ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ


দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) আসন্ন নিরাপত্তা অডিটকে সামনে রেখে সরকার দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য একই নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করতে বলা হয়েছে এবং বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন রোধ করতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় এসব নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতও সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: উজিরপুরে নারী কেলেঙ্কারির পর এখন হিন্দুদের নির্যাতনের অভিযোগ, শ্রীঘরে ছাত্রদল নেতা সুজন

সভায় আফরোজা খানম বলেন, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির আগের সভার সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। খুব শিগগিরই আইসিএওর নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হবে। এই অডিটের ফলাফলের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই যেসব বিষয়ে আইসিএওর পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেগুলোতে পূর্ণ প্রস্তুতি ও মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভিআইপি, সিআইপি বা সাধারণ যাত্রী, সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য। এছাড়া প্রবাসী যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সভায় বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন রোধে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় তিন বছর পর এই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো এবং এখন সভার সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত রাখার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয় এবং আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের (ইউভিএসএস) কার্যকারিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নুরুল ইসলাম সজলকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কারণে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) উপজেলা জামায়াতের একটি বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, গত ৪ আগস্ট রাতে গাজীপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গজারিপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় নুরুল ইসলাম সজলকে আটক করেন ওই নারীর স্বামী। পরে এই ঘটনার বিষয়ে জানাজানি হলে উপজেলা এবং স্থানীয় জামায়াত নেতারা অভিযোগের সত্যতার খোঁজ নিতে যান।

চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ইদ্রিস আলী জানান, নুরুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা এবং ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য স্থানীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাকে সভাপতি পদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গাজীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মাওলানা মো. আব্দুল মতিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিরোশিমায় মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১ বছর, শান্তির বার্তা জাপানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


হিরোশিমায় মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১ বছর, শান্তির বার্তা জাপানের

হিরোশিমার ৮১তম পারমাণবিক বোমা হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট, অ্যাটমিক বোম ডোমের কাছে মোটোয়াসু নদীর তীরে মশাল জ্বালানো হয়েছে। 

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার ফলে শহরটি প্রায় সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়। তিনদিন পর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বোমা হামলা হলে সেখানে আরও প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। পরে, ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

বর্তমানে, জীবিত বোমা হামলার প্রত্যক্ষ অবশিষ্ট ব্যক্তির সংখ্যা কমে ৯১ হাজার ১০৫-এ নেমে এসেছে, যা মূল সংখ্যার চার ভাগের এক ভাড়া মাত্র। এই ব্যক্তিদের গড় বয়স এখন ৮৬ বছরেরও বেশি। স্মৃতির বোঝা বহনকারী এই প্রজন্ম দ্রুত হারিয়ে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ভয়াবহতার স্মৃতি ম্লান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

দুপুরে, বৃহস্পতিবার, জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হিরোশিমায় মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে শহরটির মেয়র যুদ্ধ চালানোর জন্য প্রধান শক্তিগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং পারমাণবিক অস্ত্র রাখার ন্যায্যতা প্রতিপাদন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

মেয়র কাজুমি মাতসুই বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্রের অমানবিকতাকে খাটো করে দেখা এবং নিজেদের সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য শক্তি প্রয়োগ প্রতিশোধের একটি চক্র তৈরি করে, যার শেষ পরিণতি হতে পারে আরেকটি হিরোশিমা বা নাগাসাকি।”

হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শান্তির ঘোষণায় মাতসুই বলেন, বহু রাজনৈতিক নেতা এখনও পারমাণবিক প্রতিরোধকে একটি বাস্তবসম্মত পথে বিবেচনা করেন এবং সহিংসতাকে বৈধতা দেন, যা “পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন বিশ্বকে আরও দূরে ঠেলে দেয়।” তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ প্রায় ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০,০০০ মানুষের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সকাল ৮:১৫ মিনিটে, যে সময়ে একটি মার্কিন বি-২৯ বিমান শহরটিতে বোমা ফেলেছিল, সেই সময়ে শান্তির ঘণ্টা বাজানোর সাথে সাথে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো এই স্মরণসভায় সানায়ে তাকাইচি যোগ দেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির কাঠামোর মধ্যে থেকে তিনি একটি বিশ্ব অর্জনের জন্য “বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণ করবেন, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র কখনো ব্যবহৃত হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসিনাকে ভারত কেন এই সুযোগ দিল, প্রশ্ন বিএনপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


হাসিনাকে ভারত কেন এই সুযোগ দিল, প্রশ্ন বিএনপির

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অনেকে।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেওয়া হলো।’

‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলে’—এই প্রশ্নও রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পাঁচই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মাঝেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, নয়াদিল্লির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি।

ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একপক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; একপক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্যপক্ষেরও সে অধিকার আছে।

দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাদের কোনো অনুশোচনা না থাকায় বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।’

‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ,’ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হলে সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

নয়া দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাদের দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’

একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানুষকে দমন-পীড়ণ চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’

এদিকে, ভারতের নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালায়, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান।

একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এছাড়া এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনটি বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। এরসাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই। এবং সেখানে যে বক্তব্য আসবে, তা ভারত সরকার সমর্থন করে না।

কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরও নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং তাতে শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্যই দেওয়া হোক না কেন, তাদের সমর্থন ছাড়া নয়া দিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

আর সেকারণে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার গ্যাস বিদ্যুৎ পানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে: নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


সরকার গ্যাস বিদ্যুৎ পানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে: নাহিদ

জ্বালানি তেল ও গ্যাস-সংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির অভিযোগে, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার পদযাত্রা করেন সচিবালয় অভিমুখে।

পুলিশি বাধার মুখে এগোতে না পেরে, তারা সচিবালয়ের সামনে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান নেন। এসময় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, "তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকে গত পাঁচ মাসে একের পর এক ওয়াদা ভেঙেছেন।"

"তারা প্রথম ওয়াদা ভঙ্গ করেছে গণভোটের গণরায় অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে। তারা জুলাই সনদ এখনো বাস্তবায়ন করে নাই।"

এছাড়া এই সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে অবস্থান কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, "সরকার পাঁচ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

গ্যাস দিতে পারছে না, বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, একটি কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে পারে নাই," বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিভাগভিত্তিক লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%