০৯:৩৮ পি.এম
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের ঘটনা উপলক্ষে উত্তেজনার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবু হানিফ রানার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে তার ওপর মারধর করা হয় এবং কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে ফতেহাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের দিন ছিল সোমবার। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির হাজারের অধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
বিক্ষোভকারীরা কামরুজ্জামান মাসুদকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব না দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এক পর্যায়ে, ওই বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঢুকে সচিব আবু হানিফ রানার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তারা সচিবকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে, কিল-ঘুষি মেরে আহত করে এবং তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্রও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয় kontrol আনে এবং আহত সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
বর্তমানে দায়িত্ব পালনকারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দিন রুহুল (রুহুল আমিন) জানান, রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে কামরুজ্জামান মাসুদকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়। সেদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সোমবার দায়িত্ব হস্তান্তর হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫ জন আসামী গ্রেফতার
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কামরুজ্জামান মাসুদ আওয়ামী লীগ ত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে একটি হত্যা মামলাসহ অনেক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। অসুস্থতার কারণে ছুটিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান সালাহউদ্দিন রুহুল। পরবর্তীকালে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পুনর্বহালের অনুমতি পান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত যুব অধিকার পরিষদ কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. রাসেল হোসেন বেগ বলেন, 'জুলাই আন্দোলনের খুনি আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদ রাজনৈতিক প্রভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পান, যা কোনোভাবেই জুলাই যোদ্ধারা মানতে রাজি নন। ইউপি সচিব কেন খুনি চেয়ারম্যানের বাড়িতে গেল, সে জন্য উত্তেজিতরা তাকে মারধর করে। আমি না থাকলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতো।'
এ বিষয়ে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম জামায়াতে আমির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আগেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। হামলার সময় পুলিশ কিছুটা দূরে অবস্থান করছিল। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত সচিবকে উদ্ধার করে।'
ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণে নারীসহ ৩ জন আহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন