০২:০৯ পি.এম
সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে জোরদার করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহর ও গ্রাম উভয় স্থানে নারীরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিলম্বের কারণে অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারছেন না। এর ফলে তাঁরা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্তন ক্যান্সার নারীদের শারীরিক স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সভা-সেমিনার বা টেলিভিশনে প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে কার্যকর সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য চিকিৎসকদের জনগণের কাছে সরাসরি যেতে হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং কীভাবে স্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা এবং মহৎ কাজ।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন