০৫:৩৯ পি.এম
দক্ষিণ চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যার কারণ সম্পর্কে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, "বিষয়টি নিয়ে সমন্বিতভাবে তদন্ত চলছে। কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা বন্যার কারণ হতে পারে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতও এ বন্যার অন্যতম কারণ।" বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ডলু খালের ভাঙ্গন পরিদর্শন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ সমাপ্তির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই সব বিষয় উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, "বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৭ লাখ।" তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।" ইতোমধ্যে সরকারি পক্ষ থেকে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, "প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
তিনি আরও বলেন, "এখন শুধু ত্রাণ নয়, পুনর্বাসন কার্যক্রমও একসঙ্গে চলছে।" যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত চাষাবাদে ফিরতে পারেন।" তিনি জানান, "বন্যায় অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।" স্থানীয় সরকার বিভাগকে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "মূল্যায়ন শেষে দ্রুত মেরামত কাজ শুরু হবে।"
বিশেষ বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।" সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। মন্ত্রী জানান, "বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।"
এসময় তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি আলহাজ¦ শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি এনামুল হক এনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, জেলা প্রশাসকMohammad Zahirul Islam Mia, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীনসহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন।
এ মুহূর্তে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এবং সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নে বন্যাপীড়িত এলাকায় পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন। বিকেলে অর্থমন্ত্রী বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন