ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: জালে, নাকি জেলের জীবনেও?


ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: জালে, নাকি জেলের জীবনেও?

বর্তমানে মা ইলিশ রক্ষার জন্য সরকারী নিষেধাজ্ঞা চলছে ইলিশ আহরণে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়কাল জেলেদের জীবনসংগ্রাম এবং নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য সবার জবাবদিহির প্রশ্ন উত্থাপন করছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও জেলেদের ক্ষুধার জ্বালা অব্যাহত থাকে। চুলায় হাড়ি চড়াতে হয়, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়, অসুস্থ হলে ওষুধ কিনতে হয়। ঋণের বোঝাও নিষেধাজ্ঞার শেষ হওয়ার অপেক্ষা করে না। যে নদী একসময় একটি পরিবারের বেঁচে থাকার ভরসা ছিল, সেই নদীতে জাল ফেলতে না পারার দিনগুলো অনেক জেলে পরিবারের কাছে হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার কঠিন পরীক্ষা। নদীতে মাছ না উঠলে শুধু জালই খালি ফেরে না, অনেক সময় খালি থাকে ঘরের হাড়িও।

গত ২০ ও ২১ অক্টোবর বরিশাল ও ভোলার বিভিন্ন জেলেপল্লি ও মাছ অবতরণকেন্দ্রে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তাদের জীবনসংগ্রাম, অভাব-অনটন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা শুনতে গিয়ে উপলব্ধি হয়েছে, ইলিশ সংরক্ষণের আলোচনা যতটা জরুরি, ইলিশের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর জীবনকে বোঝাও ততটাই জরুরি। তাদের মধ্যে কেউ সংসার চালানোর দুশ্চিন্তার কথা বলেছেন, কেউ অভাবের দীর্ঘশ্বাস প্রকাশ করেছেন, আবার কারও চোখেমুখে ছিল আগামী দিন নিয়ে অনিশ্চয়তা।

একজন মৎস্যবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও গবেষক হিসেবে এই অভিজ্ঞতা নতুন করে ভাবিয়েছে। আমরা ইলিশ রক্ষার কথা বলি, নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরি, আইন অমান্য করলে শাস্তির দাবি জানাই। কিন্তু যে মানুষটির জীবিকার প্রধান অবলম্বন নদী, সেই নদীতে মাছ ধরতে না পারার দিনগুলোতে তার পরিবারের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কোথায়? সন্তানকে না খাইয়ে রাখা যায় না, অভাবকে বোঝানো যায় না যে নিষেধাজ্ঞা চলছে। জীবিকার আর কোনো পথ না থাকলে একজন মানুষ কোন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, সেই প্রশ্নটিও আমাদের ভাবতে হবে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে সুপারি বাগানে মাদক ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার

ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার সব ভার যেন সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোর কাঁধেই না চাপে। জাল ফেলার দায় জেলের, নদী ধ্বংসের দায় কার?

ইলিশের সংকটের কথা উঠলেই অনেক সময় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন জেলেরা—বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার সময়ে যারা মাছ ধরতে নদীতে নামেন। আইন অমান্য করে মাছ ধরা যে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ইলিশের সংকটের পেছনে থাকা বৃহত্তর পরিবেশগত ও মানবসৃষ্ট চাপগুলোকে পাশ কাটিয়ে শুধু দরিদ্র জেলেদের দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র কি সামনে আসে?

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, গভীরতা ও মাছের বিচরণক্ষেত্রের সঙ্গে ইলিশের জীবনচক্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অথচ অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদীর তলদেশের পরিবর্তন এবং নতুন নতুন চর জেগে ওঠা নিয়ে নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড কোথায়, কীভাবে এবং কার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

নদীকে নিজের স্বার্থে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা যাদের আছে, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তারা যেন জবাবদিহির বাইরে থাকতে না পারেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মোটরসাইকেল ছাড়াতে গিয়ে ভুয়া সিআইডি কর্মকর্তা আটক

অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এর ক্ষতি মানে অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের ক্ষতি।

একই প্রশ্ন ধ্বংসাত্মক জালের ব্যবহার নিয়েও। বেহুন্দি জালের মতো নির্বিচার আহরণপদ্ধতিতে ছোট মাছ, পোনা, অন্যান্য জলজ প্রাণী এবং বিভিন্ন আকারের মাছ আটকা পড়তে পারে। এতে মৎস্যসম্পদের পুনরুৎপাদন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এসব জালের ব্যবহার, সরবরাহ বা পৃষ্ঠপোষকতার পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কারও অর্থনৈতিক সামর্থ্য, পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব যেন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হয়ে না দাঁড়ায়।

নদীদূষণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শিল্পবর্জ্য ও অন্যান্য দূষণ নদীর পরিবেশ এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এসব ক্ষতির দায় কোনো একটি দরিদ্র জেলে পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। নদী ও মৎস্যসম্পদের বড় ক্ষতির পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা, ক্ষতির প্রকৃতি নিরূপণ করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আইন ভাঙা যেমন কাম্য নয়, তেমনি নদী ধ্বংস করে কিংবা মৎস্যসম্পদের ক্ষতি করে প্রভাবের জোরে পার পেয়ে যাওয়াও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তা বদলি

আইন প্রয়োগের কঠোরতা যেন কেবল দুর্বল মানুষের ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান না হয়।

ইলিশ বাঁচুক, বাঁচুক জেলের সংসারও

মাঠপর্যায়ে জেলেদের সঙ্গে আলোচনায় সরকারি সহায়তা, নিবন্ধন এবং প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্তি নিয়ে নানা অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। কেউ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা বলেছেন, কেউ জানিয়েছেন নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার কথা। এসব অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যারা সত্যিকার অর্থেই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের শনাক্ত ও নিবন্ধিত করা এবং সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে শুধু মাছ ধরা বন্ধের নির্দেশ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেই সময়ে জেলেদের পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। যে পরিবারটি কয়েক দিন আগেও নদীতে মাছ ধরে কোনোভাবে সংসার চালাত, নিষেধাজ্ঞার সময় সেই পরিবারটির চুলা জ্বলবে কীভাবে—এই প্রশ্নের বাস্তবসম্মত উত্তরও সংরক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: ধামইরহাটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতার আহ্বান

সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, প্রকৃত জেলেদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে পরিবার চালাতে গিয়ে কাউকে আইন ভাঙার ঝুঁকি নিতে না হয়। জেলেদের আইন মানার আহ্বান তখনই বেশি কার্যকর হবে, যখন তাঁদের সামনে আইন মেনে বেঁচে থাকার বাস্তব সুযোগও থাকবে।

অন্যদিকে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে, ধ্বংসাত্মক জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং নদীর ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এই প্রয়োগ হতে হবে ন্যায়সংগত ও বৈষম্যহীন। দরিদ্র জেলে থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য যে কেউ—আইন ভাঙার দায় প্রমাণিত হলে সবার ক্ষেত্রেই একই নীতি কার্যকর হওয়া উচিত।

ইলিশ রক্ষার লড়াই হোক সবার

ইলিশ কেবল একটি মাছ নয়। এটি আমাদের নদী, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং অসংখ্য মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ইলিশের প্রাচুর্যের সঙ্গে যেমন জেলেদের ঘরের চুলা জ্বলার সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি নদীর সুস্থতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের পরিবেশগত ভবিষ্যৎ। তাই ইলিশ সংরক্ষণের দায়িত্বও কোনো একক গোষ্ঠীর নয়। জেলেদের আইন মানতে হবে, সরকারকে তাদের জীবিকার নিরাপত্তা দিতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে, আর নদীদূষণ ও ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে নারীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে টাকা-স্বর্ণালংকার দাবি, ৩ গ্রেপ্তার

বরিশাল ও ভোলার মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি হচ্ছে—ইলিশ বাঁচানোর লড়াইকে শুধু নিষেধাজ্ঞা আর আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নদীর পরিবেশ রক্ষা, ধ্বংসাত্মক আহরণ বন্ধ, ন্যায্য সহায়তা এবং জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার অংশ করতে হবে।

কারণ, যে মানুষটি নদী থেকে মাছ ধরে সংসার চালান, তাকে বাঁচার পথ না দেখিয়ে শুধু নদীতে নামতে নিষেধ করলে সংরক্ষণের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে। আবার নদীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করেও মৎস্যসম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। নদী বাঁচানোর দায়িত্ব যেমন জেলের, তেমনি সেই নদীর ওপর প্রভাব বিস্তারকারী, তা থেকে মুনাফা অর্জনকারী এবং তার সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা সবার।

জেলেদের চোখের ক্লান্তি, তাদের পরিবারের অনিশ্চয়তা আর নদীর পরিবর্তিত বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সংরক্ষণ শুধু মাছ বাঁচানোর কর্মসূচি নয়; এটি মানুষের জীবন, প্রকৃতি এবং ন্যায়বিচারকে একসঙ্গে রক্ষার অঙ্গীকার।

জেলেকে বাঁচার অধিকার দিন, নদীকে বাঁচার সুযোগ দিন—তবেই ইলিশ বাঁচানোর লড়াই সত্যিকার অর্থে সফল হবে। জেলে বাঁচলে ইলিশ বাঁচবে, নদী বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন: অমিত শাহকে নিয়ে মন্তব্যের মামলায় খালাস পেলেন রাহুল গান্ধী

লেখক: বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


ঢাকায় আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে

বাংলাদেশের ভক্তরা পাকিস্তানি অভিনেতা বিলাল আব্বাস খানকে ঢাকায় দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। জনপ্রিয় এই অভিনেতা আগামী ৬ নভেম্বর চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসবেন বলে জানা গেছে। তিনি ‘পাকিস্তান লাইফস্টাইল এক্সিবিশন’ এবং ‘পাকিস্তানি ওয়েডিং অ্যান্ড ফুড ফেস্টিভ্যাল’-এ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সম্প্রতি ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ ধারাবাহিকে হানিয়া আমিরের সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন বিলাল। সিরিয়ালটি বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সেই জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি ঢাকায় আসছেন এই পাকিস্তানি তারকা।

রাজধানীর গুলশান-১-এর গুলশান শুটিং ক্লাবে ৪ থেকে ৮ নভেম্বর পাঁচ দিনব্যাপী ‘পাকিস্তান লাইফস্টাইল এক্সিবিশন’ ও ‘পাকিস্তানি ওয়েডিং অ্যান্ড ফুড ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হবে।

এই আয়োজনে পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, জীবনধারা, বিয়ের সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রদর্শিত হবে।

যদিও আয়োজনটি ৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে, তবে বিলাল আব্বাস খান ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে আয়োজনে অংশগ্রহণকারী দর্শকেরা তাদের প্রিয় অভিনেতাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন।

বিলালের বাংলাদেশ সফরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ সিরিয়ালের দর্শকদের মধ্যে তার এই সফর নিয়ে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

এখন ভক্তরা অপেক্ষা করছেন, কবে ঢাকায় এসে তাদের প্রিয় অভিনেতার সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পাবেন বিলাল আব্বাস খান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীর খেতুরী ধামে তিরোধান উৎসবে গাঁজা ও সেবনের সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


রাজশাহীর খেতুরী ধামে তিরোধান উৎসবে গাঁজা ও সেবনের সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ৯

 রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলীতে শ্রী পাট খেতুরী ধাম মহারাজ শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয়ের তিরোধান উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গাঁজা ও গাঁজা সেবনের সরঞ্জামসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে  গোদাগাড়ী মডেল থানাধীন ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়নের খেতুর গ্রামের শ্রী পাট খেতুরী ধামের মন্দিরের পাশে একটি নিমগাছের নিচ থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো: রাজশাহীর চারঘাটের ঝিকড়া গ্রামের দুলাল মন্ডল (৫২), ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এলাকার ওহিদ (৪৫), জামালপুরের মেলান্দহের চান্দারিয়া গ্রামের রুহুল আমিন (২৩), মেহেরপুরের গাংনীর রামনগর গ্রামের সাকিল আহমেদ (৩০), সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ছেরাড়ী গ্রামের আলী আকবর (৫৫), সিরাজগঞ্জ সদরের কালিয়া গ্রামের হোসেন মাহবুব (৩৯), দিনাজপুরের হাকিমপুরের মধ্যে কাশিদারপুর গ্রামের রাজু (৩৬), ঢাকার সবুজবাগের বাসাবো এলাকার মোহাম্মদ আলী পাগলা (৩৫) এবং নাটোরের গুরুদাসপুরের চরকাদহ গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৬১)।

রবিবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), সাবিনা ইয়াসমিন।

তিনি জানান, আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী শ্রী পাট খেতুরী ধামে মহারাজ শ্রীল নরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয়ের তিরোধান উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ উৎসবে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজশাহী জেলা পুলিশ পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ জুয়েল আবেদীন জানতে পারেন, উৎসবস্থলের আশপাশে কয়েকজন ব্যক্তি ছদ্মবেশে অবস্থান করছেন এবং অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। খবর পেয়ে তিনি সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রাতে ৮টার দিকে বর্ণিত স্থান থেকে গাঁজা ও গাঁজা সেবনের সরঞ্জামসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তিরোধান উৎসব চলাকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে পারেন।#

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালমনিরহাটের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণে নারীসহ ৩ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৯ পি.এম


লালমনিরহাটের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণে নারীসহ ৩ জন আহত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আক্রমণের ফলে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বনচৌকি বিওপির আওতাধীন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন নজু, আফসার ও শরিফা। তাদেরকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

১৫ বিজিবি জানায়, ভারতের অভ্যন্তর থেকে একটি বাঘ বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করে তিনজনকে আক্রমণ করে। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসন বাঘটির অবস্থান শনাক্ত ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বাঘটি তাড়াতে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

এদিকে, ঘটনাস্থলে বিজিবি অধিনায়ক ও টহল দল উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে বাঘটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম জামায়াতে আমির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪০ পি.এম


চট্টগ্রাম জামায়াতে আমির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ১৮ অক্টোবর নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে রুকন (সদস্য) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর আমিরের ভোটগ্রহণও সম্পন্ন হয়।

সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে ভোট না দিতে কৌশলে রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আমির নির্বাচন নিয়ে মহানগর নেতাদের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে স্পষ্ট বিভক্তির চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমানে শাহজাহান চৌধুরী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জামায়াতের নেতারা জানান, ১৮ অক্টোবর জিইসি কনভেনশন হলে রুকন সম্মেলন ও আমির নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমির নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেন্দ্রে দায়িত্বরত কোনো জনশক্তিকে আমির পদে ভোট দেওয়া যাবে না।’

এছাড়াও রুকন সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, মহানগর আমির নজরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন।

জামায়াতের একাধিক রুকন যুগান্তরকে জানান, কেন্দ্রের জনশক্তি বলতে মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে বোঝানো হয়েছে। কারণ চট্টগ্রাম মহানগরীতে শাহজাহান চৌধুরীর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। তার গ্রহণযোগ্যতাও অন্যদের চেয়ে আলাদা। শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগরীর জামায়াতের আমির থাকা অবস্থায় দলটি গতিশীল ছিল। তাকে আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সেই গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে গেছে। সেই রমরমা অবস্থা আর নেই।

শাহজাহান চৌধুরী নগর জামায়াতের আমির থাকাকালীন দেওয়ানবাজারের মহানগর অফিসে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সবসময় জমজমাট থাকত। সরব থাকত। সেই সরব উপস্থিতি এখন নেই।

আলমগীর হোসেন নামে এক দায়িত্বশীল যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীতে জামায়াতে ইসলামীতে স্থানীয় পর্যায়ে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। একপক্ষে রয়েছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এসএম লুৎফুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মোহাম্মদ ইউনুস। তাদের বলয়ের বাইরে গেলেই ভিন্ন চোখে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জামায়াতের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি শাখার আমির নির্বাচনের ভোটার হচ্ছেন তারা, যারা রুকন। সংশ্লিষ্ট শাখায় কোনো রুকন যদি সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকার বাইরে কাউকে ভোট দেন, কেন্দ্রের বা অন্য কোনো শাখার কাউকে ভোট দেন, তবে সঙ্গতকারণে ওই ভোটটি বাতিল হয়ে যাবে। তাই আমার ইনস্ট্রাকশনে (নির্দেশনায়) ছিল ভোটার তালিকার বাইরে আমাকেও কোনো ভোট দেবেন না। অন্য কাউকেও ভোট দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমির নির্বাচনের স্বাধীনতা রুকনদের ওপর। আরেকটা কথা যেটা বলা হচ্ছে— যে তিনি (শাহজাহান চৌধুরী) দীর্ঘ সময় আমির ছিলেন, তার কারণে নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। রুকনদের অধিকার আছে ওই আমিরকে বাদ দিয়ে সেখানে আরও পোটেনশিয়াল নেতৃত্ব থাকলে তাকে ভোট দেওয়ার।’

২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির হিসেবে শপথ নেন। গত বছরের ১৪ জুন ‘জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে’ শাহজাহান চৌধুরীকে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয় নজরুল ইসলামকে। একই বছরের ৫ নভেম্বর সদস্যদের (রুকন) প্রত্যক্ষ ভোটে ২০২৫-২৬ সালের জন্য আমির নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম। ওই দিন নগর জামায়াতের অফিসে (বিআইএ মিলনায়তনে) তাকে আমির হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান কেন্দ্রীয় জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে জামায়াতের ৩ হাজার রুকন রয়েছেন। ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে এদের অধিকাংশই উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আমির নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। শাহজাহান চৌধুরীর নাম আমিরের প্যানেল বা প্রার্থী তালিকায় না থাকায় অনেক রুকন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। ২০২৪-২৫ সেশনে রুকনদের ১ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে আমির নির্বাচিত হয়েছিলেন শাহজাহান চৌধুরী।

সর্বশেষ গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে আমির নির্বাচনের ভোটের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ডিসেম্বরে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রভাব বিস্তার এবং প্যানেলে নাম না রাখায় এবারও (২০২৬-২৭) মেয়াদের জন্য বর্তমান আমির নজরুল ইসলাম পুনরায় আমির নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে ‘বিতর্কিত’ হয়ে পড়েছিলেন শাহজাহান চৌধুরী। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে জামায়াত থেকে নির্বাচন করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এমপি হলেও নগর জামায়াতের আমিরের পদ থেকে তাকে বাইরে রাখা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%