০৯:৩২ এম
চীনে গত চার বছরের মধ্যে উৎপাদন খরচ সর্বাধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির উৎপাদক মূল্যসূচক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে কারখানার উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। তবে ভোক্তাদের চাহিদা কম থাকায় খুচরা বাজারে পণ্যের দাম ধীরগতিতে বাড়ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সেপ্টেম্বরে উৎপাদক মূল্যসূচক ৫ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট মাসে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে প্রকৃত বৃদ্ধির হার সেই পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের জুনের পর থেকে কারখানা পর্যায়ে পণ্যের দাম এত দ্রুত আর বৃদ্ধি পায়নি।
পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্ন, খারাপ আবহাওয়া ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এর ফলে উৎপাদনকারীদের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা কম থাকায় এই বাড়তি খরচের পুরো প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়েনি।
আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে
সেপ্টেম্বরে চীনের ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট মাসে এই হার ছিল ০ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদেরা ১ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বাস্তবে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে কম।
মাসের হিসাবেও ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির গতি কমেছে। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনীতিবিদেরা ০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আগস্ট মাসে এই হার ছিল ০ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও ভোক্তা পর্যায়ে দাম খুব বেশি বাড়ছে না, যা চীনের অর্থনীতির দুর্বল দিককে তুলে ধরছে। পরিবারগুলোর খরচ করার প্রবণতা কমে গেছে। এছাড়া বেসরকারি খাতেও আস্থা ফিরছে না। ফলে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের চেয়ে রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৫০ জন নিহত
অর্থনীতিকে চাঙা করতে সম্প্রতি চীন সরকার আরো সহায়তা বৃদ্ধি করেছে। অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের জন্য স্থানীয় সরকারগুলোকে অতিরিক্ত ৫৫০ বিলিয়ন ইউয়ান বা ৮২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাড়ি কেনার ঋণের কিস্তিতে ভর্তুকিসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে খাদ্য ও জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রভাব বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ১ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি ঘটেছে। আগস্ট মাসেও মূল মূল্যস্ফীতির হার একই ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো সীমিত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন