০৬:৫৮ পি.এম
স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা জাহের আলভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এই আদেশ বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রদান করেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত ২১ জুন আদালত শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
বুধবার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে জাহের আলভী তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি কাজে (অভিনয়ে) ফেরার জন্য জামিন চাই না। আমার সন্তানটা তার মাকে হারিয়েছে, তাকে এখন সাপোর্ট দেওয়া দরকার। আমি এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি, যখন শোক পালন করব নাকি মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করব জানি না। সংসারে ছোটখাটো মনোমালিন্য হয়। আমার ও ইকরার রিলেশন খুব স্মুথ (ভালো) ছিল। সুইসাইড করার মতো কিছু ঘটেনি। আমি মিডিয়ায় কাজ করি, এখানে আমার শুভাকাঙ্ক্ষী যেমন আছে, হেটার্সও আছে। তারা একটা এআই জেনারেটেড মেহেদিওয়ালা ছবি দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করেছে। সেই মেহেদিওয়ালা আসল ছবিটা আমার আইনজীবীর কাছে আছে।’
আরও পড়ুন: ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের আহ্বান
অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে নেপালে জন্মদিন উদযাপনের অভিযোগ নিয়েও বক্তব্য দেন আলভী। তিনি বলেন, ‘আমি নাকি নায়িকা নিয়ে নেপালে গেছি। অথচ আমি ৬টা নাটকের শুটিংয়ের জন্য প্রডাকশনের সাথে গিয়েছি; এটা আমার কাজ। সেখানে প্রডাকশনের সবাই ছিল, শুধু তিথি না।’
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুবায়েত রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে বলেন, ‘এ মামলায় কোনো মিডিয়া ট্রায়ালের প্রভাব যেন না থাকে। এখানে তাকে (আলভী) শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ন্যায়বিচার হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘তিনি দেশে এসে আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কোর্টে আত্মসমর্পণ করেছেন।’ এ সময় বিচারক মন্তব্য করেন, ‘তাকে হাইকোর্টই আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন।’
শুনানির এক পর্যায়ে ইকরার দেওয়া একটি হলফনামার বিষয়ও আদালতে উত্থাপন করা হয়। আসামি পক্ষের দাবি, ওই হলফনামায় ইকরা উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁর পরিবার জোরপূর্বক অন্যত্র বিয়ে দিয়েছিল। পরে আলভীর পক্ষের আরেক আইনজীবী রিমান্ডের পরিবর্তে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান। তবে আদালত তা নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ইকরাকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপমানজনক ও উসকানিমূলক বিভিন্ন পোস্ট দিতেন আলভী। এ ছাড়া বিবাহিত থাকা অবস্থায় অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করা এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও করা হয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার অনুমতি নেই: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান
মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার রাতে ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহের আলভীর পাশাপাশি তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকেও আসামি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শুরু থেকেই নিজের নির্দোষতার দাবি করে আসছেন জাহের আলভী। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
আরও পড়ুন: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসে তিন সংঘর্ষ, আহত ৯ শিক্ষার্থী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন