০৯:৩৯ এম
ভারতের পেসার মোহাম্মদ শামি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি এই ঘোষণা দেন। বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী শামি ২০১৩ সালের নভেম্বরে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন, সেই সিরিজের সময় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন।
শামির অভিষেকেই তার ভয়ঙ্কর বোলিংয়ের ক্ষমতা প্রকাশ পায়। স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করার দক্ষতা ছিল তার অন্যতম শক্তি। সেই ম্যাচে তিনি ৯ উইকেটের মধ্যে ৭টি বোল্ড বা এলবিডব্লিউ থেকে পান। সোজা সিম রাখার সহজাত দক্ষতা তার ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে ১১৮ রানে ৯ উইকেট নিয়ে শামি তার সেরা বোলিং প্রদর্শন করেন। রিভার্স সুইংয়ের কারণে এই পারফর্ম্যান্সটি আরও বিশেষ হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: নেইমারের বাবাকে নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ দিল সান্তোস
ভারতের হয়ে শামি ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন এবং ২২৯টি উইকেট নিয়েছেন। তিনি ভারতের ইতিহাসের সেরা পাঁচ পেসারের তালিকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
শামি তার টেস্ট অভিষেকের বার্ষিকীতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এই ১৩ বছরের যাত্রায়, এই ক্যাপ, এই বল আমাকে মোহাম্মদ শামি বানিয়েছে। উত্থান-পতন সবই ছিল। আমি পড়েছি, ব্যথা পেয়েছি, চোটও পেয়েছি। কিন্তু এই ব্যাজের জন্য আমি আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। তাই এই ১৩ বছরের যাত্রা খুব ভালো কেটেছে। আমার কোচ, ট্রেনার, ফিজিও এবং যারাই সামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ভক্তদের। ক্রিকেটভক্তরা এই নামটি যেভাবে গড়েছেন, এই নামটাকে যে উৎসাহ দিয়েছেন, তা সব সময় মনে থাকবে। আপনাদের সবাইকে সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ। ক্রিকেটের প্রতি যাদের এত ভালোবাসা ছিল, আর এই নামকে এতদূর পৌঁছে দিয়েছেন, সেই সব ভক্তকে। আমি এটা (টেস্ট ক্যাপ) পেয়েছিলাম ৬ নভেম্বর, আর আজও ৬ নভেম্বর। তাই এই ১৩ বছরের যাত্রা আজই শেষ করা যাক। আজই আমি অভিষিক্ত হয়েছিলাম, আর আজই অবসর নিচ্ছি।’
শামি আরও বলেন, ‘আমি এটা ছেড়ে যাচ্ছি, তবে সাদা বলের ক্রিকেট খেলে যাব। আইপিএল হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট। ফিটনেসের জন্য দরকার হলে দিনের খেলাও (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট) খেলব। কিন্তু আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে নয়। এই ছিল এত দিনের যাত্রা। আজই শুরু করেছিলাম, আজই শেষ করছি।’
আরও পড়ুন: রোহিত ও কোহলির নতুন বিশ্ব রেকর্ড নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে
এই ঘোষণার ফলে ২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালটাই শামির শেষ টেস্ট ম্যাচ হয়ে রইল। সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২০৯ রানে হেরে ভারতের শিরোপার আশা শেষ হয়।
অবসর নেওয়ার সময় শামির বোলিং গড় ২৭.৭১ এবং স্ট্রাইক রেট ৫০.২। ভারতের মাটিতে তার গড় ২২.১ এবং প্রতি ৪২.৬ বলে একটি উইকেট। দেশের মাঠে তার চেয়ে ভালো স্ট্রাইক রেট রয়েছে আর মাত্র তিনজন বোলারের।
শামির জন্ম উত্তর প্রদেশের পশ্চিম অংশের আমরোহায়। ক্রিকেট খেলার সুযোগ খুঁজতে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন। সেই সুযোগ তিনি বাংলায় গিয়ে পান। ২০১০ সালের নভেম্বরে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে তার অভিষেক হয়। তিনি এখনো বাংলার হয়ে খেলছেন এবং এ সপ্তাহের শুরুতে বাংলার সর্বশেষ ম্যাচেও তিনি দলে ছিলেন। আইপিএলে তিনি সর্বশেষ খেলেছেন লখনৌ সুপার জায়ান্টসের হয়ে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে নেপালে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন