মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৫ পি.এম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল অটোমেশনের মাধ্যমে পেপারলেস ও ক্যাশলেস প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হচ্ছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
উপাচার্য উল্লেখ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ইতিমধ্যে ক্যাশলেস হয়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে নগদ অর্থের ব্যবহার এখনও রয়েছে, তবে সেটিও খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে। এর ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাশলেস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে পেপারলেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার একটি বড় লক্ষ্য রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হবে। এতে কোনো প্রিন্ট আউটের প্রয়োজন হবে না।
উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাগজ ব্যবহার ও নষ্ট হয়। ডিজিটাল ব্যবস্থায় যাওয়ার মাধ্যমে কাগজের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও হ্রাস করা সম্ভব হবে।
পরীক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল অটোমেশনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোনো পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়, তবে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত রয়েছেন, সেই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১৬ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিকে এগোচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর অক্সফোর্ড অ্যাসেসমেন্ট অথরিটির একটি প্রতিনিধিদল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে আসবে। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে গুলিবিদ্ধ পল্লিচিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকীর দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদনের ওপর এই নারাজি আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে।
শুনানি শেষে মামলাটি অধিকতর ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম এই আদেশ দেন। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন আদালতের কৌঁসুলি আব্দুল হাদি বেলাল জানান, মামলাটি তৎকালীন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান, ডিআইজি আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার শাহজাহান আলী এবং কোতোয়ালি থানার ওসি মোস্তাইম বিল্লাহসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করে দায়ের করা হয়েছে।
আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, আসামিরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তদন্তকারী সংস্থাও (পিবিআই) পুলিশ বাহিনীর সদস্য। তাই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। বিচারক সার্বিক বিচার বিবেচনায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব দেন।
একই সঙ্গে সিনিয়র আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও অনেক স্পর্শকাতর মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই এবং অনেক ক্ষেত্রে আসামি পুলিশ কর্মকর্তাদের রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গুলির ঘটনায় গুরুতর আহত রংপুর সিটি বাজার এলাকার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী নিজের করুণ পরিস্থিতি তুলে ধরে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিজের চেম্বারে আহত আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় পুলিশ শাটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার পা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালায়।
বর্তমানে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রচুর কষ্ট করে হাঁটতে হয়। সবসময় তীব্র ব্যথা থাকে। এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।’
শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেতে জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন জানিয়ে সরকারের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন এই পল্লিচিকিৎসক।
পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখানের পর সিআইডির পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা আদালতের সামনে বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাদী ও তার আইনজীবীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ফরিদপুরে সাকিব আল হাসান (১৩) নামের এক কিশোরকে হত্যা করে ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন আলম ইমন (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ওই ভ্যানটি তিনি একটি স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে বিক্রি করেন। পরে সেই ইউপি সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল হাসান মাসুদ।
গ্রেপ্তার হওয়া ইমন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর (আকন্দপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। ভ্যানটি কেনার অভিযোগে আটক মুক্তার হোসেন ধানুয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য।
ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের বাটাম ও ভ্যান বিক্রির ৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ভ্যানটি ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে ৮ হাজার টাকা খরচ করে ফেলে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তার হোসেন (৪৫) নামের আরো একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তিনি আরো জানান, গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে রতনপুর গ্রামের হারিজ উদ্দীনের ছেলে সাকিব আল হাসান বাবার ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান নিয়ে ডেমরা বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের মাজাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাজাট কবরস্থানের মাঝামাঝি বড়াল নদীর কিনারায় পানিতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি সাকিবের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা হারিজ উদ্দীন বাদী হয়ে ফরিদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওসি জানান, মামলার পর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরিফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে উপজেলার দিঘুলিয়া বাজার থেকে শাহিন আলম ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধানুয়াঘাটা বাজার এলাকার একটি ভাঙাড়ির দোকান থেকে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। ওসি আরো জানান, আসামি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ সময় ফরিদপুর থানার ওসি মনজুরুল হাসান মাসুদ ছাড়াও ওসি (তদন্ত) আল হেলাল মাহমুদ, এসআই আরিফুল ইসলাম ও এসআই নূর মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগুন লেগে সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুলের কাছে হাটহাজারী নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র অনুযায়ী, যাত্রী নিয়ে হাটহাজারী থেকে নাজিরহাটের দিকে যাচ্ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। উল্লেখিত স্থান অতিক্রম করার সময় ইঞ্জিনের ওভার হিটিংয়ের কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এ সময় চালক ও যাত্রীরা দ্রুত সিএনজি থেকে নেমে যেতে সক্ষম হন। পরে পুরো অটোরিকশাটি আগুনে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. মাহফুজ রিবেনের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার পর অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত সিএনজিচালক মো. আলমগীর বলেন, ‘আমি হাটহাজারী থেকে যাত্রী নিয়ে উল্লেখিত স্থানে আসার পর গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আমি এবং যাত্রীরা দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে রক্ষা পাই। এই সিএনজি চালিয়ে আমি আমার পরিবারের ভরণ পোষণ করতাম। এখন আমার রুজি রোজগারের গাড়িটি পুড়ে গেছে। কিভাবে জীবিকা নির্বাহ করব কিছুই মাথায় আসছে না।’
হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ