ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাপানের সমৃদ্ধ অর্থনীতির নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠছে সামরিক শক্তি


জাপানের সমৃদ্ধ অর্থনীতির নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠছে সামরিক শক্তি

জাপান, যেটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম উন্নত মিশ্র অর্থনীতির দেশ। উন্নত শিল্প উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী সেবা খাত হল এর মূল চালিকাশক্তি, কিন্তু বর্তমানে দেশটির নজর রয়েছে সামরিক সক্ষমতায়।

জাপান সরকার বর্তমানে দ্রুতগতিতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে কেবল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরছে।

দেশটির সর্বশেষ প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষাশিল্পে বিনিয়োগ ও অস্ত্র উৎপাদন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা হুমকির বার্ষিক মূল্যায়নে প্রকাশিত এ শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা জাপানকে এখন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, স্টার্টআপে বিনিয়োগ এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক প্রযুক্তির এবং উপাদানের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন: ভারতের স্টেট ব্যাংকে সাইবার হামলা, ৩৮৯৭ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উপস্থাপনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ কেবল সামরিক শক্তি বাড়ায় না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমানেরও উন্নতি ঘটায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই বার্তা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমুখী রাষ্ট্রীয় ব্যয়নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এবারের শ্বেতপত্রের প্রচ্ছদেও ঘটেছে বড় পরিবর্তন। পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর মতো সেনা, অস্ত্র বা সামরিক প্রতীক না রেখে, এতে উজ্জ্বল আধুনিক নগরীর পটভূমিতে হাস্যোজ্জ্বল একটি পরিবারের অ্যানিমে-শৈলীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎমুখী জাপানের চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন কৌশলে বাড়তে পারে ব্যয়। এখন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সরকার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এতে প্রতিরক্ষা ব্যয় আরো বাড়ানোর সুপারিশ থাকবে। প্রধান উদ্দেশ্য হবে তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষে চীনকে নিরুৎসাহিত করা এবং জাপানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: বিএনপি দিল্লির মাধ্যমে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য পদক্ষেপ জাপান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়, এবং এটি জাপানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। এর আগে, গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছিলেন, চীনের তাইওয়ান আক্রমণ যদি জাপানের অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জাপান আত্মরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বেইজিং তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।

অর্থায়নে চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাপান কর বৃদ্ধি, ব্যয় সংস্কার এবং এককালীন আয়ের সমন্বয়ে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) 2 শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তবে ভবিষ্যতে আরও প্রতিরক্ষা ব্যয় কিভাবে মেটানো হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। এই অবস্থায় নতুন ব্যয় সরকারি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত অর্থবছরের জন্য সরকার রেকর্ড ১২২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাজেট অনুমোদন করেছে। পরে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব মোকাবেলায় পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিতে অতিরিক্ত ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত মানুষকে যে পথ দেখাতে চায়, সেটা দাজ্জালের জান্নাত: রাশেদ খাঁন

এ পর্যন্ত নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ড্রোন এবং অন্যান্য মানববিহীন অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল এখনও হয়নি: সিএনএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ভুল এখনও হয়নি: সিএনএন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরান সংকট থেকে বের হওয়ার কার্যকর কোনো পথ খুঁজে না পান, তবে ইতিহাস তার ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে প্রেসিডেন্সির অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি অন্তত একটি বড় ভুল এড়িয়ে গেছেন- নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন মাত্রায় যুদ্ধকে আরও ভয়াবহভাবে বিস্তৃত করেননি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস দেখিয়েছে যে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মর্যাদা ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে সংঘাত আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ তারই উদাহরণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পও একই ধরনের এক কৌশলগত মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কারণ, ইরানের আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি এবং কার্যকর আলোচনায় না ফেরার অবস্থানের কারণে যুদ্ধের গতি এখন অনেকটাই তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন মূলত তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও সীমিত বিমান হামলা, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পারস্পরিক সামুদ্রিক অবরোধের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু নিষ্পত্তিহীন সংঘাত চালিয়ে যাওয়া।

দ্বিতীয়ত, সংঘাতকে আরও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, ইরানের অবকাঠামো ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো এবং শেষ পর্যন্ত সীমিত আকারে স্থলবাহিনী মোতায়েনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া।

তৃতীয়ত, সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত- যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য পূরণ না হলেও ক্ষতি মেনে নিয়ে যুদ্ধ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসা। প্রতিটি বিকল্পই রাজনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ফলে ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে আটকে পড়েছেন, যেখানে জয়লাভ করাও কঠিন, আবার পরাজয় মেনে নিয়েও নেওয়া সম্ভব নয়।

এমনকি পরিস্থিতির জটিলতা এতটাই বেড়েছে যে, সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, পেন্টাগন ইরানকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে চাপে রাখা যায়, সে বিষয়ে নতুন ধারণা জানতে একদল সামরিক বিশ্লেষকের কাছে প্রস্তাব চেয়েছে।

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কারণ, তেহরান তার সর্বশেষ কূটনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। সপ্তাহান্তে সম্ভাব্য ভয়াবহ হামলা স্থগিত রেখে তিনি আবারও দাবি করেছিলেন, খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ট্রাম্প লেখেন, "ইরানের নেতৃত্ব অবিশ্বাস্য রকম প্রতারণাপূর্ণ।"

পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, "একটি ভালো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার এটাই তাদের শেষ সুযোগ।" এ সময় তিনি ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘শিরশ্ছেদমূলক আঘাত’ হানারও হুমকি দেন। তবে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন- ইরান যদি আবারও তার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে, তাহলে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে তেহরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর একই ধরনের স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। এতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।

ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের নেতারা সম্প্রতি ট্রাম্পকে এমন ঝুঁকির কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প নিজেও বলেন, হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল, কিন্তু পরে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ যোগাযোগ করে পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানায়।

তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক খুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়বে। অন্যদিকে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের তেল রফতানি কেন্দ্র কিংবা প্রণালির আশপাশে স্থল অভিযান পরিচালনা করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

ইতিহাসও দেখিয়েছে, কেবল বিমান হামলার যুদ্ধ যখন স্থলযুদ্ধে রূপ নেয়, তখন রাজনৈতিক ও মানবিক মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়। সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়লে দেশের ভেতরেও যুদ্ধবিরোধী চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বহু প্রেসিডেন্ট একই ধরনের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যাপক বোমা হামলা ও অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই সন্দিহান ছিলেন। তার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ বল তখন সতর্ক করেছিলেন, যুদ্ধ বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক প্রক্রিয়ায় আটকে যাবে, যেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হবে।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনও যুদ্ধ চালিয়ে যান, although অনেক ইতিহাসবিদের মতে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, সামরিক বিজয় সম্ভব নয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ভাবমূর্তি এড়াতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়। ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানেও একই ধরনের সেনা বৃদ্ধি করেন, যদিও একই সঙ্গে সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচিও ঘোষণা করেছিলেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্তহীন ও অজেয় যুদ্ধ’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনিও আফগানিস্তানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে সেই সিদ্ধান্তের দায় তিনি নিজের প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসের ওপর চাপান এবং স্বীকার করেন, সেনা বাড়িয়েও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এখন ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পকে একই ধরনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ইরান যুদ্ধ আর আগের কোনও প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার নয়; এটি ট্রাম্পের নিজস্ব যুদ্ধ। ফলে এই সংঘাতের পরিণতিই নির্ধারণ করতে পারে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যৎও।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসকদের প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ চালুর ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


চিকিৎসকদের প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ চালুর ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : সাভারে প্রস্তুত থাকা ‘হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’ স্বাস্থ্য প্রশাসকদের ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাড়াতে দ্রুত চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একই সাথে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে (নিপসম) মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

মঙ্গলবার সকালে মহাখালীর নিপসম অডিটরিয়ামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় এবং কীভাবে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পৌঁছানো যায়, সেটির প্রতি।

তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে শুধু চিকিৎসক পদায়ন করলেই চলবে না, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ডাক্তারদের সঠিক প্রফেশনাল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সরকার অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, বাংলাদেশের সব উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ বেডের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, আমরা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সকে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যা সমাধানের ভিত্তি মনে করি। সে কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাংলাদেশে সব ৩০ বেড ও ৫০ বেডের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সগুলোকে ১০১ বেডের উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে পরিণত করব।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত নিপসম পরিচালিত গবেষণার বস্তুনিষ্ঠতার প্রশংসা করে বলেন, কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয়, মাঠপর্যায়ে প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ ডেটা সংগৃহীত হয়, তা ব্যবহার করে উপজেলা লেভেলেই স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।

নিপসমের কার্যক্রম প্রসারিত করতে পাবলিক মেডিকেল কলেজগুলোর আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে নিপসমকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিভাবান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাছাই করে ৩ থেকে ৬ মাসের মেন্টরিং দেওয়া যেতে পারে। এতে দেশে মানসম্পন্ন গবেষণা ও গবেষক তৈরির পথ সুগম হবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ), অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও নিপসমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের ৫ দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সাজিমের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


বিয়ের ৫ দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সাজিমের

 

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাজিম হোসেন (২৫) নামে এক এনজিও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। বিয়ে করার মাত্র পাঁচ দিন পর ঘটা এই দুঃখজনক ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের শরিফুল তেল পাম্পের সামনে এই দুঃখজনক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সাজিম সদর উপজেলার পদ্মকর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি ফরিদপুরে অবস্থিত একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজিম ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি থেকে ঝিনাইদহ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। এই সময় শরিফুল তেল পাম্পের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির অজ্ঞাত গাড়ি তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে আহত হন মারাত্মকভাবে।

স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। চালক ও দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনটি শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আগামীকাল ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দিনটিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের নাশকতা, অপ্রীতিকর ঘটনা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলায় নানাবিধ ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৫ আগস্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে মহানগরের সকল প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম ও চেকপোস্ট পরিচালনা জোরদার থাকবে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি সাদা পোশাকে সব গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে অপারেশনাল কাজের জন্য মোতায়েন থাকবে।

যেসব স্থানে সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি হবে, সেখানে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ-স্কোয়াড ইউনিটের মাধ্যমে বিশেষ সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া, সমস্ত অনুষ্ঠানস্থল এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকা বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় থাকবে। এজন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে সিটিএসবি ও আইএডির গোয়েন্দা কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত থাকবে। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে পর্যাপ্ত সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)।

নিয়মিত মোতায়েনের পাশাপাশি ডিএমপির অতিরিক্ত ফোর্স এবং র‌্যাব ও সিআইডি যৌথভাবে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মাঠে সক্রিয় থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সব ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে তাদের ডিউটি তদারকি করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%