ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
(পূর্বে বদলীর আদেশ বাতিল করে কৃষি কর্মকর্তা)

কৃষকদের নামে মামলা দিয়ে বদলি হলেন কৃষি কর্মকর্তা, রয়েছে নানা অভিযোগ


কৃষকদের নামে মামলা দিয়ে বদলি হলেন কৃষি কর্মকর্তা, রয়েছে নানা অভিযোগ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভকারী কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বারকে বদলি করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস আদেশে তাকে ভূরুঙ্গামারী থেকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। তার স্থলে আদিতমারীর কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুককে ভূরুঙ্গামারীতে পদায়ন করা হয়েছে। পূর্বে তার বদলির আদেশ হলেও প্রভাব খাটিয়ে বাতিল করে নেন কৃষি কর্মকর্তা। তিনি ৩ সেপ্টেম্বর ২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২৬ মোট ৩ বছর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। রয়েছে তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ।

 
জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় সারের দাবিতে কৃষকেরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে তিনি বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
 
মামলার পর এজাহারভুক্ত কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন কৃষক বাড়িতে থাকছেন না বলেও জানা গেছে। কৃষকদের দাবি, তারা সরকারি কাজে বাধা বা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করতে যাননি; সার সংকট ও নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার প্রতিবাদেই তারা বিক্ষোভ করেছেন। তারা প্রকৃত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিতরণ এবং প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে নিরপরাধ কৃষকদের হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে বদলি করা হয়।
 
এছাড়া কৃষকরা কৃষি অফিস থেকে ঠিকমতো পরামর্শ না পাওয়ায় উপজেলার কৃষকগণ স্থানীয় বিভিন্ন দোকান থেকে দোকানদারের পরামর্শ অনুযায়ী সার, কীটনাশক ও বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন। উৎপাদিত সেই ফসল বাজার থেকে ক্রয় করে শরীর ও জীবনের ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিকের ওপর চটে যান ওই কৃষি কর্মকর্তা।
 
তিনি বীজ বিতরণে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যক্তি ও নেতাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া, ফসল ও শাক-সবজির প্রদর্শনী যথাযথভাবে না করা এবং এসব কার্যক্রমের নথি না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কীটনাশক ও সার ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র না থাকলেও সার দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। কোনো কোনো ডিলারের পয়েন্ট উপজেলা সদর থেকে ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে হলেও সার সদর এলাকার গুদামে এনে সেখান থেকে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
 
এছাড়া কৃষি কর্মকর্তার নিয়মিত অফিস না করা এবং বিভিন্ন কৃষি-সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে সুবিধা নেওয়া, কৃষি ভবনের হলরুম ভাড়া দিয়ে নিজের তহবিলে টাকা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
 
প্রায় এক বছর আগে অক্টোবর/২৫ একটি ধান রোপণ/কাটা কৃষিযন্ত্র বিতরণ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এর দায় শুধুমাত্র উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর চাপানো হয় এবং পরে তাকে বদলি করে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করা হয়। গোপন সূত্রে জানা যায়, তিনি বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়ায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভালো সখ্যতা রয়েছে। সেই সহানুভূতি থেকেই তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন।
 
কয়েক মাস আগে তার সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হলে তিনি জানান, তার বদলির একটি আদেশ হয়েছিল, পরে তা বাতিল করে নেন। সে সময় কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে এক বছরে কৃষকদের জন্য সরকারি ও কোনো প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় হয়েছে, কী কী কৃষিযন্ত্র বিতরণ, কোন কোন কৃষকদের প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এতে কতজন কৃষক উপকৃত হয়েছেন—এসব তথ্য ও নথি চাওয়া হলে তিনি দেবেন না বলে জানান সাংবাদিকদের। পরে সাংবাদিকরা তার কক্ষ থেকে নিচে নেমে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিকট কৃষি বিষয়ে কথা বলার ফাঁকে কৃষি কর্মকর্তা নিচে আসলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং একপর্যায়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিনকে ফোন করে বলেন, এখানে তথ্য চাইতে এসেছে, তাদের ধরে নিয়ে যান। পরে থানার ওসি তাকে তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সাংবাদিকদ্বয় ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন।
 
কৃষি কর্মকর্তা দীর্ঘদিন উপজেলায় দায়িত্বে থাকায়, যাকে মনে চেয়েছেন সুবিধা দিয়েছেন, আবার যাকে মনে চেয়েছেন জরিমানা করেছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা হওয়ায় সঠিকভাবে তথ্য যাচাই না করে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যেখানে একজন কর্মচারী আইডিতে বয়স জালিয়াতি করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
 
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তাই কৃষকদের নাম ভাঙিয়ে যেন সরকারি অর্থের অপব্যবহার বা লুটপাট না হয়, সরকারি বরাদ্দ ও প্রকল্পের অর্থ যেন যথাযথভাবে কৃষকদের উন্নয়নে ব্যবহার করা হয় এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এমন দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেটিজেনরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদা না পেয়ে বাস কাউন্টারে হামলা, লুটের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ এম


চাঁদা না পেয়ে বাস কাউন্টারে হামলা, লুটের অভিযোগ

রাজশাহী নগরীর সিরোইল বাস টার্মিনালে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে যমুনা বাস কাউন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কাউন্টারের স্টাফ আলাউদ্দিনের অভিযোগ, সুজন, তাঁর ভাই রিপন, রকি ও ফিরোজ কাউন্টারে এসে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ও আরও তিন স্টাফকে মারধর করা হয়। এ সময় কাউন্টারের চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর এবং কাউন্টারে থাকা আনুমানিক ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা লুট করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে দেওয়া বক্তব্যে আলাউদ্দিন অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সুজন, রিপন, রকি ও ফিরোজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কাউন্টার মালিক নিজাম ও রাজিব হায়দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে থানায় অভিযোগ করার কথা জানান। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাসুমা মুস্তারি বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি সুমন, সম্পাদক ফজলুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০০ এম


বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি সুমন, সম্পাদক ফজলুর

বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. সুমন হাওলাদার। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হিসাবরক্ষক মো. ফজলুর রহমান।

শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে।

সারা দেশের অধস্তন জেলা আদালতগুলোর ৬০৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫১৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে ভোট পড়ার হার ছিল ৮৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

সভাপতি পদে মো. সুমন হাওলাদার ৩১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রেজোয়ান খোন্দকার পেয়েছেন ২০৪ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ফজলুর রহমান ৩১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তারিক আহমেদ রিঙ্কু পেয়েছেন ১৯৩ ভোট।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. শাহীন আলম ১৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে মো. কামাল হোসেন ১৩৩, মো. আসাদ-উদ-দৌলা (মাসুম) ৭২, মো. হাফিজুল ইসলাম ৪৭, মো. আবু ছায়েদ ২০ এবং আহসানুল কবির (স্বজন) ১৯ ভোট পেয়েছেন।

ফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে সংগঠনের সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

নবনির্বাচিত নেতারা সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণ, অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা একই সঙ্গে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সারা দেশের বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের ঐক্য, সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভোটার ও সাধারণ কর্মচারীরা বেতন স্কেল যৌক্তিকীকরণ, বিশেষ ভাতা চালু এবং পদোন্নতির জটিলতা নিরসনসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির বাস্তবায়নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন কমিটি এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালের গির্জা মহল্লার ‘ঘরোয়া’ হোটেলে তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগ: অভিযুক্ত কর্মচারী পলাতক, সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৪৫ এম


বরিশালের গির্জা মহল্লার ‘ঘরোয়া’ হোটেলে তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগ:  অভিযুক্ত কর্মচারী পলাতক, সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ধোঁয়াশা

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম গির্জা মহল্লায় লেচু শাহ মাজারের বিপরীতে অবস্থিত পরিচিত খাবার হোটেল ‘ঘরোয়া’-তে এক তরুণীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হোটেলের পরোটা তৈরির কারিগর মো. কাইয়ুম খাঁনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষ। ঘটনার সময় তরুণীর মা তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।


ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে ‘ঘরোয়া’ হোটেলে খাবার খেতে যান। খাবার শেষে মা-মেয়ে ক্যাশ কাউন্টারে বিল পরিশোধ করে বের হওয়ার সময় পাশে থাকা হোটেলের পরোটা তৈরির কারিগর মো. কাইয়ুম খাঁন তরুণীর দিকে ঝুঁকে পড়ে তার বুকে হাত দিয়ে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় তরুণী ও তার মা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করলে হোটেলের অন্যান্য গ্রাহক এবং আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। এতে হোটেলের ভেতরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে।


ঘটনাটি জানার পর তালাশ বিডির পক্ষ থেকে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে হোটেল ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাওয়া হয়।

হোটেল ম্যানেজার ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানালেও সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সাংবাদিকদের দেখানো বা সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সিসিটিভি-নিয়ন্ত্রিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এমন গুরুতর অভিযোগের পরও ঘটনার সময়কার ফুটেজ সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন না করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সময়ের ফুটেজ সংরক্ষিত আছে কি না এবং থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উপস্থাপন করা হবে কি না—তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ঘটনার পর অভিযোগে অভিযুক্ত হোটেলকর্মী মো. কাইয়ুম খাঁন বর্তমানে হোটেলে নেই। হোটেল কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


অভিযোগের পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে হোটেলে পাওয়া না যাওয়া এবং ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

হোটেল ‘ঘরোয়া’-তে খাবার খেতে আসা জামসেদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, অভিযোগটি গুরুতর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো এবং অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মচারীকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে, ‘ঘরোয়া’ হোটেলের ক্যাশ কাউন্টারে আনোয়ার খানকে একাধিকবার বসে গ্রাহকদের বিল গ্রহণ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্যেও উঠে এসেছে, হোটেলটিতে তার নিয়মিত উপস্থিতি ছিল। এতে হোটেলটির সঙ্গে তার প্রকৃত ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ক্যাশ কাউন্টারে উপস্থিতি বা বিল গ্রহণের বিষয়টি একাই মালিকানা কিংবা অংশীদারত্বের আইনগত প্রমাণ নয়—সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই হলেই এ বিষয়ে স্পষ্টতা মিলতে পারে।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আনোয়ার খান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য ও প্রতিবেদকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণে আনোয়ার খানের ‘ঘরোয়া’ হোটেলে নিয়মিত উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। তবে তার মালিকানা, অংশীদারত্ব কিংবা ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই প্রয়োজন।


ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে হোটেলে পাওয়া না যাওয়া, সংশ্লিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সাংবাদিকদের না দেখানো এবং তাৎক্ষণিক আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী।

তবে এ অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রয়োজন হলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে পরীক্ষা করা এবং অভিযোগে অভিযুক্ত কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, ঘটনার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছিল—অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের ডাকা হবে।

তবে তালাশ বিডির অনুসন্ধানে হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাসের বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


ঘটনার বিষয়ে ‘ঘরোয়া’ হোটেলের মালিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম মুঠোফোনে কথা বলেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন,ঘটনাটি আমি শুনেছি। তবে ঘটনার সময় আমি হোটেলে উপস্থিত ছিলাম না। বর্তমানে কাইয়ুমকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা তার জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেয়েছি এবং ঠিকানা জানার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলব।


একজন তরুণীর সঙ্গে একটি খাবার হোটেলের অভ্যন্তরে এমন গুরুতর আচরণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্তের দাবি রাখে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগে অভিযুক্ত মো. কাইয়ুম খাঁনকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই—**সিসিটিভি ফুটেজে কী রয়েছে, অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মচারী কোথায় এবং গুরুতর অভিযোগের পর হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভোটে এবিভিপির জয়জয়কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ এম


দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভোটে এবিভিপির জয়জয়কার

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন (ডাসু) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) জয়লাভ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি পদের চারটির মধ্যে তারা তিনটিতে জয়ী হয়েছে।

এবিভিপি উগ্রহিন্দুত্ববাদী আরএসএসের মতাদর্শে বিশ্বাসী।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে এবিভিপির ইয়াস দাবাস প্রেসিডেন্ট পদ, রিয়া চাওয়াদি সেক্রেটারি এবং লক্ষ্যরাজ সিং জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে জয়ী হয়েছেন।

এবিভিপির ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি ভিরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি সংবাদমাধ্যম আউটলুককে জানিয়েছেন, "এই জয় এবিভিপির জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এটি জাতীয়তাবাদীর জয়কে প্রতিনিধিত্ব করে। এই জয় দেখিয়েছে এবিভিপি তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং আমাদের ওপর তরুণদের বিশ্বাস আছে।"

কিছু মাস আগে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিজেপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে জেন-জিরা। তারা ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে বিক্ষোভ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত করে। তবে, এর পরেও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে বিজেপি সংশ্লিষ্ট দল জয় লাভ করেছে, যা বিজেপির জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।

তবে, দিল্লির ওই আন্দোলনের প্রভাব এ নির্বাচনে ছিল। সংবাদমাধ্যম আউটলুক জানিয়েছে, বিজেপি শীর্ষ তিনটি পদে জয় পেলেও তাদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না।

এর আগে গতকাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত কলেজগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও বিজেপি ও আরএসএস সংশ্লিষ্ট এবিভিপির বেশিরভাগ প্রতিনিধি জয়ী হয়েছে।

সূত্র: আউটলুক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%