প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাপান, যেটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম উন্নত মিশ্র অর্থনীতির দেশ। উন্নত শিল্প উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং শক্তিশালী সেবা খাত হল এর মূল চালিকাশক্তি, কিন্তু বর্তমানে দেশটির নজর রয়েছে সামরিক সক্ষমতায়।
জাপান সরকার বর্তমানে দ্রুতগতিতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে কেবল জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরছে।
দেশটির সর্বশেষ প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষাশিল্পে বিনিয়োগ ও অস্ত্র উৎপাদন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে। চীন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা হুমকির বার্ষিক মূল্যায়নে প্রকাশিত এ শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা জাপানকে এখন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, স্টার্টআপে বিনিয়োগ এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক প্রযুক্তির এবং উপাদানের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উপস্থাপনা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ কেবল সামরিক শক্তি বাড়ায় না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমানেরও উন্নতি ঘটায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই বার্তা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিমুখী রাষ্ট্রীয় ব্যয়নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এবারের শ্বেতপত্রের প্রচ্ছদেও ঘটেছে বড় পরিবর্তন। পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর মতো সেনা, অস্ত্র বা সামরিক প্রতীক না রেখে, এতে উজ্জ্বল আধুনিক নগরীর পটভূমিতে হাস্যোজ্জ্বল একটি পরিবারের অ্যানিমে-শৈলীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎমুখী জাপানের চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন কৌশলে বাড়তে পারে ব্যয়। এখন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সরকার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এতে প্রতিরক্ষা ব্যয় আরো বাড়ানোর সুপারিশ থাকবে। প্রধান উদ্দেশ্য হবে তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘর্ষে চীনকে নিরুৎসাহিত করা এবং জাপানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য পদক্ষেপ জাপান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়, এবং এটি জাপানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। এর আগে, গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছিলেন, চীনের তাইওয়ান আক্রমণ যদি জাপানের অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে জাপান আত্মরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বেইজিং তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।
অর্থায়নে চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাপান কর বৃদ্ধি, ব্যয় সংস্কার এবং এককালীন আয়ের সমন্বয়ে অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যয়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) 2 শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তবে ভবিষ্যতে আরও প্রতিরক্ষা ব্যয় কিভাবে মেটানো হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। এই অবস্থায় নতুন ব্যয় সরকারি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত অর্থবছরের জন্য সরকার রেকর্ড ১২২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাজেট অনুমোদন করেছে। পরে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব মোকাবেলায় পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিতে অতিরিক্ত ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ড্রোন এবং অন্যান্য মানববিহীন অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন