০৬:৫৩ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া দেশের ১৭ কোটি মানুষের বিজয়।
আজ বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এটি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের বিজয়। কারণ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি অবস্থান অর্জন করেছে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন এই ঐতিহাসিক অর্জন।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বাবা-মায়ের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়েও বাংলাদেশ জাতিসংঘে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। তিনি সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নিয়েছেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্বের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের যোগ্যতা, দক্ষতা, সক্ষমতা এবং জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতাই এই বিজয় নিশ্চিত করেছে।
তিনি সফল তিন মাসব্যাপী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি, বিশেষ করে বিদেশে বাংলাদেশের ৮১টি মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: গাজী নজরুল ও আমির হামজার ঘটনায় জামায়াত গুম হয়ে গেছে: রাশেদ খান
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটে সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয় বিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস. কাকুরিসকে পরাজিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন খলিলুর রহমান।
প্রদত্ত ১৯০ ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট এবং কাকুরিস ৯১ ভোট পান।
খলিলুর রহমান ভবিষ্যতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন কি না—এশুধু প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর।
তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।’
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লবের চেতনা ও আজকের সংকট নিয়ে আলোচনা
তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য খলিলুর রহমানকে উল্লেখযোগ্য সময় নিউইয়র্কে থাকতে হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, যদি খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন, তাহলে তাকে নিউইয়র্কে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হবে।
এক বছর নিউইয়র্কে অবস্থান এবং একজন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী নেতৃত্বে আমরা এই বিজয় অর্জন করেছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।’
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে মুক্তির দিন
তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেই আমি সন্তুষ্ট।’
এই নির্বাচনের মাধ্যমে চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে ফিরল বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন