মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:১১ পি.এম
‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’—এ ধারণাটি ভুল। যদি রোগটি সময়মতো শনাক্ত করা হয় এবং নিয়মিত ও পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা গ্রহণ করা হয়, তাহলে যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। যশোরের মণিরামপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যক্ষ্মার লক্ষণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বসুন্ধরা শুভসংঘ একটি সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা যক্ষ্মার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করার, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার এবং চিকিৎসা সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্র্যাক হেলথ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মণিরামপুর উপজেলায় প্রতি মাসে অন্তত ৮০ জন মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে রোগটি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি বলে আয়োজকদের মতামত।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে কফ বা রক্ত বের হওয়া, জ্বর, রাতে ঘাম হওয়া, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা যক্ষ্মার উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় কাশি থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে যক্ষ্মা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ফুসফুসের যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যক্ষ্মা শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করলে রোগ জটিল হতে পারে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকাশের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জি এম মমিনুর রহমান, প্রণয় কুমার বিশ্বাস, কার্তিক চন্দ্র হালদার ও স্বপ্নীল মল্লিক রিজু।
এ সময় বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, আখতারুজ্জামান, মিলন মণ্ডল, নাজমা খাতুন, ফাতিমা খাতুন, শাহরিয়ার রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. ইয়াছিন আলী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বসুন্ধরা শুভসংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরকার, সদস্য কাইয়ুম হাসান শিমুল, দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শুভসংঘের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে যক্ষ্মার মতো রোগ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই’—এই ভ্রান্ত ধারণা সমাজ থেকে দূর করতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসায় যে যক্ষ্মা ভালো হয়, সেই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।”
সভাপতি এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় সমাজকল্যাণমূলক কাজে ভূমিকা রাখছে। যক্ষ্মার বিরুদ্ধে আমাদের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগ শুধু একটি সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ মণিরামপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যক্ষ্মা এখন আর অনিরাময়যোগ্য কোনো রোগ নয়। সচেতনতা, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং নিয়ম মেনে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। যক্ষ্মার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা করাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে।’
সভা সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যক্ষ্মা সম্পর্কে ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করা, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসটি নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে "ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি" প্রতিপাদ্যের ওপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ড. মো. আব্দুল মজিদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একরামুল হোসেন, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. পার্থ প্রতিম রায়, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক প্যানেল মেয়র এস এম ইমদাদুল হক এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আলতাফ হোসেন।
এছাড়াও আলোচনা সভায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবুল বাশার, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, একাডেমিক সুপারভাইজার মীর নূরে আলম সিদ্দিকী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওয়াহিদ মুরাদ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জি এম বুলবুল আহমেদ, পৌরসভা জামায়াতের আমীর ড. জি এম আসাদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শফিয়ার রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ইলিয়াস শাহ, সুশীলনের আয়ূব আলী এবং সিপিপির নয়ন বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার পেড়াবাড়িয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান পিয়া, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হায়দার রশিদ সোনা এবং বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দুর্যোগ মোকাবিলার পদ্ধতি বাস্তবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিবছর দেশে অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়। অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণের সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে এসব দুর্যোগ মোকাবিলা করে দেশের সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে দিবসটি পালনের পাশাপাশি উপস্থিত ব্যক্তিদের দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মন্দিরে চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া বিভিন্ন ধাতুর মূর্তি, স্বর্ণের কানের দুল, রুপার চেইনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম (৬২) নামে আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আখাউড়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১২ অক্টোবর সকাল ৭টার মধ্যে কোনো একসময় আখাউড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাধানগর এলাকার শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ একাধিক দল গঠন করে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে জারু মিয়া ওরফে আকবর হোসেনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ ঘটনায় আকাশ মালদার ওরফে হাসিবের জড়িত থাকার তথ্য দেন। পরে অভিযান চালিয়ে আকাশ মালদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জারু মিয়ার বাড়ি থেকে দুই আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ইমিটেশনের চারটি মুকুট, দুটি বাঁশি, একটি চাঁদ ও একটি রুপার চেইন উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে আখাউড়া থানার মসজিদপাড়া এলাকার একটি ভাঙারির দোকান থেকে আরও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে পিতলের একটি বড় রাধারানির মূর্তি, দুটি গৌর-নিতাই মূর্তি, একটি ছোট গোপালের মূর্তি, একটি পিতলের কাঁসি, একটি পিতলের গাছা, একটি পঞ্চপ্রদীপ, তিন জোড়া করতাল, একটি তামার বাটি, ছোট-বড় দুটি তামার কোসাকুসি, একটি পিতলের প্রদীপদানি এবং শঙ্খ রাখার একটি পিতলের স্ট্যান্ড।
পুলিশের তথ্যমতে, ওই ভাঙারির দোকানটি মামলার পলাতক আসামি তাজুল ইসলামের। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা হলেও আখাউড়ার মসজিদপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আখাউড়ার বড় বাজার এলাকার লাল মিয়ার ছেলে জারু মিয়া ওরফে আকবর হোসেন (৩০) এবং মালদারপাড়া এলাকার নজরুল মালদারের ছেলে আকাশ মালদার ওরফে হাসিব (২৮)।
এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর আখাউড়া থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আখাউড়া থানা-পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক মহড়ার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, আগাম সতর্কতা, প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই, যাতে যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
আলোচনা সভা শেষে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিতে মহড়ার আয়োজন করা হয়। মধুপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বোরহান আলী মহড়াটি পরিচালনা করেন। এ সময় দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে ব্যবহারিকভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বোরহান আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা, জনস্বার্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন, প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মোসলিমা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বিলকিস আক্তার, বিআরডিবি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনি ও একাডেমিক সুপারভাইজার মহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী,ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা র্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়ায় অংশ নেন।
দিবসটির আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ