধাবনে তাদের নিজ নিজ অবস্থানের বৈচিত্র্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তি এবং ইসলামি বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সৌদি আরবের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব অপরিসীম। তবে দেশটির নিরাপত্তা কেবল ভৌগোলিক সীমানা রক্ষা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালী, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট এবং বিশাল অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সুরক্ষাও এর অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ইউরোপ ও এশিয়ার মিলনস্থলে অবস্থিত ন্যাটো সদস্য তুরস্কের রয়েছে অত্যন্ত আধুনিক প্রতিরক্ষা শিল্প, বিমান ও নৌবাহিনী এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে ঈর্ষণীয় সাফল্য। আর দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক পরাশক্তি পাকিস্তানের রয়েছে সমৃদ্ধ সামরিক গবেষণা, অপারেশনের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং বিশাল সামরিক গভীরতা। এভাবে এই তিন শক্তির একত্রীকরণ প্রকৃতপক্ষে তাদের ভৌগোলিক ও কৌশলগত ঘাটতিগুলোকে পরস্পরের শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। চুক্তির মূল কাঠামোতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে যেকোনো এক দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ মানেই জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। কিন্তু এই যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে আক্রমণ করার জন্য তৈরি হয়নি। সৌদি আরব তাদের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরানের সাথে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ ভেস্তে দেওয়া রিয়াদের লক্ষ্য নয়। বরং তারা একটি স্পষ্ট বার্তা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে চায়; সৌদি আরবের ওপর হামলা চালালে তার মাশুল এখন আর শুধু তাদের একক শক্তির ওপর নির্ভর করে হিসাব করা যাবে না। ঠিক একইভাবে, আঙ্কারাও কেবল ন্যাটো বা পশ্চিমাদের ওপর নির্ভর না থেকে সিরিয়া, ভূমধ্যসাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত পররাষ্ট্রনীতি দৃঢ় করতে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের সাথে এই ভারসাম্য তৈরি করেছে। পাশাপাশি, ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কাশ্মীর সংকটে ভারসাম্য বজায় রাখতে পাকিস্তান এই কৌশলগত জোটকে নিজেদের বহুমাত্রিক সুরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না হয়ে খুব দ্রুত একটি সমন্বিত সামরিক-শিল্প অবকাঠামোতে রূপ নিতে পারে। তুরস্কের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, পাকিস্তানের উৎপাদন ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক মূলধন একত্রিত হলে বিশ্ব অস্ত্র বাজারে, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষায় এক নতুন যুগ সূচিত হবে। তাছাড়া আনাতোলিয়া থেকে শুরু করে আরব উপদ্বীপ হয়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই ত্রিভুজাকার ভৌগোলিক বলয় সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ, ড্রোন প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক পথ সুসংহত রাখতে অভূতপূর্ব ভূমিকা পালন করবে। কোনো নির্দিষ্ট পরাশক্তির ছায়াতলে না থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরা নির্ধারণ করার এই স্বাধীন প্রয়াস বিশ্ব নিরাপত্তার সমীকরণে নিশ্চিতভাবেই নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই মাসে অভিযানের মাধ্যমে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১০৪টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত ১০৪টি অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৯টি বিদেশি অস্ত্র। এসব অস্ত্র উদ্ধার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে, মানবাধিকার রক্ষা করতে ও সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব কাজ করছে। একই সঙ্গে অপরাধ চিহ্নিত করে প্রতিরোধ করা এবং অপরাধীদের আইনগতভাবে গ্রেপ্তারের জন্য, ভবিষ্যতেও র্যাব আরও দৃঢ়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য সেবা দিতে আমরা সর্বদা নিজেদের নিয়োজিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে জনগণের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদকে হঠাৎ করেই পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন সালমান শাহের মামা আলমগীর কুমকুম।
আলমগীর কুমকুম বলেন, রহস্যজনকভাবে মামলার তদন্তকর্মকর্তাকে পরিবর্তন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর আগে সিআইডি প্রধানকেও পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু একজন তদন্তকর্মকর্তা যখন একটি মামলা নিয়ে কাজ শুরু করেন, তখন তিনি মোটামুটি অনেকটা পথ অতিক্রম করার পর তাকে পরিবর্তন করে দেয়া হয়। এটা কি ধরনের আইন? আবার নতুন কেউ এসে শুরু থেকে শুরু করেন। হঠাৎ করে দেখা যায় কিছু দিন পর তিনিও পরিবর্তন হন।
এভাবে একটি মামলা বছরের পর বছর ধরে কৌশলে নিয়ে যাওয়া হয়, মামলার মেরিট নষ্ট করে দেওয়া হয়।
সালমানের মামা সরকারের কাছে দাবি করেন, কোনো মামলার তদন্তকর্মকর্তা যখন দায়িত্ব পালন করছেন, তখন যেন বদলি বা ওই কাজ থেকে অব্যাহতি না দেওয়া হয়। হাতে থাকা সমস্ত মামলা শেষ করার পর তাকে পরিবর্তন করা উচিত। তাহলে অনেকাংশে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং মামলার গতিও থাকবে।
তদন্তকর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদকে পরিবর্তনের বিষয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌরুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে পারেননি এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। দীর্ঘক্ষণ ঘাটে অপেক্ষার পর বুধবার সকাল ১১টার দিকে গুপ্তছড়া ঘাটেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গুপ্তছড়া ঘাটে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো স্পিডবোট পাওয়া যায়নি। রোগী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জরুরি ভিত্তিতে তাকে পারাপারের প্রয়োজন—এ কথা জানিয়ে অনুরোধ করা হলেও স্পিডবোটের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের। একপর্যায়ে ঘাটেই চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্পিডবোট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ঘাটের আধিপত্য ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে নৌরুটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর জেরে স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘আরকে এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘আদিল এন্টারপ্রাইজ’ কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সেবা বন্ধ করে দেয় বলে দাবি তাদের।
স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকায় শুধু রোগী নয়, সন্দ্বীপ থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী শত শত সাধারণ যাত্রীও দুর্ভোগে পড়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর স্পিডবোট সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ