ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্যানসার গবেষণায় বড় অগ্রগতি, নতুন চিকিৎসায় আশার আলো বাড়ছে


ক্যানসার গবেষণায় বড় অগ্রগতি, নতুন চিকিৎসায় আশার আলো বাড়ছে

সংযুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত ক্যানসার গবেষকদের বার্ষিক সম্মেলন মঙ্গলবার (২ জুন) শেষ হয়েছে। সম্মেলনে গবেষকরা ক্যানসার চিকিৎসার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ওজন কমানোর ওষুধের সম্ভাব্য উপকারিতা সম্পর্কিত প্রাথমিক হলেও আশাব্যঞ্জক তথ্যও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি (এএসসিও)’র বার্ষিক সভায় উপস্থাপিত সর্বশেষ অগ্রগতিগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো এএফপির প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।

অগ্ন্যাশয় ক্যানসার চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

উপস্থাপিত সাত হাজারেরও বেশি গবেষণার মধ্যে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার বিষয়ক একটি গবেষণা বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

সবচেয়ে প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর মধ্যে একটি অগ্ন্যাশয় ক্যানসার নিয়ে পরিচালিত এ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে কয়েক দশকের মধ্যে রোগটির বিরুদ্ধে প্রথম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন স্টার্টআপ রেভল্যুশন মেডিসিনস উদ্ভাবিত এ চিকিৎসায় ‘ডারাক্সোনরাসিব’ নামে একটি নতুন অণু ব্যবহার করা হয়েছে।

এটি রোগটির একটি আক্রমণাত্মক কিন্তু সাধারণ ধরনে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের অর্ধেকের বেশি ১৩ মাসেরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন, যা কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের তুলনায় দ্বিগুণ।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মন্টি পাল বলেন, ‘উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয় ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্তমূলক পরিবর্তন।’

গবেষণাটি অন্যান্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির সম্ভাবনাও উন্মোচন করেছে, কারণ এই অণুটি এমন একটি প্রোটিনকে লক্ষ্য করে, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি পর্যন্ত ওই প্রোটিনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো চিকিৎসা পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

ওজেম্পিক কি ক্যানসারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে?

গবেষকরা প্রাথমিক পর্যায়ের হলেও আশাব্যঞ্জক তথ্য উপস্থাপন করেছেন যে, ওজন কমানোর জনপ্রিয় ওষুধ ওজেম্পিক এবং উইগোভি ক্যানসারের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিপাকতন্ত্রের একটি হরমোন (জিএলপি-১) অনুকরণকারী এ ওষুধগুলো মূলত ডায়াবেটিস চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তবে হৃদ্রোগসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও এগুলো উপকারিতা দেখিয়েছে।

স্থূলতা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেক মার্কিন নাগরিক এই ওষুধ ব্যবহার করেন এবং এসব রোগের কারণে তাদের নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

এ প্রেক্ষাপটে গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেন, ওষুধগুলো ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মেটাস্ট্যাটিক বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া পর্যায়ে অগ্রগতি ঠেকাতে পারে কিনা।

ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত ডায়াবেটিস চিকিৎসা গ্রহণকারীদের তুলনায় জিএলপি-১ অ্যাগোনিস্ট গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ফুসফুস, স্তন, কোলোরেক্টাল ও লিভার—এ চার ধরনের ক্যানসারে রোগের অগ্রগতি ৩৮ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক অরল্যান্ড বলেন, তথ্যগুলো আশাব্যঞ্জক হলেও এলোমেলোভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এগুলোর আরও নিশ্চিত প্রমাণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল শুরু।’

আরও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

সম্মেলনে উপস্থাপিত কয়েকটি গবেষণায় ক্যানসার চিকিৎসার অপ্রয়োজনীয় অংশ কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে একটি গবেষণায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বগলের লসিকাগ্রন্থি অপসারণের অস্ত্রোপচার (অ্যাক্সিলারি লিম্ফ নোড ডিসেকশন) পুনর্মূল্যায়ন করা হয়।

নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, ক্যানসার যদি মাত্র এক বা দুটি লসিকাগ্রন্থিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ওই অস্ত্রোপচার না করলেও রোগীদের জন্য তা নিরাপদ হতে পারে।

এ ধরনের অস্ত্রোপচারের উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা

এএসসিওর সহ-সভাপতি জুলি গ্রালো বলেন, ‘আমরা সম্ভবত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি লসিকাগ্রন্থি অপসারণ করছি, যা রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণ হচ্ছে।’

প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি

গবেষকরা প্রোস্টেট ক্যানসার নিয়ে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ট্রায়ালের ফলাফলকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং এটি ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ।

নতুন গবেষণাটি জিনগত মিউটেশন বহনকারী রোগীদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ তাদের ক্ষেত্রে রোগটি সাধারণত বেশি আক্রমণাত্মক হয়।

গবেষকরা দুটি চিকিৎসা একসঙ্গে প্রয়োগ করেছেন- টিউমার বৃদ্ধিতে সহায়ক হরমোন সংকেত বন্ধ করতে ‘এনজালুটামাইড’ এবং ক্যানসার কোষের ডিএনএ মেরামত প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে ‘টালাজোপারিব’।

যেসব রোগীর মধ্যে ইজঈঅ২ জিনের মিউটেশন ছিল, তাদের ক্ষেত্রে টালাজোপারিব যুক্ত করায় টিউমারের অগ্রগতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ কমেছে।

গবেষণার সমন্বয়কারী ফরাসি-মরক্কোর অধ্যাপক করিম ফিজাজি ফলাফলকে ‘অসাধারণ’ এবং ‘একটি বড় অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রক্ত পরীক্ষা: এখনও চূড়ান্ত সমাধান নয়

কিছু গবেষণায় ‘লিকুইড বায়োপসি’ বা রক্তভিত্তিক পরীক্ষার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসার প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে।

এছাড়া যেসব ক্যানসারের জন্য প্রচলিত স্ক্রিনিং পদ্ধতি নেই, সেগুলো আগেভাগে শনাক্ত করতেও রক্ত পরীক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।

একটি গবেষণায় ‘গ্যালারি’ নামের একটি রক্ত পরীক্ষার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়, যা উপসর্গ প্রকাশের আগেই ৫০ ধরনের ক্যানসার শনাক্ত করার দাবি করে।

তবে গবেষণার ফলাফল সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি।

যুক্তরাজ্যের ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও ১২ ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে দেরিতে রোগ নির্ণয়ের হার কমানোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের দুই সদস্যকে পিটিয়ে আহত, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ এম


পুলিশের দুই সদস্যকে পিটিয়ে আহত, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার

বাস কাউন্টারে যাত্রীদের দুর্ভোগ সামলাতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন, এক ছাত্রদল নেতার মাধ্যমে। এই ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ অভিযুক্ত ওই নেতাকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে নেত্রকোনার মদন উপজেলার সরকারি কলেজ রোড মোড়ে।

গ্রেফতার হওয়া সৈয়দ মিঠু মদন পৌরসদরের ৫নং ওয়ার্ডের সৈয়দ রঞ্জু মিয়ার সন্তান। তিনি মদনের হাজী আব্দুল আজিজ খান সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মদন সরকারি কলেজ মোড় এলাকা থেকে প্রতিদিন চট্টগ্রামগামী বাস চলাচল করে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা টিকিট কাটলেও সময়মতো গাড়ি পাচ্ছিলেন না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর যাত্রীদের বাস কাউন্টারের লোকজনের সাথে বচসা শুরু হয়।

খবর পেয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। যাত্রীরা প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মিঠু সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে কিছুটা দূরে সরে যেতে বললে, তিনি পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।

সৈয়দ মিঠুর আঘাতে মদন থানার কনস্টেবল মো. ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান আহত হন। ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ মিঠুকে গ্রেফতার করে। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল বলেন, ‘শুনেছি একটি ঝামেলার কারণে মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠুকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের সাথে বাস কাউন্টারে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মিঠু নামের এক যুবক আঘাত করে দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক মিঠুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘কলেজ মোড় এলাকায় যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমি উপস্থিত থেকে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলে অধিকাংশ যাত্রীর গাড়ির ব্যবস্থা করেছি। এ সময় পুলিশের সাথে স্থানীয় এক যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সে বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের ওপর নির্যাতন ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ এম


শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের ওপর নির্যাতন ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

আইন-কানুন ও প্রতিবেশীদের প্রতি কোনো ধরনের শ্রদ্ধাবোধ নেই শেফালী বেগমের। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিবেশীরা এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন!

বরিশাল নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের সরদার বাড়ির বাসিন্দা শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতিবেশীদের ওপর নানা নির্যাতন, এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার মুখোমুখি এই একাধিক উত্পাতের কারণে পুরো এলাকাবাসী চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, শেফালী বেগম বেআইনি নির্মাণের জন্য সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তায় কোনো জায়গা না ছেড়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাউন্ডারি ওয়াল (সীমানা প্রাচীর) নির্মাণ করছেন। এর ফলে, এলাকার সাধারণ মানুষ যাতায়াতে চরম বিঘ্ন এবং দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রতিবেশীরা যখন নিয়মের বিরুদ্ধে এই দেওয়াল নির্মাণে বাধা দেন, তখন তিনি কাউকে পরোয়া না করে একের পর এক সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ থানায় জানান।

ভুক্তভোগী প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেছেন যে, শেফালী বেগম নিজের অন্যায়কে চাপা দেওয়ার জন্য আইনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। তার ধারাবাহিক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে স্থানীয় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশও বিরক্ত হয়ে উঠেছে।

এছাড়া, শেফালী বেগমের বিরুদ্ধে আরো একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। সম্প্রতি, একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তার পরিবারের অজান্তে ফুসলিয়ে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু, পথে মেয়েটি বিপদ বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করলে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ঘটনাটি টের পান। তারা অবিলম্বে মেয়েটিকে উদ্ধার করেন এবং শেফালী বেগমকে আটক করেন।

ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবার পরবর্তীতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ শেফালী বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নেয়।

তবে, স্থানীয় এবং থানা সূত্রে জানা যায়, শেফালী বেগমের স্বামী হচ্ছে ঢাকা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী (অ্যাডভোকেট)। স্বামীর এই আইন পেশার প্রভাবে তিনি এবং পুলিশের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত, ভবিষ্যতের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা এবং ‘আর কখনো এমন কাজ করবেন না’ মর্মে থানায় লিখিত মুচলেকা দিয়ে পুলিশের হেফাজত থেকে রক্ষা পান শেফালী বেগম।

এলাকার বাসীরা জানান, স্বামীর আইনি প্রভাবের অপব্যবহার করে শেফালী বেগম একাধিক অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে এই নারী সিন্ডিকেটের অত্যাচার থেকে বাঁচতে এবং চলাচলের ওই রাস্তাটি মুক্ত করার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৯ এম


দুদক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন ও নতুন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের ক্ষমতা, কাঠামো ও কার্যপরিধি ঢেলে সাজানোর জন্য একটি নতুন আইন অনুযায়ী খসড়া প্রস্তুত করেছে দুদক।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪’ অনুযায়ী নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে বাছাই কমিটি বা সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের দুজন বিচারপতি মনোনীত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সার্চ কমিটিতে থাকবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ি সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই কমিটি কমিশনের জন্য যোগ্য ছয়জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্যে থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান করা হবে।

সূত্র বলছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি গত ২৪ মে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। এদিকে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে।

ছুটির পর ১ জুন প্রথম কর্মদিবস পর্যন্ত বিচারপতিদের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়নি। দুই এক দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিচারপতি দুজনের নাম পাঠানো হতে পারে। তিন সদস্যের নতুন কমিশন গঠনের সুপারিশ তৈরি করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিগগির পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগের পর থেকে কমিশন কার্যত পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৪’-এর একটি খসড়াও প্রস্তুত করেছে দুদক।

খসড়ায় কমিশনের কাঠামো, তদন্ত ক্ষমতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, খসড়ায় দুদকের তদন্ত ক্ষমতা বাড়িয়ে ছদ্মবেশে অনুসন্ধান (আন্ডারকভার ইনকুয়ারি), সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক লেনদেন স্থগিতের মতো বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির জালিয়াতি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অপরাধকে দুদকের আওতাভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার অনুমোদন প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল নিয়োগ, আচরণবিধি এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে খসড়ায়।

সূত্র জানায়, সার্চ কমিটি গঠনের পাশাপাশি খসড়াটি পর্যালোচনার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে এটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে। সংশোধনগুলো নিচে পৃথকভাবে তুলে ধরা হলো :

ধারা ১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন) : এই আইনের নাম হবে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৪’। এটি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে কার্যকর হবে।

ধারা ২ (সংজ্ঞা) : নতুন সংশোধনীতে ‘আন্ডারকভার ইনকুয়ারি’ বা ছদ্মবেশে অনুসন্ধানের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কমিশন বা তার প্রতিনিধি পরিচয় গোপন রেখে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

ধারা ৪ (কমিশনের কার্যালয়) : কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকাতেই থাকবে, তবে কমিশন প্রয়োজনে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করতে পারবে।

ধারা ১৬ (কমিশনের সচিব) : কমিশনের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য একজন সচিব থাকবেন, যার নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।

ধারা ২৮ক : এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ আমলযোগ্য, আপস অযোগ্য এবং অজামিনযোগ্য হবে।

তফসিল : দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ৪৭৭এ ধারার অধীন অপরাধসমূহ (যদি তা সরকারি কর্মচারী বা ব্যাংক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়) এবং শেয়ার বাজার বা সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত জালিয়াতি ও কারসাজির অপরাধগুলো নতুনভাবে দুদকের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদত্যাগ করলেন সিআইডি প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ এম


পদত্যাগ করলেন সিআইডি প্রধান

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান এবং ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) আলী আকবর খান পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এ আবেদনপত্র দাখিল করেন।

ভবিষ্যতকে লক্ষ্য করে পদোন্নতি বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে আলী আকবর খান অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পদত্যাগপত্রে আলী আকবর খান মন্তব্য করেন যে, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা এবং সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু তিনি কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে ওএসডি করা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বঞ্চনার পর, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

আবেদনে আলী আকবর খানের গর্বিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কারণে তিনি পুনরায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তবে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পদোন্নতির তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অনুভব করছেন। তাই নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে তিনি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর নিতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।

আবেদন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে তার এ অবসর কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন আলী আকবর খান। একই সঙ্গে তিনি ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) মঞ্জুরের জন্যও আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

পত্রে বলা হয়, আলী আকবর খান স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং ২ জুলাই ২০২৬ থেকে এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%