মোঃ শরীফ উদ্দিন :ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:১৩ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মন্দিরে চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া বিভিন্ন ধাতুর মূর্তি, স্বর্ণের কানের দুল, রুপার চেইনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাজুল ইসলাম (৬২) নামে আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আখাউড়া থানা-পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১২ অক্টোবর সকাল ৭টার মধ্যে কোনো একসময় আখাউড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাধানগর এলাকার শ্রীশ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ একাধিক দল গঠন করে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে জারু মিয়া ওরফে আকবর হোসেনকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ ঘটনায় আকাশ মালদার ওরফে হাসিবের জড়িত থাকার তথ্য দেন। পরে অভিযান চালিয়ে আকাশ মালদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জারু মিয়ার বাড়ি থেকে দুই আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ইমিটেশনের চারটি মুকুট, দুটি বাঁশি, একটি চাঁদ ও একটি রুপার চেইন উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে আখাউড়া থানার মসজিদপাড়া এলাকার একটি ভাঙারির দোকান থেকে আরও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে পিতলের একটি বড় রাধারানির মূর্তি, দুটি গৌর-নিতাই মূর্তি, একটি ছোট গোপালের মূর্তি, একটি পিতলের কাঁসি, একটি পিতলের গাছা, একটি পঞ্চপ্রদীপ, তিন জোড়া করতাল, একটি তামার বাটি, ছোট-বড় দুটি তামার কোসাকুসি, একটি পিতলের প্রদীপদানি এবং শঙ্খ রাখার একটি পিতলের স্ট্যান্ড।
পুলিশের তথ্যমতে, ওই ভাঙারির দোকানটি মামলার পলাতক আসামি তাজুল ইসলামের। তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা হলেও আখাউড়ার মসজিদপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আখাউড়ার বড় বাজার এলাকার লাল মিয়ার ছেলে জারু মিয়া ওরফে আকবর হোসেন (৩০) এবং মালদারপাড়া এলাকার নজরুল মালদারের ছেলে আকাশ মালদার ওরফে হাসিব (২৮)।
এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর আখাউড়া থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আখাউড়া থানা-পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও দুর্যোগ মোকাবিলাবিষয়ক মহড়ার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, আগাম সতর্কতা, প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই, যাতে যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
আলোচনা সভা শেষে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিতে মহড়ার আয়োজন করা হয়। মধুপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বোরহান আলী মহড়াটি পরিচালনা করেন। এ সময় দুর্যোগের সময় উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে ব্যবহারিকভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বোরহান আলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা, জনস্বার্থ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন, প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মোসলিমা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বিলকিস আক্তার, বিআরডিবি কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনি ও একাডেমিক সুপারভাইজার মহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী,ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা র্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়ায় অংশ নেন।
দিবসটির আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দিদারুল আলমের আত্মীয়স্বজন ও সহযোগীদের একটি অংশ বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার ব্যাপারী অভিযোগ করেন, তার বন্ধক নেওয়া ৩০ শতক জমি দিদারের ভাগ্নি ও বোনের জামাই পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
একই এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে কেন্দ্র করে তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে এবং তাকে মারধর করা হয়েছে। তার দাবি, এর আগে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিলেও দিদার ও তার সহযোগীরা আবার টাকা দাবি করছেন।
আমেনা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, অনেক কষ্ট করে চরের গাছ কেটে তারা বসবাসের উপযোগী করে জায়গা তৈরি করেছেন। কিন্তু দিদার ও তার সহযোগীরা চরের জমি দখল করতে তাদের ওপর অন্যায়-অবিচার করছেন। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব ঘটনার তদন্ত করে দিদারুল আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফারুক মাঝি অভিযোগ করেন, দিদারুল আলমের নেতৃত্বে নাহিদ, জাবেদ ও রিদয়সহ কয়েকজন বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। জমি দখলসহ নানা ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিক মানববন্ধন করে। উল্টো এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, ‘আমি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতির বিরুদ্ধে হওয়া একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করি। এরপর উপজেলা যুবদলের সভাপতির অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন। আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই।’
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা প্রেরক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
“ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” প্রতিপদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অভ্রজ্যোতি বড়লের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন প্রমূখ।
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি, সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; বরং পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা এবং প্রস্তুতি বাড়ানো জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে ওয়েভ ফাউন্ডেশন, অ্যাক্ট, অক্সফাম, এনএসএস, সিআইপিআরবি ও সেইন্ট-বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ