১০:৩৯ পি.এম
গ্রামের এক কোণে অবস্থিত কলমীগাড়া বিল প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এর চারপাশে রয়েছে ধান খেত। বিলের মাঝের অংশ জুড়ে পদ্মফুলের সমারোহ দেখা যায়। সাদা ও গোলাপি রঙের পদ্মগুলো সবুজ পাতার মাঝে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। শেষ বিকেলে বিলে এক মোহনীয় আবেশ তৈরি হয়। এই সময়ে পদ্মবিল প্রকৃতি প্রেমীদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়ায়।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের সুঁইগ্রামে কলমীগাড়া বিল অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রামের বিলটিতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ্য হয়ে ওঠে। পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে মানুষ প্রতিদিন এ বিলের পাড়ে আসছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের শেষ প্রান্তে কলমীগাড়া বিল। একটি বাড়ির মাঝখান দিয়ে বিলের পাড়ে ধান খেতের কিনারে পৌঁছালে দেখা যায়, ডিঙি নৌকায় মাছ শিকারে ব্যস্ত স্থানীয় কৃষকেরা। চারপাশে ফুটে থাকা পদ্ম ফুলগুলো মধ্যে কিছু ফুল অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে। হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে শরীরে শিহরণ খেলে যায়। বিলের চারপাশে সবুজ ধানখেত এবং মাঝখানে সাদা-গোলাপি রঙের পদ্ম ফুল এক অন্য রকম সৌন্দর্য তৈরি করেছে। সূর্যাস্তের সময় পদ্ম ফুলের রং-রূপ মোহনী আবেশ সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: ‘বসন্তের কোকিল’ হিসেবে পরিচিত কাজী জাহিদ অভি? পূজামণ্ডপে অনুদান, ক্যানসার আক্রান্ত হাফেজকে সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন
তবে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্যের মাঝে কিছু সমস্যা রয়েছে। বিলে যাতায়াতের তেমন ব্যবস্থা নেই। প্রকৃতিগতভাবে বেড়ে ওঠা পদ্ম বিলের মাঝে মাঝে কচুরিপানা ও অন্যান্য আগাছা রয়েছে। যেগুলো পরিকল্পিতভাবে নিরসন করা গেলে সৌন্দর্য আরও উপভোগ্য হবে।
সুঁইগ্রামের বাসিন্দারা জানান, "কলমীগাড়া বিলে সাধারণত বর্ষা মৌসুমে পদ্মফুল ফোটা শুরু হয়। শরৎকালে বেশিফুল ফোটে। এখানে কেউ পদ্ম ফুলের চাষ করেনা। বছরের পর বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে এই বিলে পদ্ম ফুল ফুটে আসছে। বিলের নিচু এলাকার কিছু জমি চাষাবাদের আওতায় আসায় পদ্মবিলের পরিধি অতীতের চেয়ে এখন অনেক কমে গেছে।"
পদ্মফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানালেন, গ্রাম বাংলায় পদ্মফুল বেশ পরিচিত। খোঁজ পেয়ে দেখতে এসেছি। বিলে পদ্মফুল দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে বিলটিকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো গেলে দর্শনার্থী আরও বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন পাঁচ বছর ধরে বছরের ছয় মাস কলমীগাড়া বিলের পদ্মফুল, পদ্মচাক ও পদ্মপাতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তারা জানান, সকালে বাড়ির পাশের বিল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মফুল, পদ্মচাক ও পদ্মপাতা তোলেন। দশটি পদ্মফুলের এক আঁটি ১৫ টাকা, ছয়টি পদ্মচাক ১০ টাকায় এবং প্রতিটি পদ্মপাতা ৬ টাকায় বিক্রি করেন।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরও পাকা হয়নি সড়ক, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন